যে বার্গার বাঁচাবে গরু!

প্রকাশ: ২০১৯-০১-১৬ ২:৩২:৩৪ পিএম
মো. রায়হান কবির | রাইজিংবিডি.কম

মো. রায়হান কবির : বিফ বার্গার পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি বার্গার। বিশেষ করে আমেরিকানদের কাছে বিফ বার্গার একটি সাধারণ পছন্দ। কিন্তু পরিবেশবাদী ও স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য ফ্যাটযুক্ত বিফ বার্গার মাথাব্যথার কারণ। আর কেউই চায়না প্রাণী পৃথিবী থেকে কমে যাক।

ফলে বছরের পর বছর ধরে গবেষণা চলছে মাংসের বিকল্প কিছু উদ্ভাবনের, যা কিনা মাংসের স্বাদ দেবে। অনেক গবেষণা চলেছে কিন্তু বিকল্পের খরচ পরে যায় অনেক অনেক বেশি। তাই এতদিন ধরে দেখা স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গিয়েছিল।

কিন্তু ২০১১ সালে গঠিত ইমপসিবল ফুড নামের প্রতিষ্ঠানটি নীরবে তাদের গবেষণা চালিয়ে গেছে। অবশেষে ২০১৬ তে তারা বাজারে আনে ইমপসিবল বার্গার ভার্সন ওয়ান। তখন এটা বেশ আলোচিত ছিল এই জন্য যে, এই বার্গারের পেটি (মাংসের তৈরি চপ) ছিল উদ্ভিজ্জ উপাদানের তৈরি। কিন্তু স্বাদ ছিল প্রায় মাংসের মতোই।

২০১৯ সালের ‘সিইএস ২০১৯’ অর্থাৎ কনজুমার ইলেকট্রনিক্স মেলায় প্রদর্শন করা হয় বার্গার! হ্যাঁ, একটি ইলেকট্রনিক্স মেলায় বার্গারের প্রদর্শনে কেউই অবাক হয়নি কারণ অনেকেই ইমপসিবল বার্গারের ব্যাপারে জানতেন। আসলে এটা একটা বার্গার হলেও এটা একটা আবিষ্কারের চেয়ে কম না। কেননা এবার বার্গারের পেটি হুবুহু গরুর মাংস বা বিফ দিয়ে তৈরি পেটির স্বাদ, গন্ধ ও চেহারা নিয়ে এসেছে। ফলে লাস ভেগাসের এবারের সিইএস ২০১৯ মেলার মূল আকর্ষণ ছিল ইমপসিবল বার্গার।

একটি একক প্রোটিন অনু দিয়ে প্রথমে তৈরি করা হয় লেগহিমোগ্লোবিন বা সংক্ষেপে ‘হিমি’ নামের উপাদান। পরে এটা দিয়েই তৈরি হয় ইমপসিবল বার্গার। আর মজার ব্যাপার হলো, এই উপাদানগুলো খুবই গোপনীয়। এটা এখন প্রকাশ করা হয়নি। তাছাড়া এই উপাদান সংগ্রহ করা হয় ইমপসিবল ফুডের চাষ করা এক ধরনের গাছ থেকেই। এই বার্গার সাধারণ বার্গারের চেয়ে লো ফ্যাট এবং লো কোলেস্টরেল। তাছাড়া এই বার্গারের জন্য কোনো প্রাণী বা গরু জবই করার দরকার হয়না। ফলে আমেরিকার মতো দেশে শুধু বিফ সংগ্রহের জন্য যেসব ফার্ম গড়ে উঠেছে সেখানে এখন থেকে চাষ করা যাবে গাছ, যা পৃথিবীর আবহাওয়া রাখবে ভালো এবং কমাবে কার্বন। এমন স্বপ্ন থেকেই তৈরি হচ্ছে ইমপসিবল বার্গার।

যদিও এই বার্গার একটু দাম বেশি। আমেরিকায় গড়ে বিফ বার্গারের দাম ১৫ ডলার আর ইমপসিবল বার্গারের দাম পরে ১৯ ডলার। তবে উৎপাদন বাড়লে এই দাম আরো কমে যাবে। ইমপসিবল বার্গার হংকং এবং ম্যাকাওতেও পাওয়া যাচ্ছে। ধীরে ধীরে তারা তাদের গন্ডি বাড়াচ্ছে। একদিন যদি প্রকৃত পক্ষেই গরুর মাংসের ব্যবহার কমে যায়, তবে স্বাস্থ্যের সঙ্গে বেঁচে যাবে পৃথিবীও!





রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ জানুয়ারি ২০১৯/ফিরোজ

   
 


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

মাতৃভাষা দিবস ও একুশের চেতনা

২০১৯-০২-২১ ৬:২৭:৪৫ পিএম

শিশুদের কলাগাছের শহীদ মিনার

২০১৯-০২-২১ ৫:০৯:৪১ পিএম

চকবাজারের ঘটনায় তারকাদের শোক

২০১৯-০২-২১ ৪:৫৪:০৭ পিএম

চুড়িহাট্টা এখন মৃত্যুপুরী

২০১৯-০২-২১ ৪:৩১:৩৫ পিএম

স্বজনরা লাশ বুঝে নিচ্ছেন

২০১৯-০২-২১ ৪:০৩:২৭ পিএম