আপনার যে ১৩ অনুমান ভুল হতে পারে (প্রথম পর্ব)

প্রকাশ: ২০১৯-০২-২৮ ৯:৩৮:২৯ পিএম
এস এম গল্প ইকবাল | রাইজিংবিডি.কম

প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : নিজে নিজে স্বাস্থ্য সমস্যা ডায়াগনোসিস বা রোগ নির্ণয় ভুল হতে পারে এবং এমনকি চিকিৎসকদের দ্বারাও রোগ নির্ণয়ে ভুল হওয়া নতুন কিছু নয়।  একারণে রোগ শনাক্তকরণের জন্য সবচেয়ে নির্ভুল পদ্ধতি বিবেচনা করা উচিৎ।

ভুল রোগ নির্ণয় মানে ভুল চিকিৎসা আর ভুল চিকিৎসা সৃষ্টি করতে পারে নানা শারীরিক জটিলতা, এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে। নিজে নিজে ডায়াগনোসিসে ভুল হতে পারে এমন ১৩টি রোগ বা কন্ডিশন নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

* ফুড অ্যালার্জি
জেএএমএ নেটওয়ার্ক ওপেনে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে, প্রতি পাঁচজন লোকের মধ্যে একজনে মনে করে যে ফুড অ্যালার্জি রয়েছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় এজজনের ফুড অ্যালার্জি থাকে। এর পরিবর্তে আপনার উপসর্গ- প্রায়ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল বা পাকস্থলি-অন্ত্র সম্পর্কিত উপসর্গ- হতে পারে ফুড ইনটলার‍্যান্সের ফল। ফুড অ্যালার্জি ও ফুড ইনটলার‍্যান্স একইরকম মনে হলেও উভয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে: ফুড ইনটলার‍্যান্স ডায়রিয়া ও ক্র্যাম্পিংয়ের মতো অস্বস্তি ও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু প্রকৃত ফুড অ্যালার্জি হাইভস বা আমবাত, জিহ্বা ও গলায় ফোলা, শ্বাস সমস্যা, বমি, বুক ব্যথা এবং এমনকি কখনো কখনো মৃত্যুর কারণও হতে পারে। আপনার সমস্যা ফুড অ্যালার্জি নাকি ফুড ইনটলার‍্যান্স তা জানতে অ্যালার্জি টেস্ট করতে পারেন। জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা হিসেবে আপনার সঙ্গে ইপিপেন (একটি ইনজেকশন, যাতে এপিনেফ্রাইন নামক কেমিক্যাল থাকে যা রক্তনালীকে সংকীর্ণ করে এবং ফুসফুসের বায়ুপথকে খোলে) রাখার প্রয়োজন হতে পারে।

* মাইগ্রেন
আপনার তীব্র মাথাব্যথা কি আসলেই মাইগ্রেন? সম্ভবত না। প্রকৃতপক্ষে মাত্র ১২ শতাংশ লোকের ক্ষেত্রে এটি দেখা যায়, বলেন ইউএনসি স্কুল অব মেডিসিন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসরের সদস্য আমির এইচ. বারজিন। তিনি যোগ করেন, ‘মাইগ্রেনের সঙ্গে সাধারণত বমিবমি ভাব, আলো সংবেদনশীলতা বা শব্দ সংবেদনশীলতার সম্পর্ক রয়েছে এবং সাধারণত বিভিন্ন স্টেজের মাধ্যমে মাইগ্রেন প্ররোচিত হয়।’ এসব স্টেজের মধ্যে মাইগ্রেনের ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত বিরক্তি, বিষণ্নতা ও ইউফোরিয়া বা তীব্র উত্তেজনা অন্তর্ভুক্ত। আপনার মাথাব্যথা মাইগ্রেন হোক কিংবা না হোক, কি কারণে এ মাথাব্যথা হচ্ছে তা শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে আপনার মাথাব্যথা পুনরাবৃত্তিমূলক হলে। ডা. বারজিন হেডেক ডায়েরি বা মাথাব্যথার ডায়েরি লিখতে পরামর্শ দিচ্ছেন: কখন মাথাব্যথা হয়েছে, তখন কি করেছেন, কোন খাবার খেয়েছেন এবং অন্যান্য সম্ভাব্য ট্রিগার (স্ট্রেস, উচ্চ শব্দ ও উজ্জ্বল আলো) ছিল কিনা, মাথাব্যথা কতক্ষণ ছিল, মাথাব্যথার চিকিৎসা নিচ্ছেন কিনা এবং চিকিৎসার কার্যকারিতা কেমন তা লিখে রাখতে পারেন। মনে রাখবেন যে মস্তিষ্কের টিউমার, আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন, এনসেফালাইটিস, মেনিনজাইটিস, সুবার‍্যাকনয়েড হেমোরেজ, স্ট্রোক ও অন্যান্য মারাত্মক কন্ডিশনের কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে।

* গ্লুটেন সংবেদনশীলতা
একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৮৬ শতাংশ লোক ভেবেছিল যে তাদের গ্লুটেন সংবেদনশীলতা (পেটফাঁপা, ডায়রিয়া, জয়েন্ট ব্যথা, ক্লান্তি ও ব্রেইন ফগ বা চিন্তায় অস্পষ্টতা হলো গ্লুটেন সংবেদনশীলতার সম্ভাব্য লক্ষণ) আছে, কিন্তু তাদের বেশিরভাগের এ অনুমান সঠিক ছিল না। প্রকৃতপক্ষে তাদের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশের এই প্রোটিনের- যা গম ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাবারে পাওয়া যায়- প্রতি সংবেদনশীলতা আছে, যেখানে মাত্র ১ শতাংশের সেলিয়াক রোগ আছে। আপনার সমস্যা গ্লুটেন সংবেদনশীলতা না হলে কি হতে পারে? কিছু সম্ভাবনা হলো ল্যাকটোজ বা ফ্রকটোজ ইনটলার‍্যান্স, ক্ষুদ্রান্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার অতিবিকাশ, ডায়াবেটিস জনিত গ্যাস্ট্রোপারেসিস, আইবিএস অথবা অন্যকোনো অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যা।

* নিম্ন টেস্টোস্টেরন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়- বয়স ৩০ এর পর থেকে প্রতি বছর ১ শতাংশ করে কমতে থাকে। টেস্টোস্টেরনের মাত্রা খুব কমে গেলে পুরুষদের ওজন বৃদ্ধি, ক্লান্তি, যৌন তাড়নার ঘাটতি, যৌনমিলনের সময় লিঙ্গ খাড়া না হওয়া এবং মুড সুইং বা হঠাৎ করে খুব দ্রুত মেজাজ খারাপ হতে পারে। অবশ্য অন্যান্য অনেক কন্ডিশন এসব উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে। নিশ্চিত হোন যে এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো ওষুধ সেবন করছেন না অথবা বিষণ্নতা, ডায়াবেটিস বা স্লিপ অ্যাপনিয়া নেই- এসব কন্ডিশনেও আলোচিত উপসর্গসমূহ প্রকাশ পেতে পারে অথবা টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যেতে পারে, বলেন ডিগনিটি হেলথ'স গ্লেনড্যাল মেমোরিয়াল হসপিটাল অ্যান্ড হেলথ সেন্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ মেডিক্যাল অফিসার উইলিয়াম এন. ওয়াং। তিনি যোগ করেন, ‘এসব অন্যান্য প্রধান কন্ডিশনে টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করলে উপসর্গ আরো খারাপ হতে পারে, ভালো নয়।’ গবেষণায় পাওয়া গেছে, টেস্টোস্টেরন গ্রহণ হার্ট অ্যাটাক বা রক্ত জমাটবদ্ধতার ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে।

* এডিএইচডি
গবেষণা বলছে যে শিশুদের মধ্যে এডিএইচডি (অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার) বেশি নির্ণীত হয়, কিন্তু এই মানসিক ব্যাধিটি প্রাপ্তবয়স্কদেরও হতে পারে। এডিএইচডি’র কিছু লক্ষণ হলো: অমনোযোগিতা, অতি চঞ্চলতা এবং খামখেয়ালিপনা বা যখন যা ইচ্ছে তা করা। প্রকৃত এডিএইচডি প্রায়সময় কাজ ও সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং এ কন্ডিশন নির্ণয়ের জন্য শর্ত হলো কিছু উপসর্গের উপস্থিতি, ওয়েবএমডি অনুসারে। ডা. ওয়াং বলেন, ‘সাধারণত মানুষদের মধ্যে বিষণ্নতা খুব কমন- ক্রনিক বিস্মৃতি, মনোযোগ দেওয়া কঠিন, বিষণ্নতার লক্ষণ, প্রেরণার অভাব, মুড সুইং বা হঠাৎ করে খুব দ্রুত মেজাজের পরিবর্তন, আত্মবিশ্বাসের অভাব, কোনো কাজ নিয়ে গড়িমসি করা, মাদকের অপব্যবহার এবং কর্মস্থলে সমস্যা হলো বিষণ্নতার লক্ষণ, যা প্রাপ্তবয়স্ক এডিএইচডি’র ক্ষেত্রেও দেখা যায়।’ তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসার আগে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পরামর্শ দিচ্ছেন। এডিএইচডি’র মতো আচরণের অন্যান্য সম্ভাবনা হলো: উদ্বেগ, অনির্ণীত খিঁচুনি, থাইরয়েড সমস্যা, ড্রাগ বা অ্যালকোহলের অপব্যবহার এবং হঠাৎ জীবনে কোনো পরিবর্তন।

* ক্রনিক ফ্যাটিগ সিন্ড্রোম
যদি আপনি সবসময় ক্লান্তি অনুভব করেন, তাহলে মনে হতে পারে যে এটি ক্রনিক কন্ডিশন- কিন্তু এটি সম্ভবত তা নয়। ক্রনিক ফ্যাটিগ সিন্ড্রোমকে মায়ালজিক এনসেফালোমায়েলাইটিসও বলে। এ কন্ডিশনে অন্তত ছয় মাস ক্লান্তি অনুভব ছাড়াও ফ্লু’র মতো উপসর্গ, ব্রেইন ফগ বা চিন্তা-ভাবনায় অস্পষ্টতা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মাংসপেশি বা জয়েন্ট ব্যথা হতে পারে, এমনকি হালকা পরিশ্রমেও আপনার অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে। যদি আপনার প্রতিনিয়ত ক্লান্তির কারণ জীবনধারা (যেমন- অত্যল্প ঘুমানো, অত্যধিক মানসিক চাপ ও স্থূলতা) না হয়, তাহলে এর কারণ হতে পারে কোনো মারাত্মক মেডিক্যাল কন্ডিশন, যেমন- হার্ট বা ফুসফুসের সমস্যা, লুপাস, ঘুম ব্যাধি, রক্তস্বল্পতা ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা।

* ইস্ট ইনফেকশন
যদি আপনি নারী হন, তাহলে আপনি শুনে অবাক হতে পারেন যে যৌনাঙ্গে চুলকানি ও অস্বাভাবিক ডিসচার্জ অবধারিতভাবে বলে না যে আপনার ইস্ট ইনফেকশন আছে। একটি গবেষণায় ১৫০ জন নারী ভেবেছিল যে তাদের ইস্ট ইনফেকশন হয়েছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাদের মধ্যে মাত্র ২৬ জনের এ ইনফেকশন ছিল। নিজের ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে আপনি প্রেসক্রিপশন বহির্ভূত এমন ওষুধ খেয়ে ফেলতে পারেন, যা আপনার প্রয়োজন নেই- এর ফলে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। যদি আপনার যৌনাঙ্গে চুলকানি, অস্বাভাবিক ডিসচার্জ, জ্বালাপোড়া, লালতা বা ফোলা থাকে, তাহলে আপনার ইস্ট ইনফেকশনের পরিবর্তে ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস, ক্ল্যামাইডিয়া বা গনোরিয়ার মতো যৌনবাহিত সংক্রমণ, প্রদাহ, শুষ্ক ত্বক বা অ্যালার্জিও থাকতে পারে। আপনার কোন কন্ডিশন রয়েছে তা নিশ্চিতভাবে জানতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/ফিরোজ

     


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

রঙ বাংলাদেশের ঈদ পোশাক

২০১৯-০৫-১৯ ৯:৫৭:২৯ পিএম

১৪তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময়

২০১৯-০৫-১৯ ৮:৪৮:৩৩ পিএম

বিএএসএর ইফতার মাহফিলে স্পিকার

২০১৯-০৫-১৯ ৮:৪৪:৫৫ পিএম