মহাসমাবেশকে ঘিরে সরগরম জাপা, চলছে প্রস্তুতি

প্রকাশ: ২০১৮-১০-১৮ ৯:০৩:২৩ পিএম
মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন | রাইজিংবিডি.কম

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন : রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশ। জাতীয় নির্বাচনের আগে এটিই জাতীয় পার্টি ও তার শরিক দলগুলোর শেষ কর্মসূচি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বড় ধরনের শোডাউন করতে চায় তারা। কর্মসূচি সফল করতে মহাসমাবেশকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে জাতীয় পার্টি।

মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা।  কর্মসূচি সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতারা। কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। সারা দেশে এরশাদ, রওশন ও শরিক দলের শীর্ষ নেতা মাওলানা এম মান্নানসহ বিভিন্ন নেতার ছবি দিয়ে মহাসমাবেশের পোস্টার লাগানো হয়েছে। ঢাকা শহরের অলিগলিতে শোভা পাচ্ছে মহাসমাবেশের ব্যানার ও পোস্টার।

এই মহাসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে জাতীয় পার্টিসহ জোটের শরিক দলগুলো। সারা দেশ থেকে তাদের নেতাকর্মীরা মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। এজন্য আগেভাগেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে। বাস, ট্রেন, লঞ্চে নেতাকর্মীরা যোগ দেবেন মহাসমাবেশে। ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকে বাদ্য-বাজনা সহকারে মিছিল নিয়ে আসতে বলা হয়েছে নেতাকর্মীদের। সেই প্রস্তুতি চলছে শেষ মুহূর্তে। মহাসমাবেশকে ঘিরে নেতারা নিজ নিজ এলাকায় সভা-সমাবেশ করছেন জোরেশোরে।

সরগরম জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয় :
মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নেতাকর্মীদের ভিড়। কেউ পোস্টার নিয়ে ব্যস্ত, কেউ ব্যস্ত লোকসমাগম নিয়ে। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থিত দলের প্রত্যেকটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ে চলছে দফায় দফায় বৈঠক। নেতারা মহাসমাবেশ সফল করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।

মহাসমাবেশের সার্বিক সফলতায় সার্বক্ষণিক তদারকিতে ব্যস্ত দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি। তিনি একবার পার্টি অফিসে, আরেকবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, কখনো এরশাদের বনানী অফিসে, কখনো এরশাদের বারিধারার বাসায়, আবার কখনো ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় কিংবা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রস্তুতি সভায় ছুটছেন। সারা দেশ থেকে কীভাবে লোকসমাগম হবে তার নির্দেশনাও দিচ্ছেন। মহাসমাবেশ সফল করা নিয়ে তার ব্যস্ততা অনেক। 

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, পার্টির মহাসচিবের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে জাতীয় পার্টির এই মহাসমাবেশ হবে নির্বাচনের আগে সবচাইতে বড় শোডাউন। তিনি যেভাবে রাতের ঘুম হারাম করে নেতাকর্মীদের সময় দিচ্ছেন তা প্রশংসার দাবি রাখে। পার্টির চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় তার সার্বিক তদারকিতে মহাসমাবেশ ঘিরে জাতীয় পার্টি দেশবাসীকে জাগিয়ে তুলেছে। আশা করছি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই কর্মসূচি জনসমুদ্রে পরিণত হবে।

মহাসমাবেশ কর্মসূচি সফল করতে জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর শাখা, জাতীয় কৃষক পার্টি, স্বেচ্ছাসেবক পার্টি, যুব সংহতি, মহিলা পার্টি, ছাত্রসমাজ, জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন, শ্রমিক পার্টি, ওলামা পার্টিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো প্রস্তুতিমূলক সভা-সমাবেশ করেছেন।

মহাসমাবেশের মাঠ ও মঞ্চের প্রস্তুতি দেখতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যান জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, অ্যাডভোকেট শেখ সিরাজুল ইসলাম, হাজী সাইফুদ্দিন মিলন, ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন রাজু, উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভুইয়াসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

জাতীয় কৃষক পার্টির প্রস্তুতি সভা :
মহাসমাবেশ উপলক্ষে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউট মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় কৃষক পার্টির প্রস্তুতি সভা হয়। সংগঠনের সভাপতি ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।

সভায় তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বক্তব্য হলো ৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ ভাগই কৃষক। দেশের যত উচ্চ স্থানেই থাকুক না কেন কৃষকই সবার মূল ঠিকানা। পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ কৃষকদেরই প্রকৃত বন্ধু। তাই আগামী ২০ অক্টোবরের মহাসমাবেশে জাতীয় কৃষক পার্টি দেশের কৃষকদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিত করে প্রমাণ করবে এ দেশ এখনো কৃষকের।

 



কৃষক পার্টির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসেন চাকলাদারের পরিচালনায় সভায় কৃষক পার্টির সভাপতি সাহিদুর রহমান টেপা বলেন, ২০ অক্টোবর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মহাসমাবেশে আমরা প্রমাণ করব, সারা দেশে আমরা সাংগঠনিকভাবে কতটা শক্তিশালী। নেতাকর্মীদের মহাসমাবেশ সফল করার আহ্বান জানান তিনি।

মহাসমাবেশ সফল করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর টিকাটুলীতে সুত্রাপুর ও গেন্ডারিয়া থানা জাপার এক যৌথসভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি। বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল আলম রুবেলসহ নগর কমিটির নেতৃবৃন্দ।

মহাসমাবেশ সফল করতে বিকেলে রাজধানীর লালবাগের আমলীগোলায় কর্মীসভা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন।

এ সময় তিনি বলেন, ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগরী এরশাদের সৈনিকদের দখলে থাকবে। আমাদের প্রত্যেকটি এলাকা থেকে নেতাকর্মী মহাসমাবেশ যোগ দেবেন।  এরশাদের মহাসমাবেশে আসতে আগ্রহী এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। মহাসমাবেশ রাজধানীবাসীর মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

মহাসমাবেশ সফল করতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাপার কাকরাইলের কার্যালয়ে জাতীয় ছাত্রসমাজের প্রস্তুতি সভা হয়। ছাত্রসমাজের সভাপতি মোড়ল জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মেজবাহের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।

বক্তব্য রাখেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, ভাইস-চেয়ারম্যন ইকবাল হোসেন রাজু, জহিরুল ইসলাম জহির, আরিফুর রহমান খান, যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, আলমগীর সিকদার লোটন, গোলাম মোহাম্মদ রাজু, শেখ আলমগীর হোসেন, মনিরুল ইসলাম মিলন, ফখরুল আহসান শাহাজাদা, বেলাল হোসেন, আবু সাঈদ স্বপন, এমএ রাজ্জাক খান, সুমন আশরাফ প্রমুখ।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ অক্টোবর ২০১৮/নঈমুদ্দীন/রফিক

   
 


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

অবসরে আগ্নেয়স্কা রাদওয়ানস্কা

২০১৮-১১-১৪ ১০:৪৯:০৮ পিএম

কবে হবে মিরাজের টেস্ট সেঞ্চুরি?

২০১৮-১১-১৪ ৯:১২:৩১ পিএম

‘নির্বাচন এক ঘণ্টাও পেছাবেন না’

২০১৮-১১-১৪ ৮:২১:৫১ পিএম