২৩ লাখ ডলার পাচারে আরো ৯ প্রতিষ্ঠান, ৯ মামলার প্রস্তুতি

প্রকাশ: ২০১৯-০২-১৩ ৮:৩২:৪৪ পিএম
এম এ রহমান | রাইজিংবিডি.কম

এম এ রহমান মাসুম: প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ মার্কিন ডলার বিদেশে পাচারের দায়ে আরো ৯ প্রতিষ্ঠানের অন্তত ২৪ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানি লণ্ডারিং আইনে পৃথক মামলা করতে যাচ্ছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে এক যৌথসভা থেকে মামলা করার বিষয়ে অনুমোদন পেয়েছে সংস্থাটি। সভায় ১১ মামলার বিষয়ে আলোচনা হলেও ৯টি মামলার বিষয়ে অনুমোদন পায় সংস্থাটি। এখন চলছে মামলা করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি। এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি রাইজিংবিডিকে নিশ্চিত করেছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মিশওয়ার হোসিয়ারী মিলস প্রা: লিমিটেড, আসিয়ানা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, অ্যাপারেল অপশনস প্রা: লিমিটেড, ফ্যাশন ক্রিয়েট লিমিটেড, ডি কে অ্যাপারেলস লিমিটেড, ক্যাপরী অ্যাপারেলস লিমিটেড, সাদ ফ্যাশস ওয়্যার লিমিটেড, লিলাক ফ্যাশনওয়্যার লিমিটেড ও নাব ফ্যাশন লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এফওসি (ফ্রি অব কস্ট) এর ক্ষেত্রে প্রাপ্যতার চেয়ে অতিরিক্ত পারিমাণ পণ্য আমদানি ও জাল বা ভূয়া এফওসি দলিলের মাধ্যমে পণ্য আমদানি দেখিয়ে ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৩ দশমিক ২৩ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে শুল্ক গোয়েন্দার অনুসন্ধানে। যে কারণে বোর্ড সভায় মামলার অনুমতি চাওয়া হলে সভা তা অনুমোদন দেয়।

সভা সূত্রে জানা যায়, এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্ণর, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের একজন ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিসহ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় শুল্ক গোয়েন্দা ১১টি মামলার অনুমতি চাইলেও সভা থেকে ৯টি মামলা দায়েরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এনবিআর সূত্রে আরো জানা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৩ দশমিক ২৩ মার্কিন ডলার মিথ্যা ঘোষণা, জাল বা ভুয়া এফওসি দালিলের মাধ্যমে পণ্য আমদানির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে মিশওয়ার হোসিয়ারী মিলস প্রা: লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৫ লাখ ৪২ হাজার ৮৯৫ দশমিক ৫৬ মার্কিন ডলার, আসিয়ানা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৯৪৭ দশমিক ৫৮ মার্কিন ডলার, অ্যাপারেল অপশনস প্রা: লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৩১ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার, ফ্যাশন ক্রিয়েট লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৮৬ হাজার ৩১ মার্কিন ডলার, ডি কে অ্যাপারেলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৩৯ হাজার ৬৬৫ ডলার, ক্যাপরী অ্যাপারেলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৭ দশমিক ৭৭ ডলার, সাদ ফ্যাশস ওয়্যার লিমিটেডের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫১৩ দশমিক ৮৫ ডলার, লিলাক ফ্যাশনওয়্যার লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৫৯৫ দশমিক ৬০ ডলার এবং নাব ফ্যাশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৫২ হাজার ৩৯৬ দশমিক ৮৭ মার্কিন ডলার বিভিন্ন দেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে ব্যাংকের টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। আমার কাছে ১০ থেকে ১২টি মানি লন্ডারিং মামলার তথ্য রয়েছে। সেগুলোকে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনের মুখোমুখি করা হবে। টাকা পাচার রোধে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব রয়েছে।’

এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে তিনি ক্রিসেন্ট গ্রুপের বিরুদ্ধে ৫ মামলার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘ক্রিসেন্ট গ্রুপের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেশের বাইরে টাকা পাচারের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। ক্রিসেন্ট লেদার ৪২২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, রিমেক্স ফুটওয়্যার ৪৮১ কোটি ২৬ লাখ টাকা ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ ১৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বিদেশে পাচার করেছে। শুল্ক গোয়েন্দার তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় চকবাজার থানায় পৃথক ৩টি মামলা করা হয়েছে।’

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৯১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচারের দায়ে মানি লন্ডারিং আইনে ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ কাদের ও সরকারি ব্যাংকের দুই ডিএমডিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে পৃথক তিন মামলা দায়ের করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এ ঘটনায় ওই দিনই ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম এ কাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিন মামলায় আসামিরা হলেন- ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম এ কাদের, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা বেগম মনি, রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ ও এমডি লিটুল জাহান (মিরা), জনতা ব্যাংক লিমিটেডের ডিএমডি (সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন জিএম) মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ডিএমডি (তৎকালীন জিএম জনতা ব্যাংক লিমিটেড) ফখরুল আলম, জিএম মো. রেজাউল করিম, ডিজিএম কাজী রইস উদ্দিন আহমেদ, এ কে এম আসাদুজ্জামান, মো. ইকবাল, এজিএম (সাময়িক বরখাস্ত) মো. আতাউর রহমান সরকার, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (সাময়িক বারখাস্ত) মো. খায়রুল আমিন, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) মো. মগরেব আলী, প্রিন্সিপাল অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) মুহাম্মদ রুহুল আমিন, সিনিয়র অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) মো. সাইদুজ্জাহান, মো. মনিরুজ্জামান ও মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।

অন্যদিকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি রপ্তানি বিলের বিপরীতে জনতা ব্যাংক থেকে ১ হাজার ৭৪৫ কোটি ৬৬ লাখ ৭৯ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ক্রিসেন্ট গ্রুপের এম এ কাদের ও এম এ আজিজসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি মামলা দায়ের করে দুদক। যেখানে ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ কাদের, তার ভাই জাজ মাল্টিমিডিয়ার মালিক ও রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ, ক্রিসেন্ট গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাঁচ পরিচালক এবং ব্যাংকের ১৫ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/এম এ রহমান/শাহনেওয়াজ

   
 


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

‘অন্যায়ের সঙ্গে আপোস নয়’

২০১৯-০৩-১৯ ১০:৩০:১৬ পিএম