কিছু শারীরিক ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১৫ ৩:১৩:১২ পিএম
এস এম গল্প ইকবাল | রাইজিংবিডি.কম

প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : প্রতিদিন আমাদের শরীরে অনেকগুলো ঘটনা ঘটে। কিছু ঘটনা আমাদেরকে বিস্মিত করে, ভাবায় যে কেন এমনটা হচ্ছে। আমাদের শরীর দানবাকৃতির না হলেও এতে যত ঘটনা ঘটে তার অনেক কিছুর ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের জানা নেই। এমনকি শরীরের কিছু রহস্যময় ঘটনার সুনিশ্চিত ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীদের কাছ থেকেও পাওয়া যায়নি। কিন্তু বিজ্ঞানীরা থেমে নেই, শরীরের রহস্যাবৃত ঘটনার সুনিশ্চিত ব্যাখ্যা পেতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। জ্ঞানপিপাসুদের জন্য কিছু শারীরিক ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নিয়ে তিন পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

* পানিতে আঙুল কুঁচকে যায় কেন?
গোসল থেকে বের হয়ে লক্ষ্য করলেন যে আপনার হাতের আঙুল অথবা পায়ের আঙুলের ত্বক আলুবোখারার মতো হয়ে গেছে। এর কারণ কি? এর জন্য দায়ী হলো রক্তনালির সংকোচন। যেহেতু ত্বকের ছিদ্রে পানি প্রবেশ করে, তাই ত্বকের ওপরের স্তর ফুলে ওঠে। ত্বকের ছিদ্রে পানির প্রবেশে ত্বকের স্নায়ু ইলেক্ট্রিক্যাল চার্জ ও কেমিক্যাল নির্গত করে, যা রক্তনালিকে সংকুচিত করে। সংকুচিত রক্তনালি থেকে ঋণাত্মক চাপ আঙুলের ত্বকের ওপরের স্তরকে নিচের দিকে টানে, যার ফলে হাতের আঙুল ও পায়ের আঙুলের ত্বকে বলিরেখা দেখা যায়। উইসকনসিনের ইউ ক্লেয়ারে অবস্থিত মায়ো ক্লিনিক হেলথ সিস্টেমের ফ্যামিলি মেডিসিন ফিজিশিয়ান অ্যামি রানতালা বলেন, ‘বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ পেয়েছেন যে পানির নিচে ত্বকের এ অবস্থা কোনো বস্তুকে আরো ভালোভাবে আঁকড়ে ধরতে সাহায্য করে। কিন্তু যেসব লোকের পায়ের আঙুল অথবা হাতের আঙুলের স্নায়ু ড্যামেজ হয়েছে তাদের এমন বলিরেখা হয় না বললেই চলে।’

* ঘুম আসার পূর্বে শরীর ঝাঁকুনি দেয় কেন?
আনুমানিক ৭০ শতাংশ লোকের নিয়মিত হিপনিক জার্কের অনুভূতি হয় (যেমন- কোথাও থেকে পড়ে যাওয়ার অনুভূতি অথবা কেউ যেন হেঁচকা টান মেরেছে এমন অনুভূতি)।এ অনুভূতি আপনি তখন পান যখন আপনার শরীর গভীর ঘুমে তলিয়ে যাওয়ার পূর্বে ঝাঁকুনি মারে। গবেষকরা এ অদ্ভুত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি, কিন্তু এ ঘটনা ঘিরে কিছু থিওরি প্রচলিত রয়েছে। একটি থিওরি হলো, শ্বাসকার্য ও হার্ট রেট ধীর হওয়া এবং সেইসঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে শরীরের মাসল টোনের অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করে এবং এ পরিবর্তনে হিপনিক জার্ক অনুভূত হয়। এছাড়া আপনার মস্তিষ্ক মাংসপেশির শিথিলতাকে আপনি পড়ে যাচ্ছেন মনে করে ভুল বুঝতে পারে।

* কানে শোঁ শোঁ শব্দ হয় কেন?
শুয়ে থাকা অথবা শান্তভাবে বসে থাকা অবস্থায় আপনি কখনো কখনো এক বা উভয় কানে পালস শুনতে পারেন। ডা. রানতালা বলেন, ‘আমরা প্রায়সময় এটিকে টিনিটাস ভেবে থাকি, কারণ কানে শোঁ শোঁ শব্দ হয়। কিন্তু এটি হলো পালসের ভেরিয়েশন বা মাত্রায় সামান্য পরিবর্তন, যার ফলে কেউ কানে পালসেটাইল টিনিটাস নামক পালস অনুভব করে ও শুনে।’ সাধারণত ঘাড় ও মাথার রক্তনালিতে অস্বাভাবিক প্রবাহের কারণে এ ধরনের শব্দ হয়ে থাকে। পালসেটাইল টিনিটাস সাধারণত দুশ্চিন্তা করার মতো কিছু নয়, যদি না এটি ঘনঘন হয়। মনে রাখবেন যে উচ্চ রক্তচাপ, ইয়ার ক্যানালে প্রতিবন্ধকতা অথবা কানের নিকটবর্তী ধমনীতে সমস্যার কারণেও কানে শোঁ শোঁ শব্দ হতে পারে।

* চোখের পাতা লাফায় কেন?
চোখের পাতা লাফানো অথবা ঘনঘন চোখের পাতার ওঠানামা অথবা চোখ পিটপিট করাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ব্লেফারোস্প্যাজম বলে। ব্লেফারোস্প্যাজম কয়েক মিনিট থেকে কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। অধিকাংশ ব্লেফারোস্প্যাজমই নিরীহ এবং দৃষ্টিশক্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। ডা. রানতালা বলেন, ‘আমরা ঠিক জানি না যে কেন এ ঘটনা ঘটে, কিন্তু ক্লান্তি-ক্যাফেইন-স্ট্রেস বা মানসিক চাপ হলো কমন কালপ্রিট। আমি প্রায়সময় ঝাঁকুনিপ্রবণ মাংসপেশিকে প্রসারিত করতে পরামর্শ দিই।’ সাধারণত ব্লেফারোস্প্যাজম নিজে নিজে চলে যায়, কিন্তু দুদিনের বেশি স্থায়ী হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

* বমির পূর্বে জিহ্বায় ধাতুর স্বাদ অনুভূত হয় কেন?
বমির ঠিক পূর্বে আপনি কপারের মতো যে স্বাদ অনুভব করেন তা হলো পাকস্থলির অ্যাসিডের প্রতি আপনার শরীরের প্রতিক্রিয়া, যা আপনার মুখে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের ডিভিশন অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, হেপাটোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনের অধ্যাপক জন এফ. কুয়েমার্লি স্লেট ডটকমকে বলেন, ‘এটি হলো ওয়াটার ব্রাশ। পাকস্থলি থেকে অ্যাসিডিক খাবার খাদ্যনালিতে ফিরে আসতে চাইলে একটি অনিয়ন্ত্রণযোগ্য শারীরিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, যা অত্যধিক লালা উৎপাদন করে। এটাকে বলে ওয়াটার ব্রাশ, যা আপনাকে ধাতুময় স্বাদের অনুভূতি দিতে পারে।’ আপনার শরীর বমির অ্যাসিডিটিকে নিষ্ক্রিয় করতে সাধারণ লালা উৎপাদন করে। যদি আপনি প্রতিনিয়ত ধাতুর স্বাদ অনুভব করেন, তাহলে তা নীরব রিফ্লাক্সের লক্ষণ হতে পারে- এ দশায় পাকস্থলির অ্যাসিডিক কনটেন্ট খাদ্যনালিতে চলে আসে।

* নাকের ভেতর পানি ঢুকলে জ্বালাপোড়া করে কেন?
ঠান্ডা পরিষ্কার পানি হলো আপনার নাকের সবচেয়ে বড় শত্রু, কারণ নাকের ভেতরটা হলো লবণাক্ত পরিবেশ। ম্যাসাচুসেটস আই অ্যান্ড ইয়ারের অন্তর্গত সাইনাস সেন্টারের পরিচালক স্ট্যাসি গ্রে স্ট্যাট নিউজকে বলেন, ‘আমাদের শরীরের কোষে লবণাক্ত কনটেন্ট রয়েছে। পরিষ্কার পানিতে লবণ থাকে না বিধায় তা নাকে প্রবেশ করলে খুব মর্মান্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়।’ নাকের ভেতরের নার্ভ এন্ডিংয়ে জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়, কারণ নাকের মিউকাস প্রাকৃতিক লবণাক্ত পরিবেশ পুনরুদ্ধারের জন্য পরিষ্কার পানির আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে চায়।

(চলবে)

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৫ মে ২০১৯/ফিরোজ

     


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

বিশ্ব রেফ্রিজারেশন দিবস পালিত

২০১৯-০৬-২৬ ৯:৪৬:১৩ পিএম

ভারতের বিপক্ষে ভাগ্য সহায় হয় না!

২০১৯-০৬-২৬ ৯:৩৪:৪১ পিএম

আর আমেরিকা যেতে চাইবে না তারা

২০১৯-০৬-২৬ ৯:১৬:৩৮ পিএম
জেএফএ কাপ-২০১৯

আনিকার ডাবল হ্যাটট্রিকে ঠাকুরগাঁও’র বড় জয়

২০১৯-০৬-২৬ ৮:৫৯:৩৯ পিএম

নিশামের ৯৭-এ নিউজিল্যান্ডের ২৩৭

২০১৯-০৬-২৬ ৮:৫১:৩০ পিএম