সতর্ক পুলিশ, জনমনে উৎকণ্ঠা

প্রকাশ: ২০১৮-০২-০৭ ৬:৪০:০১ পিএম
আহমদ নূর | রাইজিংবিডি.কম

আহমদ নূর : আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিহত করতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এমনকি খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিএনপির বিগত দিনের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে পুলিশ বলছে তারা সহিংসতা চালাতে পারে।

বিএনপির নীতি নির্ধারকরা বলছেন, রায়ে নেতিবাচক কিছু আসলে তারা আন্দোলন করবেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিএনপি বিশৃঙ্খলা করলে আওয়ামী লীগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে মাঠে থাকবে।

অন্যদিকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্সের (এনএসআই) একটি সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতা নাও হতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।

মূলত পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার পর্যবেক্ষণ, বড় দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ৮ ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে জনসাধারণের মনে ভীতির সৃষ্টি হচ্ছে।

সাধারণ মানুষ বলছেন, বেগম খালেদা জিয়ার রায় হলে বিএনপি মাঠে নামবে। এটি প্রতিহত করতে আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগও মাঠে থাকবে। ফলে বিশৃঙ্খলা বাড়বে। সঙ্গে বাড়বে মানুষের ভোগান্তিও।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ধানমন্ডি-১৫ নম্বরে আড্ডা দিচ্ছিলেন কয়েকজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী। কাছে গিয়ে বোঝা গেল তাদের আড্ডার মূল আলোচ্য ‍বিষয় ছিল ৮ ফেব্রুয়ারি। এদিন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হবে কি না, তা নিয়ে। এদের মধ্যে কারো চিন্তা, বাসা থেকে বের হলে যদি কোনো ঝামেলায় পড়তে হয়। পাশাপাশি তারা চিন্তা করছিলেন, ওই দিন যানবাহন চলে কি না, তা নিয়েও। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার তাদের গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস থাকায় সে বিষয়টি নিয়েও চিন্তা করছিলেন।

 



আড্ডার ফাঁকে শিক্ষার্থী হুমায়ুন খান রাইজিংবিডিকে বলছিলেন তার উৎকণ্ঠার বিষয় নিয়ে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো দল বা মত নাই। তাই যদি সহিংসতা হয় আমরা বিপদে পড়ব। বিশৃঙ্খলা হলে গাড়ি চলবে না, ক্যাম্পাসেও আসতে পারব না। এতে আমাদের ক্লাস মিস হবে। তা ছাড়া সামনে মিড টার্ম পরীক্ষাও রয়েছে। তাই বলতে চাই, আমরা কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাই না। আশা করব আইনের প্রতি সবাই শ্রদ্ধাশীল থেকে সব সমস্যার সমাধান করবেন।’

আরেক শিক্ষার্থী অনিক বলেন, ‘যাই হোক আমাদের কোনো ক্ষতি না হলেই হলো। সে বিষয়টি যেন ঠিক থাকে।’

অন্য শিক্ষার্থী সাইমুম বলেন, ‘আপাতত বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে আসব না। কখন কী হয়ে যায়, তা তো বলা যায় না।’

শুধু শিক্ষার্থী নয় ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকা ঘুরে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রসঙ্গে কথা বলতেই সবার কাছ থেকে উৎকণ্ঠা আর ভীতি উঠে এসেছে।

এদিকে, যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা উলফাতুন্নেছা ছন্দার মা বেশ কিছু দিন ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। আটটি কেমোথেরাপি দেওয়ার পর ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রথমবারের মতো তাকে রেডিওথেরাপি দেওয়া হবে। ছন্দার মনে এখন চিন্তার ছাপ, যদি কোনো সমস্যা হয় তাহলে নির্ধারিত তারিখে তিনি তার মাকে চিকিৎসা করাতে পারবেন না। সিরিয়াল পেতে আরো পাঁচ দিন তার অপেক্ষা করতে হবে।

ছন্দা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘যেভাবে খবরে দেখছি আওয়ামী লীগ বলছে মাঠে থাকবে, তারা প্রতিরোধ করবে। যা মনে হচ্ছে খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে হামলা-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। এমন অবস্থায় আমরা বাসা থেকে বের হতে নিরাপদ মনে করছি না। আবার সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিয়ে ক্যান্সারের রোগীর সমস্যা হতে পারে।’

এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে যেন কেউ কোনো নাশকতা চালাতে না পারে, সেজন্য কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি, পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), সোয়াট, র‌্যাব, আনসারসহ সাদা পোশাকে গোয়েন্দারা আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন। যেকোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে পুলিশ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছ।

 



এর আগে মঙ্গলবার ডিএমপি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সকল প্রকার ছড়ি বা লাঠি, ছুরি, চাকু বা ধারাল অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য ও দাহ্য পদার্থ বহন করা যাবে না। এ ছাড়া যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও রাস্তায় দাঁড়িয়ে বা বসে কোনো ধরনের মিছিল করা যাবে না।

বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউ মার্কেট, শাহবাগ, পল্টন, খিলগাঁও, শাহজাহানপুর থানা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে এপিবিএন। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে সিএনজি, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে তল্লাশি বেশি চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া সন্দেজনকভাবে কাউকে ঘুরাফেরা করতে দেখলেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি র‌্যাবের টহল টিম, মোবাইল টহল দেওয়া হচ্ছে। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, নাশকতা এড়াতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

৮ ফেব্রুয়ারি খালেদার রায় ঘোষণার পর কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না, এমন হুশিয়ারি উচ্চারণ করে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কেউ শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে চাইলে আমার বাধা দেব না। তবে শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জানমাল ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।’

দেশের কয়েক জেলায় বিজিবি মোতায়েন
খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের অনুরোধে ঢাকায় ২০ প্লাটুন, সিরাজগঞ্জে ৩ প্লাটুন, বগুড়ায় ৩ প্লাটুন, নারায়ণগঞ্জে ৩ প্লাটুন, নোয়াখালীতে ১ প্লাটুন, লক্ষ্মীপুরে ১ প্লাটুন এবং চাঁদপুরে ১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

ঢাকায় প্রবেশে তল্লাশি
খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়ের আগে ঢাকার সবকটি প্রবেশমুখে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়েছে পুলিশ। নিরাপত্তা চৌকিতে বাস-মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনে তল্লাশি করা হচ্ছে। যাত্রীদের যানবাহন থেকে নামিয়েও তল্লাশি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক হলে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, ঢাকার বাইরে থেকে এসে যেন কেউ নাশকতায় লিপ্ত হতে না পারে সেজন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/নূর/সাইফুল

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

শোডাউন ছাড়া কোনো চমক নেই এরশাদের

২০১৮-১০-২০ ৮:৫৯:২৫ পিএম

রূপসায় হেইয়ো হেইয়ো, পাড়ে করতালি

২০১৮-১০-২০ ৮:৪৮:৫৪ পিএম