বসন্ত প্রকৃতির নারী রূপ: মহাদেব সাহা

প্রকাশ: ২০২০-০২-১৪ ৯:১৩:২১ পিএম
মহাদেব সাহা | রাইজিংবিডি.কম

প্রেমই-বা কী, বসন্তই-বা কী, এটা কবির চোখ বুজে দেখা, রবীন্দ্রনাথের দেখা বসন্ত আগেও ছিল, প্রকৃতিতে ছিল। বলা যায়, রবীন্দ্রনাথই আমাদের জীবনে বসন্ত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মধুর বসন্ত’, এটি আমরা আগে জানতাম না; যদিও ইংরেজি সেই উক্তিটি মনে পড়ে, ‘ইফ উইন্টার কামস ক্যান স্প্রিং বি ফার বিহাইন্ড’। বুদ্ধদেব বসু তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থের নাম রেখেছিলেন, ‘শীতের প্রার্থনা, বসন্তের উত্তর’। খুব তাৎপর্যপূর্ণ নাম, বসন্ত আসলে শীতের প্রার্থনারই উত্তর।

শীত, হিম, কুয়াশা, জড়তা মানুষকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। বসন্ত হচ্ছে তা থেকে মুক্তি, শীতের পর প্রথম আনন্দ শিহরণ। প্রথম ফাল্গুনকে বলতেই পারি, প্রথম আনন্দ শিহরণ; আজ সেই দিন। প্রকৃত পক্ষে বসন্ত সৃষ্টি করেছেন কবিরা। বোধহয় বহু বছর আগে, যেমন কালিদাস লিখেছিলেন বর্ষা ঋতু মেঘ ঋতু ‘মেঘদূত’। রবীন্দ্রনাথ বসন্তকে নতুনভাবে সৃষ্টি করেছেন। বসন্ত নিয়ে অনেক গান আছে তাঁর, আমিও তাঁর সাথে মিলিয়ে, তাঁর পায়ে মাথা রেখে বসন্তের গান লিখেছি। খুব কম না, ৩০-৪০টির মতো।

বসন্ত মানুষের মনের মধ্যে যে অনুভূতি সৃষ্টি করে, যে উপলব্ধির জন্ম দেয়, তা কি প্রকৃতির কাছ থেকে আহরণ করা? আমি জানি না। কিন্তু প্রকৃতিকে আমি খুব বড় মনে করি। প্রকৃতি নিজের মধ্যে বসন্ত সাজিয়ে তোলে। ‘আজি এ বসন্তে এত ফুল ফুটে, এত পাখি গায়’, পলাশ ফুটেছে, ক’দিন পরই কৃষ্ণচূড়া, গোলাপ লালের চেয়েও বেশি লাল হয় বসন্তে। বসন্তের গোলাপ যেন বসন্তেরই গোলাপ।

প্রেমের কথা যদি বলি, মানুষ প্রেমে পড়ে এই গোলাপ দেখে, এই ফুল দেখে, এই প্রকৃতি দেখে। প্রকৃতি যেন অলক্ষে থেকে মানুষের মনে প্রেম তৈরি করে। কানে কানে প্রেমের গান শোনায়, ভালোবাসার মন্ত্র বলে দেয়। শীতের পরে বসন্ত হচ্ছে প্রকৃতির নারী রূপ- সবিতা, পুষ্পিতা, রূপময়ী; তারপরও বসন্তকে আমরা কেন যে ‘ঋতুরাজ’ বলি! রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘এত প্রেম আমি কোথা পাব সখা?’, এই বসন্তই যেন খুলে দেয় প্রেমের সহস্র দরজা, ভালোবাসার দুয়ার। আমি তারপরও বলব, বসন্ত বনে নেই, বসন্ত আছে মনে। জয় হোক বসন্তের।


ঢাকা/তারা


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

বিদেশফেরত অনেকেই আত্মগোপনে

২০২০-০৪-০১ ৫:১৫:৫৪ এএম