ভবিষ্যতের জন্য ঘর মেরামত করছে বিএনপি

প্রকাশ: ২০১৯-০৫-২২ ৭:৪৩:৪২ পিএম
রেজা পারভেজ | রাইজিংবিডি.কম

এসকে রেজা পারভেজ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল বিপর্যয়ের পর খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনসহ নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়াতে ঘর গোছানোর কাজ শুরু করেছে বিএনপি।  জেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ সব কমিটি ভেঙে করা হচ্ছে নতুন কমিটি।  হাত দেওয়া হচ্ছে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেও।

দলীয় সূত্র বলছে, কয়েক বছর ধরেই দল পুনর্গঠনে বড় ধরনের রদবদল আনতে চাচ্ছিল বিএনপি।  তবে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার কারণে তা হয়ে উঠছিল না।  অবস্থা এমন, অনেক জেলা কমিটির পুনর্গঠন হয় না প্রায় এক যুগেরও বেশি সময়। আবার অনেক অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনও নির্দিষ্ট সময় পার করলেও কমিটির জন্য ছটফট করছেন নেতা-কর্মীরা। সেখানেও হচ্ছে না নতুন কমিটি। এসব নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকট আকার ধারণ করেছে।

তবে এবার খুব কঠোরভাবেই দল পুনর্গঠনের কাজে হাত দিয়েছে বিএনপি।  লন্ডন থেকে এই কাজ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।  তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, দল পুনর্গঠনে কোনো ধরনের অসহযোগিতা করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  এরই মধ্যে বিভিন্ন জেলায় নতুন কমিটি দেওয়া হয়েছে। আরো বেশ কয়েকটি জেলা এই প্রক্রিয়ায় রয়েছে। দলটির নেতারা আশা করছেন, দ্রুত সব সাংগঠনিক জেলা পুনর্গঠনের আওতায় আসবে।

জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহল কুদ্দস তালুকদার দুলু রাইজিংবিডিকে জানান, তার বিভাগের অধিকাংশ জেলার কমিটি পুনর্গঠন হয়েছে।  যেসব এলাকায় হয়নি, সেগুলোও দ্রুততার সঙ্গে করতে অব্যাহত মিটিং চলছে।

তিনি বলেন, ‘দলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নতুন কমিটিগুলোতে ত্যাগী, যোগ্য  নিবেদিতদের আনা হচ্ছে। আশা করছি, বিএনপির তৃণমুল অতীতের চেয়ে আরো শক্তিশালী হবে। পুনর্গঠনের কাজ শেষ হলে আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে যাব। ’

রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘রংপুর বিভাগের মহানগরসহ ১০টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে।  আগে উপজেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ে পুনর্গঠন করা হচ্ছে।  এরই মধ্যে কয়েকটি জেলায়ও কমিটি করা হয়েছে।  আরো কয়েকটি পুনর্গঠনের আওতায় আছে।  কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এসে কমিটি করে দেবেন।  এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার পর রংপুর বিভাগের তৃণমূল আরো শক্তিশালী হবে। ’

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৃথকভাবে নিয়মিত জেলার শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। এসব বৈঠকে লন্ডন থেকে যুক্ত হচ্ছেন তারেক রহমান। বৈঠকে দল পুনর্গঠনের, অন্তর্কোন্দল নিরসন, খালেদা জিয়ার মুক্তি, ভবিষ্যৎ আন্দোলন, কর্মসূচি এবং দল পরিচালনার বিষয়ে তৃণমূল নেতাদের সার্বিক মতামত নেন তারেক রহমান।  মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন এবং যেসব জায়গায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই সেখানে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার ক্ষেত্রে তৃণমূলের পরামর্শও নেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, এসব বৈঠকে তৃণমূল নেতারা পরামর্শ দিয়েছেন দলের কোন্দল নিরসন করতে না পারলে এবং সঠিকভাবে কর্মসূচি দিতে না পারলে দলের সংকট দ্রুত কাটবে না।  তারা মেয়াদোত্তীর্ণ থানা, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে একবারে তৃণমূল পর্যন্ত কমিটি ভেঙে দিয়ে যোগ্য ও সাহসীদের দিয়ে কমিটি করার পরামর্শও দেন।  একইসঙ্গে নিয়মিত সভা করার মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত রাখা, নিষ্ক্রিয়দের বাদ দেওয়া, তৃণমূলে ক্ষতিগ্রস্ত নেতা-কর্মীদের তালিকা তৈরি ও সহায়তা দেওয়ার ওপর জোর দেন।

এদিকে. তৃণমূল গোছানোর সঙ্গে সঙ্গে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেও হাত দিয়েছে বিএনপি। খুব শিগগিরই মেয়াদোত্তীর্ণ ছাত্রদলের কমিটি হচ্ছে। আন্দোলন সংগ্রামে এক সময়ের সবচেয়ে অগ্রণী এই সংগঠনটিকে একেবারে ঢেলে সাজানোর কাজ করছেন স্বয়ং তারেক রহমান। এজন্য পদপ্রত্যাশী নেতাদের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করছেন তিনি। খুব শিগগিরই এই সংগঠনের দায়িত্বে নতুন কমিটি আসছে।

অন্যদিকে, ২০১৭ সালের অক্টোবরে স্বেচ্ছাসেবক দলের ‘সুপার ফাইভ’ কমিটি ঘোষণা দেওয়া হলেও তা এখনও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। একই বছরের ১৭ জানুয়ারি যুবদলের ‘সুপার ফাইভ’ ঘোষণা করা হয়। এ সংগঠনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি।  এই দুটি কমিটিও পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে। একইভাবে কৃষক দল, শ্রমিক দল, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন (জাসাস), তাঁতী দল ও মৎস্যজীবী দলের অবস্থা আরো বেহাল। একই অবস্থা চলছে অন্যান্য সংগঠনগুলোতেও।  ধারাবাহিকভাবে সব সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব আনছে বিএনপি।

দলের পুনর্গঠনের পাশপাশি বিভেদও শেষ করতে চাইছে বিএনপি।  এজন্য যেসব নেতা বিভিন্ন সময়ে বহিষ্কার হয়েছেন তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে দল তাদের সেই সুযোগ দিচ্ছে।  দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় ভুল স্বীকার করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য তাদের আবেদন করতে হবে।  দলের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্র। ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি আবেদন দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমাও পড়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ মে ২০১৯/রেজা/সাইফুল

     


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

বিচারাধীন মামলা ৩৫ লাখ ৮২ হাজার

২০১৯-০৬-১৮ ৮:২১:৪০ পিএম

নাসায় যাচ্ছে শাবির ৪ শিক্ষার্থী

২০১৯-০৬-১৮ ৮:১২:৩২ পিএম

ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেপ্তার

২০১৯-০৬-১৮ ৭:২৫:০২ পিএম