২২ হাজার মামলা নিষ্পত্তিতে নতুন কৌশল চায় এনবিআর

প্রকাশ: ২০১৮-০১-২২ ৯:৩৪:২৭ পিএম
এম এ রহমান | রাইজিংবিডি.কম

এম এ রহমান মাসুম : আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট/মূসক) ও আমদানি শুল্কের ২২ হাজারের বেশি মামলায় আটকে আছে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব। এর মধ্যে শুল্ক ও ভ্যাট খাতে আটকে আছে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব।

অথচ মামলার বিকল্প হিসেবে ২০১২ সালে আদালতের বাইরে সালিশি পদ্ধতিতে রাজস্ব মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এডিআর ব্যবস্থা চালু করেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর)। তবু মামলাজট যেন কমছে না।

এবার প্রতিষ্ঠানটির নতুন চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এনডিসি চান বিদ্যমান আইন কাঠামোর মধ্যে থেকে মামলাজট হ্রাসে নতুন কৌশল। এ লক্ষ্যে নয়া কৌশল ঠিক করতে জরুরি বৈঠক ডেকেছে এনবিআর।

আগামী ২৪ জানুয়ারি এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে ডাকা বৈঠকে অ্যাটর্নি জেনারেল অব বাংলাদেশ অফিসের একজন প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট এনবিআর সদস্য, সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেলের মহাপরিচালক, কর অঞ্চল ও কাস্টমস হাউসের কমিশনার, এনবিআরের আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার তানজিব-উল-আলম ও এনবিআরের রিটেইনার পাঁচ আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে।

এনবিআরের আইন শাখার উপ-সচিব মো. আব্দুর রউফের সই করা চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, এনবিআরের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আদালতে বিচারাধীন মামলাসমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে একটি সভা আগামী ২৪ জানুয়ারি (বুধবার) এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো।

এনবিআর সূত্র জানায়, আদালতে বিচারাধীন ২২ হাজার ২৮২টি মামলার কারণে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আটকে আছে। এর মধ্যে শুল্ক খাতে সবচেয়ে বেশি মামলা হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। আর ভ্যাট খাতে অনেক বড় অংকের রাজস্ব আটকে আছে। তাই রাজস্ব আহরণে মামলা নিষ্পত্তিতে জোর দিতে নতুন কৌশল চায় এনবিআর চেয়ারম্যান। এরই মধ্যে কয়েক দফা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ের দপ্তরগুলোকে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, 'জোর করে কারও কাছ থেকে কর আদায় করা হবে না। কারণ কঠোরতা অবলম্বন করলে দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হবে। রাতারাতি যুগান্তকারী কোনো পরিবর্তন করতে পারব না। কর আদায়ে বাংলাদেশে সিস্টেম বা পদ্ধতির দুর্বলতা রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত সংস্কার করা হলেও এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট দুর্বলতা রয়েছে। এজন্য পদ্ধতির আমূল পরিবর্তন করতে হবে। আমরা সেদিকেই নজর দিতে চাই।

২০১২ সালে আদালতের বাইরে সালিশি পদ্ধতিতে রাজস্ব মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এডিআর ব্যবস্থা চালু করে এনবিআর। চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। বিশাল লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে রাজস্ব মামলা থেকে অর্থ আদায় করতে পারলে, লক্ষ্য পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে বিভিন্ন সভায় এনবিআর থেকে এডিআরকে আরো জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ পদ্ধতিতে মামলার দ্রুত সুরাহা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের আকৃষ্ট করতে প্রতিটি কমিশনারেট অফিসকে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন এনবিআরের সদ্য প্রাক্তন চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।

সর্বশেষ এক সভায় তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, মামলার কারণে বর্তমানে আয়কর, মূল্য সংযোজন কর ও আমদানি শুল্কে ৩২ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আটকে আছে। এডিআরকে আরও জনপ্রিয় করতে হবে। এ পদ্ধতিতে মামলার দ্রুত সুরাহা করার জন্য সংশ্নিষ্টদের আকৃষ্ট করতে হবে। বর্তমানে বিপিসি, বিমানসহ বিভিম্ন সরকারি সংস্থার কাছে এনবিআরের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বকেয়া পড়েছে। এসব বকেয়া যাতে দ্রুত আদায় করা যায় সেজন্য প্রতিটি কমিশনারেট অফিসকে পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ জানুয়ারি ২০১৮/এম এ রহমান/মুশফিক

   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

বাংলায় এলো কাইজালা অ্যাপ

বাংলায় এলো কাইজালা অ্যাপ

২০১৮-০২-২০ ৮:২৬:০৭ পিএম
যশোরে ২ কেজি সোনাসহ ভারতীয় আটক

যশোরে ২ কেজি সোনাসহ ভারতীয় আটক

২০১৮-০২-২০ ৮:১৬:৩২ পিএম