বিশ্বের শীর্ষ ২০ উদ্ভাবনী শহর

প্রকাশ: ২০১৮-১২-০৬ ১০:২৭:০৮ পিএম
মোখলেছুর রহমান | রাইজিংবিডি.কম

প্রতীকী ছবি

মোখলেছুর রহমান : বিশ্ব প্রযুক্তির সূতিকাগার হিসেবে বিবেচনা করা হয় সিলিকন ভ্যালিকে। গুগল এবং ফেসবুকের মতো বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সদর দপ্তর অবস্থিত সান ফ্রান্সিসকোর এই শহরটিতে। তবে বিশ্বের উদ্ভাবনী শহরের তালিকায় শীর্ষস্থানে জায়গা করে নিতে পারেনি সিলিকন ভ্যালি!

অস্ট্রেলিয়ান গবেষণা সংস্থা ‘টুথিংকনো’ সম্প্রতি ‘বিশ্বের সবচেয়ে উদ্ভাবনী শহর ২০১৮’ এর তালিকা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি ২০০৭ সাল থেকে এ তালিকা প্রকাশ করে আসছে।

আর এবারের এই তালিকার শীর্ষ ৫০টি উদ্ভাবনী শহরের প্রথম নামটি জাপানের টোকিও’র। ফলে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কোনো শহর ‘বিশ্বের সবচেয়ে উদ্ভাবনী শহর’ এর শীর্ষস্থানে উঠে আসলো।

তবে এবারের তালিকার সবচেয়ে বড় চমক টেক্সাসের অস্টিন। শহরটি ১৮ ধাপ এগিয়ে এ বছর ২৯তম স্থানে অবস্থান করছে। অন্যদিকে ১৭ ধাপ পিছিয়ে পড়াতে বার্সেলোনার বর্তমান অবস্থান ৩০।

সাংস্কৃতিক সম্পদ, মানবিক অবকাঠামো এবং নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান- মূলত এই তিনটি সূচকের ওপর নির্ভার করে এ জরিপটি চালানো হয়। এক নজরে দেখে নিন ‘বিশ্বের সবচেয়ে উদ্ভাবনী শহর ২০১৮’ এর তালিকায় থাকা শীর্ষ ২০টি শহরের নাম।

১. টোকিও, জাপান : ২০১৭ সালের চেয়ে ২ ধাপ এগিয়ে স্মার্ট এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেয়ার বদৌলতে এ বছর শীর্ষ স্থানটি দখল করেছে জাপানের এই শহরটি। সফটব্যাংক, হিটাচি, তোশিবা, সনি কর্পোরেশন এবৎ মিতসুবিশির মতো বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সদর দপ্তর অবস্থিত টোকিওতে।

২. লন্ডন, যুক্তরাজ্য : এ বছর র‌্যাংকিংয়ে একধাপ পিছিয়ে ২য় স্থানে অবস্থান শহরটির। বার্কলে, ট্রান্সফারওয়েজ, বিপি, এএসওএস ডটকম এবং মনজো এর মতো বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সদর দপ্তর অবস্থিত লন্ডনে।

৩. সিলিকন ভ্যালি, সান ফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া : র‌্যাংকিংয়ে এ বছর একধাপ উন্নতি হয়েছে সিলিকন ভ্যালির। অ্যাপল, গুগল (অ্যালফাবেট), ফেসবুক, এইচপি, ইন্টেল, নেটফ্লিক্স, এবং টেসলা’র মতো জনপ্রিয় সব প্রযুক্তি কোম্পানির কেন্দ্রস্থল এটি।

৪. নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র : ২ ধাপ পিছিয়ে বিশ্বের উদ্ভাবনী শহরের তালিকায় এ বছর নিউ ইয়র্কের অবস্থান ৪। উইওয়ার্ক, ভেরাইজন, আইবিএম ওয়াটসন এবং সিটিগ্রুপের সদর দপ্তর এই শহরেই অবস্থিত।

৫. লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া : ‘বিশ্বের সবচেয়ে উদ্ভাবনী শহর ২০১৮’ এর তালিকার ৫ম নামটি লস অ্যাঞ্জেলেস। র‌্যাংকিংয়ে এ বছর একধাপ উন্নতি হয়েছে শহরটির। স্ন্যাপ ইনক, স্পেসএক্স, রায়ট গেমস এবং হুলু’র সদর দপ্তর এটি।

৬. সিঙ্গাপুর : তালিকার ৬ষ্ঠ স্থানে থাকা সিঙ্গাপুরের গত বছর র‌্যাংকিং ছিল ৭। ডিবিএস ব্যাংক, সিঙ্কটেল, ক্যাপিটল্যান্ড লিমিটেড এবং ফ্লেক্স এর মূল কেন্দ্রস্থল এই শহর।

৭. বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস : ২০১৮ সালে র‌্যাংকিংয়ে ধাপ পিছিয়েছে শহরটি। জেনারেল ইলেকট্রিক, হাবস্পট, বাইন ক্যাপিটাল এবং বোস্টন ডাইনামিক্সের সদর দপ্তর এই শহরে।

৮. টরন্টো, কানাডা : ২০১৭ সালের তালিকাতেও শহরটির র‌্যাংকিং ছিল ৮। ওয়েলথসিম্পল, ইন্টারঅক্সন, ওয়াটপ্যাড, দ্য স্টারস গ্রুপের প্রধান কেন্দ্রস্থল এই শহরে অবস্থিত।

৯. প্যারিস, ফ্রান্স : টরন্টোর মতোই এ বছর র‌্যাংকিংয়ে কোনো পরিবর্তন হয়নি প্যারিসের। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অরেঞ্জ কমিউনিকেশনস, ডিজার, থ্যালস গ্রুপ এবং ডেইলিমোশন এর মতো নামকরা সব প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সদর দপ্তর অবস্থিত।

১০. সিডনি, অস্ট্রেলিয়া : ২০১৮ সালে র‌্যাংকিংয়ে বেশ উন্নতি হয়েছে সিডনির। ৪ ধাপ এগিয়ে এ বছর শহরটি ১০ম স্থানে অবস্থান করছে। ক্যানভা, আটলাসিয়ান, জিপ মানি, নুইক্স এর সদর দপ্তর রয়েছে এখানে।

১১. শিকাগো, ইলিনয় : র‌্যাংকিংয়ে ৯ ধাপ এগিয়েছে ইলিনয়ের এই শহরটি। গ্রাবহাব, বোয়িং, গ্রুপন, এবং মটোরোলা মোবিলিটির সদর দপ্তর রয়েছে এখানে।

১২. সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া : এ বছর র‌্যাংকিংয়ে ১ ধাপ অবনতি হয়েছে সিউলের। স্যামসাং, হুন্ডাই মোটর, এলজি ইলেকট্রনিক্স এবং এসকে হোল্ডিংস এর সদর দপ্তর এই শহরেই অবস্থিত।

১৩. ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ, টেক্সাস : ৩ ধাপ উন্নতি হওয়া এই শহরটিতে এটি অ্যান্ড টি, আমেরিকান এয়ারলাইন্স, টেক্সাস ইন্সট্রুমেন্টস, এনার্জি ট্রান্সফার ইক্যুইটি এর সদর দপ্তর অবস্থিত।

১৪. বার্লিন, জার্মানি : ২০১৮ সালে র‌্যাংকিংয়ে ৩ ধাপ উন্নতি হয়েছে শহরটির। সাউন্ড ক্লাউড, হ্যালোফ্রেশ, বাবেল এবং জাল্যান্ডো’র সদর দপ্তর রয়েছে এখানে।

১৫. সিয়াটেল, ওয়াশিংটন : ৬ ধাপ এগিয়ে এ বছর ১৫তম অবস্থানটি সিয়াটেল এর দখলে। এই শহরে অ্যামাজন, জিলো, কোয়ালটিক্স এবং রোভারের সদর দপ্তর অবস্থিত।

১৬. মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া : এ বছর র‌্যাংকিংয়ে ৯ ধাপ উন্নতি করা মেলবোর্নে রয়েছে রেডবাবল, টেলস্ত্র্রা, ক্যাটাপুল স্পোর্টস এবং সিএসএল লিমিটেডের সদর দপ্তর।

১৭. হাউসটন, টেক্সাস : র‌্যাংকিংয়ে ৫ ধাপ উন্নতি হয়েছে টেক্সাসের এই শহরটির। সিটগো, সিপ্যানেল, ফ্লাইটঅ্যাওয়ার এবং সিসকো’র সদর দপ্তর রয়েছে এখানে।

১৮. আমস্টারডাম, নেদারল্যান্ডস : এ বছর র‌্যাংকিংয়ে ৫ ধাপ অবনতি হয়েছে শহরটির। এই শহরটিতে রয়েছে বুকিং ডটকম, ফিলিপস, টমটম, বিটিসি ডটকম এর মতো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সদর দপ্তর।

১৯. ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া : আমস্টারডামের মতোই ভিয়েনাও ২০১৮ সালে র‌্যাংকিংয়ে অনেক পিছিয়ে পড়েছে। এ বছর ৯ ধাপ অবনতি হয়েছে শহরটির। ট্যুররাডার, কমপ্যানি, ট্রিকেন্টিস, রোবো ওয়ান্ডারকাইন্ড এর সদর দপ্তর রয়েছে এখানে।

২০. আটলান্টা, জর্জিয়া : অ্যাপটোস, ইউপিএস, ব্লুফিন, ক্রিকেট ওয়্যারলেস এর মতো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এ শহর থেকেই উঠে এসেছে।

তথ্যসূত্র : বিজনেস ইনসাইডার



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ ডিসেম্বর ২০১৮/ফিরোজ

   
 


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

টিভিতে আজকের খেলা

২০১৮-১২-১৫ ৮:৩৫:১৪ এএম

জ্বলে-পুড়েও মুগ্ধ দহন’র দর্শক

২০১৮-১২-১৫ ৮:০৭:৫২ এএম

এরশাদের ১৮টি নির্বাচনী অঙ্গীকার

২০১৮-১২-১৪ ৯:২৮:১৬ পিএম