অটিজম সম্পর্কে ১২ তথ্য

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২৮ ৯:০০:২৩ এএম
এস এম গল্প ইকবাল | রাইজিংবিডি.কম

প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : অটিজম হচ্ছে একটি নিউরোলজিক্যাল ও ডেভেপমেন্টাল ডিসঅর্ডার বা স্নায়বিক বিকাশ জনিত সমস্যা। অটিজমে আক্রান্ত লোকদের সামাজিক মিথষ্ক্রিয়া ও পারস্পরিক যোগাযোগ স্থাপনে সমস্যা হয়। শৈশব থেকে অটিজমের লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে। অটিজমের একটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হচ্ছে, পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ। এ প্রতিবেদনে অটিজম সম্পর্কে ১২টি তথ্য উল্লেখ করা হলো।

* অটিজমে আক্রান্তরা স্নেহপরায়ণ হতে পারে

যেসব লোক অটিজম আছে এমন কারো সঙ্গে পরিচিত নয় তারা ধারণা করতে পারে যে অটিজমে আক্রান্ত লোকেরা স্নেহপরায়ণ নয়। এ ভুল ধারণা প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে। অটিজমে আক্রান্ত অনেক লোক অন্যকে স্পর্শ বা আলিঙ্গন করে না অথবা অন্যের চোখের দিকে তাকায় না, যার ফলে এরকম ভুল ধারণার উদ্ভব হয়েছে। বিহেভিয়ার অ্যান্ড অটিজম কনসালট্যান্ট এবং আসক মেলিসা নাউ ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা মেলিসা রেইনার বলেন, ‘অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার আছে এমন অনেক লোকের সঙ্গে আমি কাজ করেছি যারা ছিল খুব স্নেহপরায়ণ।’

* অটিজমে আক্রান্তদের বিভিন্ন মাত্রার বুদ্ধিমত্তা থাকে

অটিজম নেই এমন লোকদের বিভিন্ন মাত্রার বুদ্ধিমত্তা থাকে, অটিজমে আক্রান্ত লোকদের ক্ষেত্রেও তাই। রেইনার উল্লেখ করেন যে, অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে ভোগা লোকদের আইকিউ রেঞ্জ খুব নিম্ন থেকে জিনিয়াস লেভেল পর্যন্ত হতে পারে। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় আবিষ্কার হয় যে, অটিজমে আক্রান্ত লোকদের উচ্চ আইকিউ এর জন্য দায়ী হলো ৪০টি নতুন হিউম্যান-ইন্টেলিজেন্স জিন। এসব জিন থাকা লোকদের অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার থাকে।

* অটিজমে আক্রান্তরা স্কুলে সফল হতে পারে

অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার থাকা লোকদের বিভিন্ন মাত্রার বুদ্ধিমাত্রার কারণে তাদের অ্যাকাডেমিক সাফল্যও বিভিন্ন মাত্রার হতে পারে। ফ্লোরিডার লিসবার্গে অবস্থিত বীকন কলেজের হিউম্যান সার্ভিস বিভাগের মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শক লিন্ডা এস. লুকাস বলেন, ‘অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের ক্লাসরুমে দক্ষতার প্রমাণ দেওয়া আনকমন কিছু নয়, যদি তারা স্পষ্ট নির্দেশনা, সঠিক যোগাযোগের ধারণা এবং কাঠামোবদ্ধ পরিবেশ থেকে সাপোর্ট পেয়ে থাকে।’ বীকন কলেজের অটিজমে আক্রান্ত ছাত্রদের গ্র্যাজুয়েশনের হার ৭০ শতাংশ এবং কর্মে নিয়োগের হার ৮৩ শতাংশ।

* অটিজমে আক্রান্তরা ক্যারিয়ার সফল হতে পারে

অটিজমে আক্রান্ত লোকদের সম্পর্কে একটি কমন ভুল ধারণা হচ্ছে, তারা অগ্রগতির ক্ষেত্রে সবসময় সহকর্মীদের থেকে পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু তারা কোনো একটা দক্ষতায় পিছিয়ে থাকলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে খুব অগ্রসর হতে পারে এবং তাদের সর্বোত্তম দক্ষতা প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের পক্ষে সফল ক্যারিয়ার গড়ে তোলা সম্ভব।

* অটিজমে আক্রান্তরা জানে কি হচ্ছে

অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত লোকদের তাদের নিজস্ব ভুবনে মগ্ন থাকার মানে এই নয় যে তারা অন্যকিছুতে মনোযোগ দিচ্ছে না। রেইনার বলেন যে তিনি অটিজম আছে এমন শিশুদের নিয়ে কাজ করেন যারা রুম থেকে কে চলে গেছে সেটা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বলে দিতে পারত, যদিও মনে হয় যে তারা রুম থেকে চলে যাওয়া ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য রাখেনি। অটিজমে আক্রান্ত লোকদের পর্যবেক্ষণের ধরন অন্যদের মতো নাও হতে পারে, কিন্তু তারা এমনভাবে পর্যবেক্ষণ করে যে কি হচ্ছে তা জানতে পারে।

* অটিজমে আক্রান্ত লোকেরা সামাজিক হতে চায়

অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত লোকদের অন্যদের মতো আকাঙ্ক্ষা থাকে যে তাদেরও অন্যদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক থাকুক। কিন্তু প্রায়ক্ষেত্রে সামাজিক ঘাটতির কারণে তাদের পক্ষে সামাজিক হওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। লুকাসের মতে, অটিজমে আক্রান্ত লোকেরা সামাজিক জটিলতা ও রীতিনীতির সঙ্গে নিজেদেরকে খাপ খাওয়াতে পারে না এবং তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ সমস্যা থাকে, এসব কারণে তাদের পক্ষে অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে।

* অটিজমে আক্রান্তরা কম আত্মবিশ্বাস নিয়ে সংগ্রাম করতে পারে

অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত শিশুদের কম আত্মবিশ্বাসও সম্পর্ক তৈরি ও বজায় রাখতে না পারার একটি ফ্যাক্টর হতে পারে। প্রায়ক্ষেত্রে অটিস্টিক শিশুদের অস্বাভাবিক ও অমিশুক বলে অভিযুক্ত করা হয়, তাই তারা সামাজিক পরিস্থিতি এড়িয়ে চলে। তাদেরকে কেউ বুঝতে চায় না বলে তারা মর্মাহত হয় এবং তাদের আত্মবিশ্বাস কমতে থাকে। আমরা অন্য শিশুদেরকে অটিস্টিক শিশুদের ভালোভাবে বোঝার ব্যাপারে সাহায্য করে তাদেরকে সহায়তা করতে পারি।

* অটিস্টিক শিশু মা-বাবার দোষের ফল নয়

অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত শিশুর মা-বাবাকে কখনো কখনো তাদের শিশু অটিস্টিক হওয়ার কারণে দোষারোপ করা হয়। লুকাস একে ‘অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব’ বলেছেন। তিনি বলেন, ‘মা-বাবা গর্ভাশয়ে ডেভেলপমেন্টাল প্রসেসের সময় মিউটেটেড অথবা ত্রুটিপূর্ণ জিনের প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।’ তাই কোনো অটিস্টিক শিশুর পিতামাতাকে দোষারোপ করা বা পাপী বলা উচিত নয়।

* সেরা পিতামাতারাও ব্যর্থতা অনুভব করতে পারেন

রেইনার বলেন, ‘আপনি পৃথিবীর সর্বোত্তম পিতামাতা হলেও আপনার অটিজমে আক্রান্ত শিশুর প্যারেন্টিং করার সময় আপনি ব্যর্থতা অনুভব করতে পারেন।’ অটিজমে স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে ভোগা শিশুর প্যারেন্টিংয়ের জন্য প্রচুর কাজ করতে হয়। তাদের শিক্ষা দেওয়া ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য পিতামাতাকে সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। যেকোনো পিতামাতার জন্য অটিজমে আক্রান্ত সন্তানের প্যারেন্টিং করা সহজ কাজ নয়, এমনকি তাদের চমৎকার সাপোর্ট সিস্টেম থাকলেও। কখনো কখনো তারা ব্যর্থতা অনুভব করতে পারেন। চিকিৎসক, থেরাপিস্ট, সেবাপ্রদানকারী, শিক্ষক ও অন্যদের অটিস্টিক শিশুর পিতামাতাকে উৎসাহ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে তাদের অটিস্টিক সন্তানের প্যারেন্টিং করেন।

* নির্দিষ্ট লেভেল অপকারী হতে পারে

অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তির সামর্থ্যের মাত্রাকে সংজ্ঞায়িত করার জন্য হাই-ফাংশনিং এবং লো-ফাংশনিং শব্দ দুটি ব্যবহৃত হয়। প্রকৃতপক্ষে এরকম লেভেল তাদের জন্য অপকার বয়ে আনতে পারে, কারণ কার কোন বিষয়ে দক্ষতা ও ঘাটতি আছে তা নির্ভুলভাবে চিত্রায়িত করা কঠিন। প্রত্যেক অটিস্টিক ব্যক্তিকে তাদের লেভেলের ওপর ফোকাস না করে তাদের নির্দিষ্ট প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে ট্রিট করা গুরুত্বপূর্ণ।

* অনেক থেরাপি আশাপ্রদ মনে হচ্ছে

বর্তমানে অটিজমে আক্রান্ত লোকদের প্রয়োজন ও লক্ষ্যপূরণের জন্য অনেক থেরাপি রয়েছে। কিভাবে যোগাযোগ করা যায়, কিভাবে সামাজিকীকরণ শেখা যায় এবং কিভাবে আচরণ মডিফাই করা যায় তা শেখাতে অকিউপেশনাল থেরাপি, স্পিচ থেরাপি এবং বিভিন্ন ধরনের বিহেভিয়ার‍্যাল থেরাপির প্রচলন আছে। বিশেষজ্ঞরা অটিস্টিক লোকদের সাহায্য করতে নতুন থেরাপি ডেভেলপ করার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। একটি বিশেষ থেরাপির নাম হচ্ছে, রিলেশনশিপ ডেভেলপমেন্টাল ইন্টারভেনশন এবং এ থেরাপি অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত লোকদের অন্যদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ উপায়ে সম্পর্ক স্থাপনে দক্ষ বা পারদর্শী করে তোলার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

* একটি নতুন ওষুধ সামাজিক সম্পর্ক উন্নত করতে পারে

অটিজম নিরাময় করা যায় এমন কোনো ওষুধ নেই, কিন্তু কিছু ওষুধ অটিজমের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত উপসর্গ উপশম করতে পারে। গবেষকরা এখনো এমন থেরাপি ও ওষুধের সন্ধান করছেন যা অটিজমে আক্রান্ত লোককে তাদের বন্ধু বা সহকর্মীদের কাছে আরো ঘনিষ্ঠ হতে সাহায্য করবে। ব্যালোভ্যাপ্টানোন একটি আশাপ্রদ ওষুধ যা সম্প্রতি আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। এ ওষুধটি মস্তিষ্কের যথাযথ রিসেপ্টরকে টার্গেট করে অটিস্টিক শিশুদেরকে সামাজিক সম্পর্ক স্থাপন ও উন্নয়নে সাহায্য করতে পারে।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
 

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৮ এপ্রিল ২০১৮/ফিরোজ

   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

টিভিতে আজকের খেলা

টিভিতে আজকের খেলা

২০১৮-০৫-২৭ ৮:৪৭:০২ এএম
রোলাঁ গারোঁয় নাদালকে থামাবে কে?

রোলাঁ গারোঁয় নাদালকে থামাবে কে?

২০১৮-০৫-২৭ ৭:৫২:৪০ এএম
জানভিকে সোনমের পরামর্শ

জানভিকে সোনমের পরামর্শ

২০১৮-০৫-২৭ ৭:৪৩:২৯ এএম