আলোচনায় থাকতে চান এরশাদ

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-২৩ ৯:৩১:২৪ পিএম
মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন | রাইজিংবিডি.কম

মুহাম্মদ নঈমুদ্দীন : জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় আসতে চান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন ‍মুহম্মদ এরশাদ। এই কর্মসূচিতে ব্যাপক লোকসমাগম করে রাজনীতিতে নিজের গুরুত্ব বাড়াতে চান তিনি।

মূলত নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সঙ্গে দরকষাকষি করে বিশেষ সুবিধা অর্জনই তার এখন প্রধান লক্ষ্য। এজন্যই কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে তার এই মহাসমাবেশ কর্মসূচি। আগামী নির্বাচনে যাতে জাতীয় পার্টিকে একটি সন্তোষজনক স্থানে নিয়ে যেতে পারেন, সেটাই চান তিনি।

শনিবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জাতীয় পার্টি নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশ। মহাসমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সমাবেশে জাতীর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন জোটের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বিরোধী নেতা রওশন এরশাদসহ জোটের শীর্ষনেতারা।

দলের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মসূচি দিয়ে বড় ধরনের শোডাউন করে নির্বাচন পর্যন্ত আলোচনায় থাকতে চান এইচ এম এরশাদ। শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মহাসমাবেশ তারই অংশ মাত্র। এই মহাসমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগম করে বড় ধরনের শোডাউন করতে চান প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। যাতে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সঙ্গে দরকষাকষি করে বিশেষ সুবিধা  নিতে পারেন তিনি।

সূত্র আরো জানায়, এই মহাসমাবেশে বড় ধরনের শোডাউন ছাড়া নতুন কোনো চমক থাকছে না। রাজধানীতে লোকসমাগমের মাধ্যমে বড় ধরনের মহাসমাবেশ করে শক্তি প্রদর্শন করাই মূলত এরশাদের চমক। বিভাগীয় পর্যায়ে জোটের ব্যানারে মহাসমাবেশসহ সাংগঠনিক কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন তিনি। জাতীয় পার্টি জোটের ব্যানারে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাবেন এরশাদ। এ ছাড়া তেমন কোনো নতুন বার্তা নেই বলে জানা গেছে।

বরাবরের মতো জোটের ব্যানারে ৩০০ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দেবেন প্রাক্তন এই রাষ্ট্রপতি। এই ঘোষণা তিনি প্রত্যেক কর্মসূচিতেই দিয়ে আসছেন। মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনের চূড়ান্ত যাত্রার কথাও বলতে পারেন এরশাদ। মূলত সাংগঠনিক কর্মসূচি ছাড়া মহাসমাবেশে এরশাদের নতুন কোনো চমক থাকছে না। তবে লোক সমাগম করে নেতাদের ক্যাপাসিটি ও দলের শক্তি যাচাই করতে চান এরশাদ। এজন্যই নির্বাচনের আগে এমন মহাসমাবেশের মহড়া।

জানা গেছে, মহাসমাবেশে শোডাউন করে রাজনীতিতে নিজের অবস্থান জানান দিতে চান এরশাদ। তিনি দেখাতে চান দেশের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি এখনো ফ্যাক্টর। তার দল ফুরিয়ে যায়নি, বরং আরো শক্তিশালী। আগামী নির্বাচনে সরকার গঠন করতে হলে এরশাদকেই লাগবে। নিজের গুরুত্ব তুলে ধরতেই তিনি এই মহাসমাবেশের আয়োজন করেছেন।

জাতীয় পার্টির নেতারা মনে করেন, মহাসমাবেশ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নির্বাচনের আগে এরশাদ জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার শীর্ষে উঠে আসবেন। এতে দলের চেয়ারম্যান এরশাদ ও তার দল জাতীয় পার্টির লাভই হবে। দেশের জনগণ জাতীয় পার্টিকে নিয়ে ভাববে। নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মাঝেও একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিকল্প মনে করবে জাতীয় পার্টিকে। একইসঙ্গে বিদেশি বন্ধুদের সুনজরেও পড়বেন এরশাদ।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে মানুষ যেভাবে চেনে-জানে তার বিপরীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোট সম্পর্কে তেমন ওয়াকিবহাল নয়। সামনে নির্বাচন, কিন্তু ভোটাররাই যদি এরশাদের জোট সম্পর্কে না জানে, মনে না রাখে তাহলে ভোটের ফলাফল কাঙ্ক্ষিত হবে না। দেশের জনগণ ও তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এরশাদের এই মহাসমাবেশ। মহাসমাবেশ সফল হলে ভোটারদের মাঝেও দারুণ প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

তবে ভিন্নমত প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নয় বছরের সফল রাষ্ট্রনায়ক এরশাদ সবসময় আলোচনার শীর্ষে। রংপুর সিটি ও গাইবান্ধা উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি বিজয়ের মধ্য দিয়ে আমাদের পার্টির চেয়ারম্যানের জনপ্রিয়তা প্রমাণ হয়েছে। নতুন করে আলোচনায় কিংবা প্রমাণের প্রয়োজন নেই। রাষ্ট্র পরিচালনায় তার দক্ষ নেতৃত্ব দেশের মানুষের কাছে যেমন জনপ্রিয় ঠিক তেমনি বিদেশি বন্ধুদের কাছে তার কদর এখনো অন্য যেকোনো রাজনীতিকদের চেয়ে বেশি বলে আমি মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘শনিবার মহাসমাবেশে প্রমাণ হবে এরশাদের জনপ্রিয়তা। পার্টির চেয়ারম্যান দেশ ও জাতিকে আগামী দিনের দিকনির্দেশনা দেবেন। ক্ষুধামুক্ত সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে দেশবাসীকে সম্মিলিত জাতীয় জোটের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাবেন।’

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘মহাসমাবেশ নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হবে। মহাসমাবেশ থেকে পরিবর্তনের ডাক আসবে। মানুষের মুক্তির জন্য ডাক দেবেন পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় বড় দুটি দল ব্যর্থ। মানুষ তাদের ভালো করে দেখেছে। তাদের ব্যর্থতার কারণে দেশের মানুষ এখন জাতীয় পার্টিকে বিকল্প শক্তি মনে করছে। নয় বছরের সফল রাষ্ট্রপরিচালনায় পল্লিবন্ধু এরশাদকে দেশের যোগ্য নেতা মনে করে জনগণ আগামী নির্বাচনে মূল্যায়ন করবে।’



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ মার্চ ২০১৮/নঈমুদ্দীন/সাইফুল

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

ঈদে ‘ভাই ব্রাদার এক্সপ্রেস’

২০১৮-০৭-১৯ ৯:৩৮:৩৭ এএম

রাতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

২০১৮-০৭-১৯ ৯:১৬:১১ এএম

ভাষা, গল্প ও হুমায়ূন আহমেদ

২০১৮-০৭-১৯ ৮:৩৩:৩১ এএম

টিভিতে আজকের খেলা

২০১৮-০৭-১৯ ৮:৩০:৩৪ এএম

এইচএসসি ও সমমানের ফল আজ

২০১৮-০৭-১৯ ৮:২৮:৪৬ এএম

দ্বিতীয় ম্যাচেও এইচপি দলের জয়

২০১৮-০৭-১৮ ১০:৩৩:৩৯ পিএম