প্রতিবন্ধিতা দমাতে পারেনি রাসেলকে

প্রকাশ: ২০১৯-১১-১৫ ৮:৫৯:৪৩ এএম
নাটোর সংবাদদাতা | রাইজিংবিডি.কম

দুই হাত নেই। ডান পা নেই। বাম পা আছে, তবে তা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক ছোট। সেই পায়ের আঙুলের ফাঁকে কলম নিয়ে লিখে রাসেল মৃধা (১৪)।

শারীরিক প্রতিবন্ধিতা দমাতে পারেনি রাসেল মৃধাকে। সে নাটোরের সিংড়া উপজেলার শোলাকুড়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা দিচ্ছে। তার এই অদম্য স্পৃহা শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সবাইকে বিস্মিত করেছে।

পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সবাই বেঞ্চে বসে একমনে খাতায় লিখে যাচ্ছে প্রশ্নের উত্তর। তাদের পাশে বসে লিখছে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রাসেল মৃধা। তার হাতে কলম নেই। বিশেষ কৌশলে বেঞ্চের ওপর খাতা রেখে সেখানে বসেই ছোট্ট বাম পায়ের দুই আঙুলের ফাঁকে কলম রেখে মনোযোগ দিয়ে লিখে যাচ্ছে সে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা দমাতে পারেনি তাকে।

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী সাইফুল ইসলাম বলেন, শুধু একটি ছোট্ট পা নিয়েই রাসেলের জীবন সংগ্রাম। সে পা দিয়ে লিখে এবং শুকনো খাবার খায়। লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ আর মনের জোরে বাম পায়ে কলম ধরে সে পরীক্ষা দিচ্ছে।

রাসেল সিংড়া পৌর শহরের শোলাকুড়া মহল্লার দিনমজুর আব্দুর রহিম মৃধার ছেলে। ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও হাল ছাড়েননি রাসেলের বাবা-মা। তাকে স্থানীয় শোলাকুড়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেন।

রাসেলের মা লাভলী বেগম জানান, দুটি সন্তান নিয়ে তিনি সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবন্ধী এই ছেলের বেঁচে থাকার জন্য একটি কর্মই তাদের আশা। সরকারি সহায়তা পেলে রাসেলকে উচ্চ শিক্ষিত করে তুলবেন তারা।

শোলাকুড়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার কেন্দ্র সচিব মো. নাজমুল হক বলেন, শুধু ছোট্ট একটি পা দিয়ে রাসেলের পরীক্ষা দেয়াটা সবাইকে বিস্মিত করেছে। তার জন্য সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধাসহ অতিরিক্ত সময়ও বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সিংড়া উপজেলার মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ও কেন্দ্র তদারকি কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ পাল বলেন, ছেলেটি ছোট্ট একটি পা দিয়ে সুন্দরভাবে লিখে পরীক্ষা দিচ্ছে। তার অদম্য স্পৃহা সকলকে মুগ্ধ করেছে।

 

নাটোর/আরিফুল ইসলাম/রফিক


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

আর্চারিতে ছক্কা হাঁকালো বাংলাদেশ

২০১৯-১২-০৮ ৬:৩৪:৫৮ পিএম

আর্চা‌রি থে‌কে ষষ্ঠ সোনা

২০১৯-১২-০৮ ৫:৪৫:৪০ পিএম

বিদ্রূপের জবাব দিলেন সোনাক্ষী

২০১৯-১২-০৮ ৪:০৪:০৪ পিএম

আর্চা‌রিতে পঞ্চম সোনা

২০১৯-১২-০৮ ৩:৫৪:২৫ পিএম