বন্ড ছেড়ে অর্থ সংগ্রহের প্রস্তাব নাকচ

প্রকাশ: ২০১৯-০৬-১০ ৮:০০:১৬ পিএম
কেএমএ হাসনাত | রাইজিংবিডি.কম

কেএমএ হাসনাত : বন্ডের গ্যারান্টার হওয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন ব্যাংক মূলধন ঘাটতি মেটানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে ১০ হাজার কোটি টাকার বন্ড ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, জনত ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক। অর্থ মন্ত্রণালয় ব্যাংকগুলোর এ প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এ ধরনের গ্যারান্টি দিলে তার দায় সরকারের ওপরই বর্তাবে। সরকার এ মুহূর্তে এ ধরনের দায় নিতে চাচ্ছে না। এর ফলে বন্ড ছেড়ে ব্যাংকগুলোর আর বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বন্ড ছেড়ে ব্যাংকগুলো বাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করে। এর বিপরীতে মেয়াদ শেষে বন্ড গ্রহীতাদের সুদে-আসলে তা পরিশোধ করতে হয়। কোনো ব্যাংক বন্ড ছেড়ে তহবিল সংগ্রহ করলে তার মেয়াদ শেষে গ্রাহককে সুদে-আসলে পরিশোধ করতে বাধ্য থাকে। কিন্তু সরকারি ব্যাংকগুলোর গ্যারান্টার হয় সরকার। গ্রাহকের অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে গ্যারান্টির কারণে মেয়াদ শেষে সরকারকেই পরিশোধ করতে হবে। এজন্যই সরকারি ব্যাংকগুলো বন্ড ছাড়ার আগে সরকারের গ্যারান্টি সংগ্রহের চেষ্টা করে।

সূত্র জানায়, বাজারে বন্ড ছেড়ে অর্থ সংগ্রহের জন্য ২০১৭ ও ২০১৮ সালের বিভিন্ন সময় ব্যাংকগুলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে গ্যারান্টি চেয়ে আলাদাভাবে আবেদন করে। সরকার গ্যারান্টি দিলে এসব বন্ড বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করত ব্যাংকগুলো। চারটি ব্যাংক থেকে বন্ড ছাড়ার আবেদনের পর মন্ত্রণালয় সেগুলোর ব্যাপারে মতামত চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বন্ডের বিপরীতে গ্যারান্টি দেওয়ার বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে।

বন্ড ছাড়ার গ্যারান্টার হওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানানো হয়, বন্ডের বিপরীতে গ্যারান্টি দেওয়া হলে তা দীর্ঘ মেয়াদে সরকারের দায়ে পরিণত হবে। এগুলো পরোক্ষ দায় হিসেবে বিবেচিত হবে। কেননা, বন্ডও এক ধরনের ঋণ। কোনো কারণে ব্যাংকগুলো বন্ডের অর্থ নিয়মিত পরিশোধ করতে না পারলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। বন্ডের ক্রেতাদের মুনাফাসহ অর্থ তখন সরকারকেই পরিশোধ করতে হবে। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করতে সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সুপারিশের পর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ব্যাংকগুলোর দেওয়া প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে ব্যাংকগুলোকে কোনো গ্যারান্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। গ্যারান্টি না পাওয়ার কারণে ব্যাংকগুলোও বন্ড ছাড়তে পারছে না। বন্ডগুলোর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের ৬ হাজার কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংকের ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংকের ১ হাজার কোটি টাকা এবং রূপালী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার বন্ড বাজারে ছাড়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের গ্যারান্টি চেয়েছিল।

সূত্র জানায়, এসব বন্ড বিক্রির অর্থ দিয়ে ব্যাংকগুলো তাদের তারল্যপ্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী ঋণ বিতরণের সক্ষমতা অর্জন করত। বর্তমানে ব্যাংকগুলো চাহিদা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করতে পারছে না। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো মূলধন ঘাটতি মেটানোর কাজেও এ অর্থ ব্যবহার করতে পারত। এসব অর্থ দক্ষতার সাথে বিনিয়োগ করতে পারলে ব্যাংকগুলোর আয় বাড়ত, মূলধন ঘাটতির দুর্নাম ঘুচিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবসা বাণিজ্যের খরচ কমাতে পারত। এতে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় কমত। ভোক্তা কিছুটা হলেও কম মূল্যে পণ্যের জোগান পেত।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, ঋণ জালিয়াতির কারণে সৃষ্ট মূলধন ঘাটতি মেটাতে সরকারের কাছ থেকে পর্যাপ্ত অর্থ না পেয়ে ব্যাংকগুলো বন্ড ছেড়ে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। এটাও সরকারের একটা প্রচ্ছন্ন দায় হবে। ব্যাংকগুলোকে প্রতি বছর জনগণের করের টাকা থেকে এভাবে মূলধনের জোগান না দিয়ে দুর্নীতি, জালিয়াতি বন্ধের পদক্ষেপ নিতে হবে। বাড়াতে হবে খেলাপি ঋণ আদায়। তাহলে ব্যাংকগুলোর মুনাফা বাড়বে। তখন মূলধন ঘাটতিও থাকবে না। বরং মুনাফা থেকে তারা রিজার্ভ তহবিলে অর্থ বাড়াতে পারবে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির বিপরীতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ দেড় হাজার কোটি টাকা কীভাবে দেওয়া হবে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বন্ডের বিপরীতে গ্যারান্টি দেওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে তা নাকচ করে দেওয়া হয়। এর আগে বেসিক ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে মন্ত্রণালয় তাদের বন্ডের গ্যারান্টি দেওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দেয়।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ জুন ২০১৯/হাসনাত/রফিক

     


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

বিচারাধীন মামলা ৩৫ লাখ ৮২ হাজার

২০১৯-০৬-১৮ ৮:২১:৪০ পিএম

নাসায় যাচ্ছে শাবির ৪ শিক্ষার্থী

২০১৯-০৬-১৮ ৮:১২:৩২ পিএম

ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেপ্তার

২০১৯-০৬-১৮ ৭:২৫:০২ পিএম