কী থাকছে বিএনপির ‘গুরুত্বপূর্ণ’ নির্বাহী সভায়?

প্রকাশ: ২০১৮-০২-০২ ৯:১৮:৩৭ পিএম
রেজা পারভেজ | রাইজিংবিডি.কম

এস কে রেজা পারভেজ : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার ঠিক পাঁচ দিন আগে দলের ‘গুরুত্বপূর্ন বৈঠক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া নির্বাহী কমিটির সভা’ হতে যাচ্ছে শনিবার। ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের তারিখের আগে এই বৈঠকের দিকেই এখন দৃষ্টি বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর।

কি ধরনের সিদ্ধান্ত আসবে, কি থাকবে সদস্যদের পরামর্শ, কি হবে দলের কর্মকৌশল, সর্বোপরি সম্ভাব্য পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের প্রধান খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের প্রতি কি নির্দেশনা দেন; তা নিয়ে মুলত কৌতুহলে আছেন তারা।

নির্বাহী বৈঠকের ফোকাস থাকছে কোন বিষয়গুলোর ওপর- জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘মূলত সাংগঠনিক বিষয়গুলো নিয়েই নির্বাহী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়ে থাকে। এই বৈঠকের এজেন্ডাগুলোও আগে থেকে নির্ধারিত থাকে। সাংগঠনিক বিষয়গুলো ছাড়াও আগামী নির্বাচন, নির্বাচনকালীন সরকারসহ সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও আলোচনা হবে।’

খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের আগে বৈঠকটি কি ধরনের গুরুত্ব বহন করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি অবশ্যই ঠিক যে অন্যান্য নির্বাহী কমিটির বৈঠকের চেয়ে এটি যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের রায়ের ব্যাপারটি তো অবশ্যই আছে।’

কমিটি ঘোষণার দীর্ঘদিন পর নির্বাহী কমিটি ডাকার বিষয়টি নিয়েও ব্যাখ্যা দেন বিএনপির মহাসচিব।

‘আমাদের গঠনতন্ত্রে আছে প্রত্যেক বছর একটা নির্বাহী কমিটির সভা করতে হয়। কিন্তু প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আমরা তা করতে পারি নি। এখন বাধ্য হয়ে তা করতে হচ্ছে।’

শনিবার রাজধানীর খিলক্ষেতে হোটেল লা মেরিডিয়ান-এ সকাল ১০টা থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

ইতোমধ্যে নির্বাহী কমিটির সভার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মাঝে বৃহস্পতিবার থেকে পরিচয় পত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। শুক্রবারও সারাদিন নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্যদের মাঝে পরিচয় পত্র বিতরণ করা হয়েছে। সভাস্থলে নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্যদের রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সাড়ে ৪ মাস পর ৬ আগস্ট ৫০২ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটির গঠন করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন মাস পর জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও শনিবারই এ কমিটির প্রথম বৈঠক হবে।

কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা ছাড়াও সারাদেশে শাখাগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের পদাধিকার বলে নির্বাহী কমিটির এ বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠকের বিষয়ে কি ভাবছে বিএনপি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাতর্মীরা? জানার জন্য যোগোযোগ করা হলে অনেকেই জানিয়েছেন, নির্বাহী কমিটির বৈঠকে দলের প্রধান খালেদা জিয়া কি ধরনের নির্দেশনা দেন মূলত সেদিকেই নজর তাদের।

জানতে চাইলে কৃষক দলের নেতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদারবক্স হলের প্রাক্তন ভিপি অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহার রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘নির্বাহী কমিটির বৈঠকে সদস্যদের কাছ থেকে কি পরামর্শ আসে এবং হাইকমান্ড থেকে কি নির্দেশনা আসে তার জন্য অপেক্ষা করছি।’

‘তারা নিশ্চয়ই জানে তৃণমূল নেতাকর্মীদের আকাঙ্ক্ষা কি? আশা করি, সদস্যদের বক্তব্যে এসবের প্রতিফলন আসবে। হাইকমান্ড সেগুলো নিয়ে দেশ ও জাতির জন্য ভালো এবং কার্যকর নির্দেশনাই দেবে। কারণ, এখন এদেশের গণতান্ত্রিক শক্তির একমাত্র ভরসা খালেদা জিয়া। তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। রাজনীতির এই প্রেক্ষাপট বৈঠকটিকে আলাদা মাত্রা দিচ্ছে।’

ছাত্রদলের যুগ্ম সধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্না মনে করেন রায়কে সামনে রেখে নির্বাহী কমিটির এই সভা এখন বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বিষয়। তিনি বলেন, ‘আশা করি, নির্বাহী কমিটি বৈঠকে আগামী দিনগুলোর জন্য বিএনপির কর্মকৌশল নিয়ে কার্যকর দিকনির্দেশনা আসবে। নেতাকর্মীরা সেই অপেক্ষায় আছে।’

দলীয় সূত্র বলছে, নির্বাহী কমিটির বৈঠকে মূলত খালেদা জিয়ার মামলার রায় এবং রায় পরবর্তী বিএনপির অবস্থান কি হচ্ছে, সেই বিষয়টিই মুল আলোচ্য বিষয় থাকছে। এছাড়াও নির্বাচনকালীন সরকার দাবিতে বিএনপির অবস্থান এবং আগামী নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীদের কাছে কর্মকৌশলের নির্দেশনা যাবে।      

তবে দলের দায়িত্বশীল দু’জন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার রায়ে নেতিবাচক কিছু হলেও সহিংস কোনো কর্মসূচিতে যাচ্ছে না দলটি। শান্তিপূর্ণ সর্বোচ্চ প্রতিবাদের নীতিতে থাকবে দলটি। নির্বাচনের আগে কোনো উস্কানিতে সরকারের ফাঁদে পা না দিতে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে হাইকমান্ড থেকে নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ দেওয়া হবে নির্বাহী কমিটির বৈঠকে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান রাইজিংবিডিকে জানান, নির্বাহী কমিটির সভার দিন সকালের প্রথম সেশনটি হবে উন্মুক্ত। এতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বক্তব্য রাখবেন। এরপর রুদ্ধদ্বার নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক বৈঠক হবে। এতে নির্বাহী কমিটির সদস্যদের বক্তব্য ছাড়া দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখবেন।

নির্বাহী কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে আসা লালমনিরহাট বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর কাছে জানতে চাইলে রাইজিংবিডিকে তিনি বলেন, ‘নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-মোকাদ্দমা ও বিভিন্ন কারণে নির্বাহী কমিটির সভা দেরিতে হচ্ছে। বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের রায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে বলে আশা করছি।

এছাড়া আগামী নির্বাচনের আগে বিএনপির আন্দোলনের কর্মসূচি কি হবে সে বিষয়ে আমরা জানতে চাইবো, পরামর্শ দেবো। রায়ের ব্যাপারে সমগ্র নেতাকর্মীসহ দেশবাসীও উৎকন্ঠার মধ্যে আছে। সরকারি দলের নেতারা যেভাবে বক্তব্য রাখছে তাতে সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করা ফেলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই রায়ের বিষয়টিই মুল ফোকাস হবে।’

নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল হক (সনি) রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘নির্বাহী কমিটির সভায় মূল ফোকাস থাকবে ম্যাডামের রায় নিয়ে। বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পেলে আমার ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনাগুলোর প্রকাশ ঘটাবো। তবে ব্যক্তিগতভাবে রায় নেতিবাচক হলে ধ্বংসাত্মক নয়, গণতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে দেশ অচল করার কর্মসূচির পক্ষে আমি।’

এদিকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক যাতে সফল না হয়, সেজন্য সরকার বাধার সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ- বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু ও নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লবসহ নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এভাবে নির্বাহী কমিটির পদধারী ও সদস্যরা নয়া পল্টনের কার্যালয়ে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে এসে গ্রেপ্তার হয়েছেন, বাসা থেকেও নেতাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

এদের মিটিং তো আগামীকাল (শনিবার)। এদেরকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে? যাতে নির্বাহী কমিটির বৈঠকটি সাফল্যমণ্ডিত না হয়, সার্থক না হয়, এটাই সরকারের উদ্দেশ্য।’

বিএনপি নেতাদের গ্রেপ্তারের চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৫ জনের অধিক নেতাকর্মীকে। গত চার দিনেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় ২৭৫ জনের অধিক নেতাকর্মীকে।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিএনপি নেতাদের বাসায় বাসায় গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে অভিযোগ করে রিজভী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের নি:শর্ত মুক্তি দাবি করেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/রেজা/শাহনেওয়াজ

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

আত্মত্যাগের ঈদ

২০১৮-০৮-২১ ১০:২২:৪১ পিএম

নওশাবা জামিনে মুক্ত

২০১৮-০৮-২১ ৯:০৮:৩৪ পিএম

বরিশালে ঈদের জামাত কখন কোথায়

২০১৮-০৮-২১ ৭:৪৯:০৮ পিএম

কারাগারে খালেদার পরপর দুই ঈদ

২০১৮-০৮-২১ ৭:২০:০৭ পিএম

শিশুর নাম ‘এশিয়ান গেমস’!

২০১৮-০৮-২১ ৬:২৫:৫২ পিএম