রওশনকে সরিয়ে এরশাদ : ক্ষুব্ধ জাপার এমপিরা

প্রকাশ: ২০১৯-০১-০৪ ৯:৫৭:৪২ পিএম
মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন | রাইজিংবিডি.কম

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন : বর্তমান বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদকে সরিয়ে একাদশ সংসদে বিরোধী দলের নেতা হতে চান এইচ এম এরশাদ। জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদীয় দলের নেতাও হতে চান তিনি।

অসুস্থ শরীর নিয়ে অক্ষম হলেও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ক্ষমতা ভোগ করতে চান প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এরশাদ। সংসদ ও দলের একক ক্ষমতা নিজের কাছেই রাখতে চান তিনি।

অসুস্থ শরীরে অক্ষম অবস্থায় শুক্রবার এইচ এম এরশাদ এক বিবৃতিতে জানিয়ে দেন জাতীয় পার্টি হবে বিরোধী দল। তিনি নিজেই বিরোধী দলের নেতা, একইসঙ্গে সংসদীয় দলের নেতার দায়িত্ব পালন করবেন। নোটিশ আকারে জারি করে এমন সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন এরশাদ।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এরশাদের বেতনভুক্ত এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে দলের কয়েকজন নেতা রওশনকে সরিয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ক্ষমতা ভোগের পরামর্শ দেন এরশাদকে। বিরোধী নেতা ও সংসদীয় দলের নেতা হলে দলে ও সংসদে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন প্রাক্তন এই রাষ্ট্রপতি। দলের সিন্ডিকেটের বুদ্ধিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ অসুস্থ ও অক্ষম অবস্থায় শুক্রবার হুট করে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেন বলে দলটির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়।

ওই সূত্র আরো জানায়, এইচ এম এরশাদকে বিরোধী দলের নেতা ও সংসদীয় দলের নেতা করার মধ্য দিয়ে দলের সিন্ডিকেট যেকোনো মূল্যে রওশন এরশাদকে কর্তৃত্বহীন করতে চায়। তারাই বিরোধী নেতাকে সংসদে ও দলে মাইনাস করার পরামর্শ দেন এরশাদকে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এরশাদকে ক্ষমতার টোপ দেন তারা। এর জন্য একমাত্র বাধা মনে করেন রওশনকে। তাকে মাইনাস করা না গেলে শেষ বয়সে এরশাদ সংসদে ও দলের মধ্যে কর্তৃত্ব দেখাতে পারবেন না- এসব বুঝিয়ে এরশাদকে প্রভাবিত করা হয়। জাপা চেয়ারম্যান কারো সঙ্গে পরামর্শ না করেই হুট করে তিনি নিজেই বিরোধী নেতা ও সংসদীয় দলের নেতা হবেন, এমন সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।

জানা গেছে, রওশন এরশাদ বিরোধী নেতা হলে অতীতের মতো দলের এই সিন্ডিকেট সামনে সংরক্ষিত মহিলা এমপির কোটা নিয়ে বাণিজ্য করতে পারবে না। এরশাদ থাকলে সেটা সম্ভব। কিন্তু পার্টির চেয়ারম্যানকে দিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্যসহ দলের যে কাউকে পদন্নোতি, বহিষ্কার সবকিছুই করা যায়। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একাদশ সংসদে এমপি মনোনয়ন নিয়ে বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে এ সময় ক্ষোভ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। প্রতিবাদে সিন্ডিকেটের বিচারের দাবিতে ঝাড়ু মিছিলও হয়। নারী এমপি মনোনয়নের বাণিজ্য করতে তারাই এখন রওশনকে সরিয়ে এরশাদকে বিরোধী নেতার আসনে বসাতে চান।

জানা গেছে, এইচ এম এরশাদ পার্টির চেয়ারম্যান হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারাই এরশাদকে দিয়ে জাতীয় পার্টিতে পদোন্নতি, বহিষ্কারসহ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। এসব মাথায় রেখে দলের এই সিন্ডিকেট যেকোনো মূল্যে রওশনকে দলের মধ্যে কর্তৃত্বহীন করতে চান। শুক্রবার এরশাদের সিদ্ধান্ত তারই অংশ বিশেষ।

দলের প্রভাবশালী এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘স্যার (এরশাদ) অসুস্থ। তার পক্ষে কোনোভাবেই বিরোধী নেতা ও সংসদীয় দলের নেতার দায়িত্ব পালন করা সম্ভব না। কিন্তু দলের চিহ্নিত গ্রুপটি ম্যাডামের বিরুদ্ধে খেপিয়ে ক্ষমতার টোপ দিয়ে পার্টির চেয়ারম্যানকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করেছেন। এতে স্যার ও ম্যাডামের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে। দল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ঠিকই তাদের স্বার্থ হাসিল হবে।’

এদিকে, কারো সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করে স্বৈরাচারী কায়দায় এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন দলের সংসদ সদস্যরা। তারা কোনোভাবেই অসুস্থ শরীরে অক্ষম অবস্থায় এরশাদকে বিরোধী নেতার দায়িত্বে দেখতে চান না। এ অবস্থায় করণীয় নির্ধারণে বিরোধী নেতাকে অনুরোধ করেন। এ বিষয়ে ফয়সালার জন্য যেকোনো সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হতে পারেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, অসুস্থতার কারণে যিনি ছিলেন বিছানায় শয্যাশায়ী, নির্বাচনী মাঠেও যেতে পারেননি, অন্যের সাহায্যে যিনি এখনো চলাফেরা করেন, এমনি অসহায় অবস্থায় স্ত্রী রওশন এরশাদের পরিবর্তে নিজেই বিরোধী নেতা ও সংসদীয় দলের নেতা হতে চান এরশাদ। শুক্রবার তার এই সিদ্ধান্ত চাওর হলে দলের নেতারা ক্ষুব্ধ হন।

দলের সংসদ সদস্যরা একদিন আগে যেখানে সরকারে থাকার জন্য দলের জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন, সেখানে একদিন পর এরশাদের এমন সিদ্ধান্তে বিস্ময়ে হতবাক বনে যান। দলের সাংসদরা উদ্বিগ্ন হয়ে সমানে ফোন করতে থাকেন বিরোধী নেতা রওশন এরশাদকে। তারা দলের নেতা-কর্মী ও সংসদ সদস্যদের মতামত ছাড়া এরশাদের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান বিরোধী নেতার কাছে।

জানা গেছে, জাতীয় পার্টি বিরোধী দলেই থাকুক, এরশাদের এই সিদ্ধান্তে বর্তমান বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ একমত। তিনিও চান এ অবস্থায় প্রকৃত বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে। কিন্তু কোনো আলাপ-আলোচনা ছাড়া হুট করে তাকে সরিয়ে বিরোধী নেতা ও সংসদীয় দলের নেতা দুটোই এইচ এম এরশাদ হবেন- এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়েছেন রওশন এরশাদ।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৪ জানুয়ারি ২০১৯/নঈমুদ্দীন/সাইফুল

     


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

রঙ বাংলাদেশের ঈদ পোশাক

২০১৯-০৫-১৯ ৯:৫৭:২৯ পিএম

১৪তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময়

২০১৯-০৫-১৯ ৮:৪৮:৩৩ পিএম

বিএএসএর ইফতার মাহফিলে স্পিকার

২০১৯-০৫-১৯ ৮:৪৪:৫৫ পিএম