‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গেই কাজ করতে ইচ্ছে করছে না’

প্রকাশ: ২০১৮-০২-১২ ৭:৩৫:৫৪ পিএম
ইয়াসিন | রাইজিংবিডি.কম

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী নন খালেদ মাহমুদ সুজন।

বড় স্বপ্ন নিয়ে জাতীয় দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হয়েছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন। ম্যানেজার থেকে তাকে দেওয়া হয় বড় দায়িত্ব। তার শুরুটাও ছিল দুর্দান্ত। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচের জয় তার পারমরম্যান্সকে নিয়ে যায় অনন্য উচ্চতায়।

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল হার এবং ঢাকা টেস্ট হারে মুদ্রার বিপরীত দিক দেখছেন জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে হচ্ছে সমালোচনা! একাধিক দায়িত্ব নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। বিষয়গুলো মনে আঘাত করেছে খালেদ মাহমুদের। তাই অনেকটা ক্ষোভ নিয়েই জাতীয় দলের সঙ্গে আর কাজ করতে চান না তিনি।

আজ মিরপুরে নিজের আক্ষেপের কথা শুনিয়েছেন সাংবাদিকদের। তারই চুম্বক অংশ দেওয়া হল রাইজিংবিডি’র পাঠকদের জন্য, 

প্রশ্ন: এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে মূল্যায়ন?
খালেদ মাহমুদ সুজন:
যে রকম আশা করছিলাম, সেটা তো হয়ইনি। হয়তো বা টেস্ট সিরিজটা আমরা জিততে পারতাম। সেটা হয়নি। আমরা যেরকম পরিকল্পনা করেছিলাম, যেটা কাজে লাগাতে চেয়েছিলাম সেটা ঠিকঠাক হয়নি। সবচেয়ে বড় জিনিস আমরা চাপটা নিতে পারিনি। আমরা ভালো খেলিনি। আমাদের মধ্যে জুজু, উইকেট নিয়ে ভয় বা নেতিবাচক চিন্তা যেটাই হোক আমাদের মধ্যে কাজ করেছে। উইকেট একটা অজুহাত মাত্র। বোলিং–ব্যাটিং আমরা ভালো করতে পারিনি।

প্রশ্ন: দলের পরিবেশ এখন কেমন। টি-টোয়েন্টি নিয়ে ভাবনা?
খালেদ মাহমুদ সুজন:
দলের পরিবেশ ভালো। যেটা আগেও ছিল। হারলে যেটা হয় হতাশ হয়ে পড়ে। কেউ হারতে চায় না। এখন আমরা নতুন একটা ফরম্যাটে ঢুকতে যাচ্ছি। ১৫ ও ১৮ তারিখের দুটি খেলায় মনোযোগ দিতে হবে। ওয়ানডে সিরিজ, টেস্ট সিরিজ হেরেছি। এখন বাকি টি–টোয়েন্টি। এটায় ফিরতে হবে। ছেলেদের কোনো চাপ দেব না।

প্রশ্ন: আপনি তো ভালোভাবেই দায়িত্ব শুরু করেছিলেন। সাফল্য এসেছিল দ্রুত?
খালেদ মাহমুদ সুজন:
প্রতিদিন সূর্য ওঠে। আমি হতাশ হলেও হতাশ নই! আমার প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। আমি বিশ্বাস করছিলাম এই দলটা নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জেতা সম্ভব। তিন সংস্করণেই চিন্তা করেছিলাম সিরিজ জিতব।

প্রশ্ন: নিদহাস কাপে আবার দায়িত্ব পালন করবেন?
খালেদ মাহমুদ সুজন:
এটা কোচিং এর বিষয় না, মানসিকতার বিষয়। অনেক ভালো কোচিং হয়েছে এবার। আমরা পারি নাই, কোচরা মাঠে খেলে না। এই ছেলেরাই আগে ভালো খেলেছে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে। নিদহাস কাপে বোর্ড ঠিক করবে সেটা বোর্ড সিদ্ধান্ত নিবে। কারণ পজিশনটা তো বোর্ড আমাকে দিয়েছে। কাজ করব না এই কথা কখনই বলতে চাই না। কিন্তু বাঙালি কেউ কাজ করলে সেটা আসলে সবচেয়ে বড় সমস্যা। আমি এখনো আছি টিকে এটাই সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশ হেরে যাওয়ার পরে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি আর আগ্রহী না। আমার আসলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গেই কাজ করতে ইচ্ছে করছে না। আমার আসলে নোংরা লাগছে সত্যি কথা বলতে গেলে। এতবছর বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে কাজ করছি, বাংলাদেশের উন্নতির জন্যই কাজ করছি। এখানে আমার কোন স্বার্থ নাই। আমি আর আগ্রহী না।



প্রশ্ন: নোংরা বলতে আসলে কোনটা বোঝাচ্ছেন?
খালেদ মাহমুদ সুজন :
সবকিছুই। আমার কথা হচ্ছে সব কিছুকে নিয়েই। এটা আসলে বলার কিছু নাই। আপনারাও জানেন, আমরাও জানি। নোংরা বলতে গেলে…মিডিয়াতে যেভাবে লেখা হয়। আমাদের ক্রিকেটের বড় অন্তরায় হচ্ছে আমরা এত ফিশি হয়ে যাচ্ছি। এখন মিডিয়া ফিশি। মিডিয়ার কারণে আমাদের ক্রিকেট আটকায়ে আছে কিনা সেটাও দেখতে হবে। এখন তো আসলে অনেক মিডিয়া….আসলে বেসিক ফিল আমার। ক্রিকেট আমরা এতবছর ধরে খেলতেছি। এত গসিপিং এখন। মিডিয়াতে ভালো-খারাপ সবই হবে। কিন্তু কিছু কিছু জিনিস নেতিবাচক হয়ে যাচ্ছে যা ক্রিকেটের জন্য খুব কঠিন। একটা ছেলেকে তুলে নিয়ে আসা এত সহজ না। একটা ডেভেলপমেন্ট থেকে আরম্ভ করে তাকে তৈরি করে তোলা অনেক কঠিন আসলে। কোচ কাজ করে, অনূর্ধ্ব-১৯ দল, এইচপি দল অনেক কিছু। এই কথাগুলো যদি ঠিক না হয় তাহলে আমার মনে হয় না বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক দূর যাবে ।

প্রশ্ন: তাহলে মিডিয়ার উপরে রাগ করে এমন সিদ্ধান্ত?
খালেদ মাহমুদ সুজন:
আমি তো গড নই। আমি তো খালেদ মাহমুদ সুজন। আমি খুবই সামান্য একটা মানুষ। আমি এখানে দাঁড়িয়ে কাজ করেছি, মানুষ স্বীকার করুক না করুক আমি এটা ভালোবাসি। আমি যখন শুরু করছি আপনারা হয়ত তখন খুব ছোট। জানেন না, হয়ত জানার কথাও না। আমি যখন শুরু করি ১২-১৩ বছর বয়সে। অন্য কিছু নিয়ে কথা বলা আমার মেজাজ খারাপ হতে পারে। টেকনিক হয়ত খারাপ হতেপারে। কিন্তু অন্য বিষয় নিয়ে যখন কথা বলে তখন এটা আমাকে খুবই আহত করে। সত্যি কথা বলতে গেলে যখন আসে যে আমি আবাহনীর প্রধান কোচ…আমি মোসাদ্দেককে খেলাই নাই এই কারণে যে আবাহনীতে খেলার জন্য। যখন জাতীয় ইস্যু নিয়ে কথা বলে তখনই এটা খুবই আহত করে। আমি মনে করি না বাংলাদেশের থেকে আবাহনী বা অন্য কিছু আমাকে বেশিঅনুভব করাতে পারে। জীবনেও ছুঁতে পারবে না, ছুঁতে পারেওনি। এইগুলা নিয়ে যখন কথা বলা হয় তখন আহত হই খুব। তখন মনে হয় এত বছর ক্রিকেটের সঙ্গে থেকে আসলে কি লাভটা হল। মোসাদ্দেক আর আবাহনী যদি বাংলাদেশের ম্যাচ হারার কারণ হয়ে যায়। তাহলে খুব কঠিন আসলে। ৫৩ বলে ৯ রান করছে আমিও দেখছি। আমারও ক্রিকেট জ্ঞান আছে, আমিও দেখছি। ’৮৩ সালে ক্রিকেট খেলা শুরু করছি। অনেক বছর হয়েছে। চুলও পেকে গেছে এখন। কে পারে, কে পারে না, কখন কাকে দরকার। এটা আমরাও বুঝি। আপনারা হয়ত আরও ভালো বুঝেন। এতকুট বোঝার ক্ষমতা আছে আমারও।

এখন….
খালেদ মাহমুদ সুজন:
আমার মনে হচ্ছে যে আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালো কিছু করতেছি না। তাহলে আমার এখানে থেকে লাভটা কি? স্বার্থের জন্য আসিনি। আমার যা আছে তা নিয়ে আমি খুব ভালো আছি। আমি খুব খুশি, এখানে চাকরি করি, যতটুকু পাই, বা যেভাবে চলি।

প্রশ্ন: তাহলে মিডিয়ার দাবি মেনে নিচ্ছেন?
খালেদ মাহমুদ সুজন:
না, মিডিয়ার দাবি মানছি না। আমি বলতে চাচ্ছি, আপনারা এটা প্রতিষ্ঠিত করতে চান। চান্ডিকা চলে গেল কেন? এটা প্রতিষ্ঠিত করানো হইছে। আমরা তো বাচ্চা খোকা না এখন। সবাই তো বড় হয়েছে। অনেক কিছু প্রতিষ্ঠিত করা হয়। আমার পিছনে যদি লেগে থাকা হয়, আমি কোনদিন ভালো করলেও ভালো হব না। এতবছর ভালো করলেতো শুনি নাই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলেন, গণমাধ্যম বলেন। আজকে এমনও শুনছি যে, রাস্তায় গেলে আমাকে মাইরও খাইতে হতে পারে। ক্রিকেট খেলার জন্য মাইর খেতে হইলে…এটা তো আসলে বেমানান।

প্রশ্ন: ক্ষোভ কি গণমাধ্যমের উপর না সামাচজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপরও?
খালেদ মাহমুদ সুজন:
সব কিছুই। আমার কথা হল কি দেখেন, মানুষের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। ড্রেসিং রুমের ভেতর কি হয়। কাচের ভিতরে বসে খেলা দেখা, আর মাঠে এসে খেলা। আমরা যারা খেলছি। যতই আমরা পরিকল্পনা করে দেই…চাপের পরিস্থিতিতে যখন বড় ব্যাটসম্যানও ভুল করে। এটা কেউ মানতে পারে না। আমরা মনে করি আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল। আমরা সব কিছুই জিতব। এই কাচের ভিতর থেকে যারা কাজ করি তাদের জন্য এতটা সহজ না আসলে। আমি আবেগপ্রবণ হয়ে গেছি হয়তোবা। আশা ছিল এই সিরিজটা জিতব। ওয়ানডেতে যেভাবে শুরু করেছিলাম, জেতা উচিত ছিল।



প্রশ্ন: উইকেট এবং কিউরেটর গামিনিকে নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে?
খালেদ মাহমুদ সুজন :
গামিনিকে নিয়ে অনেক কথা হয়। গামিনির কি ব্যাপার! ওতো চাকরি করে। ওকে বলা হয়েছে বোর্ড থেকে, ও সেভাবেই উইকেট বানিয়েছে। ওর দোষ কি? ওর চাকরি খাওয়া দরকার হয়ে গেছে? কেন আমরা ওর চাকরির পেছনে লাগলাম। উনি কি একবছর বাংলাদেশের জন্য ভাল কাজ করে নাই। চন্ডিকা যেভাবে উইকেট চেয়েছে সেভাবে বানিয়ে দেয়নি? এই উইকেট আমরা চেয়েছি। গামিনি ইচ্ছে করে বানিয়ে দেয়নি। ও একটা বিদেশী মানুষ বলে ওর ওপর চাপিয়ে দিয়ে বললাম ওকে শুলে চড়াও, ওকে মাইরা ফালাও। এটা ঠিক না। আপনারা কয়টা কিউরেটর তৈরি করতে পেরেছেন? কী পেরেছেন? আমরা হারছি একটাই কারণ আমরা ভাল ক্রিকেট খেলিনি।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/ইয়াসিন/আমিনুল

   
 


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

অবসরে আগ্নেয়স্কা রাদওয়ানস্কা

২০১৮-১১-১৪ ১০:৪৯:০৮ পিএম

কবে হবে মিরাজের টেস্ট সেঞ্চুরি?

২০১৮-১১-১৪ ৯:১২:৩১ পিএম

‘নির্বাচন এক ঘণ্টাও পেছাবেন না’

২০১৮-১১-১৪ ৮:২১:৫১ পিএম