১৬৫ কোটি টাকা উদ্ধারে এবার দুই মামলা করছে এবি ব‌্যাংক

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৩ ৯:০১:৩২ পিএম
এম এ রহমান | রাইজিংবিডি.কম

এম এ রহমান মাসুম: ভুয়া অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগের নামে পাচার হওয়া ১৬৫ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনতে এবার দুবাইয়ের আদালতে পৃথক দুই মামলা করতে যাচ্ছে আরব বাংলাদেশ ব‌্যাংক (এবি ব্যাংক) কর্তৃপক্ষ।

মামলা দায়ের করার জন‌্য এরই মধ‌্যে এবি ব‌্যাংকের বোর্ড থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশি আইনজীবী। শিগগিরই বাংলাদেশ ব‌্যাংকের অনুমোদনক্রমে দুবাইয়ে বিদেশী আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে ব‌্যাংকের চেয়ারম‌্যান এম এ আউয়াল ও ব‌্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মশিউর রহমান চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। যা দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র রাইজিংবিডিকে নিশ্চিত করেছেন।

পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদকালে এ প্রশ্নের জবাবে এমডি মশিউর রহমান চৌধুরী দুদককে জানান, পাচার হওয়া টাকা পুনরুদ্ধারের বিষয়ে বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এবি ব‌্যাংক দুবাইয়ে বিদেশী আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব‌্যাংকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতিমধ‌্যে বাংলাদেশি আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রে আরো জানা যায়, পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে এবি ব্যাংক আরব আমিরাতের আদালতে দুটি মামলা করতে যাচ্ছে। একটি ফৌজদারী মামলা ও অন‌্যটি দেওয়ানী মামলা।

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এ বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘মামলার তদন্তের স্বার্থে ব‌্যাংকটির চেয়ারম‌্যান ও এমডিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়া সকালে মামলার আসামি এবি ব্যাংকের হেড অব অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের (ওবিইউ) মোহাম্মদ লোকমান, হেড অব করপোরেট ব্যাংকিং মোহাম্মদ মাহফুজ উল ইসলাম এবং জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. নুরুল আজিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।’

চেয়ারম‌্যান এম এ আউয়ালকে দ্বিতীয়বারের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। ঘটনার সময়ে তিনি এবি ব‌্যাংকের পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।

ভুয়া অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগের নামে ১৬৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে গত ২৫ জানুয়ারি মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় মোট ৮ জনকে আসামি করা হয়। তারা হলেন- এবি ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক, প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহমেদ চৌধুরী, মো. ফজলুর রহমান, কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এবি ব্যাংকের হেড অব অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের (ওবিইউ) মোহাম্মদ লোকমান, হেড অব করপোরেট ব্যাংকিং মোহাম্মদ মাহফুজ উল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. নুরুল আজিম এবং এবি ব্যাংকের গ্রাহক আটলান্টিক এন্টারপ্রাইজের মালিক সাইফুল হক।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগের নামে ১৬৫ কোটি টাকা এবি ব্যাংকের চট্টগ্রাম ইপিজেড শাখা থেকে দুবাইয়ে পাচার করে এবং পরে তা আত্মসাৎ করে। কথিত ওই বিনিয়োগ এবং অর্থ আত্মসাতের নেপথ্যে ব্যাংকের গ্রাহক আটলান্টিক এন্টারপ্রাইজের মালিক সাইফুল হকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এক সময় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে কাজ করা সাইফুল হকের এবি ব্যাংকে কোনো অংশীদারিত্ব নেই। তবে তিনি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মোরশেদ খানের মেয়ের স্বামী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সাইফুল হক দুবাইয়ে থাকাকালে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের সদস্য খুররম আবদুল্লাহ ও আব্দুস সামাদ খানের সঙ্গে তার সখ্য হয়। তিনি এবি ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান ওয়াহিদুল হকেরও পূর্বপরিচিত। সাইফুল হকই এবি ব্যাংকের অর্থপাচারের বিষয়ে ওই প্রতারক চক্রের সঙ্গে ‍ওয়াহিদুল হকের পরিচয় করিয়ে দেন। পরে দুবাই ও বাংলাদেশে একাধিকবার বৈঠক করেন তারা।

মামলার এজাহারে আরো বলা হয়, প্রাক্তন চেয়ারম্যান ওয়াহিদুল হক ও আবু হেনা মোস্তফা কামাল ব্যাংকের বোর্ডকে না জানিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুবাই গিয়ে প্রতারক চক্রের সঙ্গে বৈঠক করেন। আর ওই প্রতারক চক্র পিনাকল গ্লোবাল ফান্ড (পিজিএফ) নামে একটি কোম্পানি সৃষ্টি করে। সেই কথিত পিনাকলের ৮ কোটি ডলারের সঙ্গে এবি ব্যাংকের ২ কোটি ডলার মিলিয়ে ১০ কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন করে তা দুবাইয়ে বিনিয়োগের একটি কাল্পনিক প্রস্তাব তৈরি করা হয়। আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও শামীম আহমেদের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংকের বোর্ড সভায় উপস্থাপন করে তা পাস করিয়ে নেওয়া হয় ২০১৩ সালে। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুবাইয়ে চেং বাও জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি নামের এক কোম্পানির নামে পাঠানো ওই ২ কোটি ডলার আবুধাবির একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যায়। সেখান থেকে পরে তা আত্মসাৎ করা হয়।

২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে অর্থ পাচারের ওই ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করা হয়েছে মামলায়। মামলা দায়ের করার পর এম ওয়াহিদুল হকসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে দুদক। ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম ছাড়া বাকি আসামিরা জামিনে আছেন।

** পাচার করা ১৬৫ কোটি টাকা ফেরাতে দুদকের ৩ কৌশল



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ মার্চ ২০১৮/এম এ রহমান/শাহনেওয়াজ

   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

শূন্য হাতেই ফিরছে মেয়েরা

শূন্য হাতেই ফিরছে মেয়েরা

২০১৮-০৫-২০ ৯:৪১:৪৯ পিএম
কূটনীতিকদের নিয়ে বিএনপির ইফতার

কূটনীতিকদের নিয়ে বিএনপির ইফতার

২০১৮-০৫-২০ ৮:৪৪:২৬ পিএম