‘স্কোয়াশ’ চাষ করে সফল আনোয়ার

প্রকাশ: ২০২০-০১-২০ ১১:৫৫:৩৮ এএম
নওগাঁ সংবাদদাতা | রাইজিংবিডি.কম

নওগাঁর রাণীনগরে রকমারি সবজি চাষি আনোয়ার হোসেন স্কোয়াশ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন।

শীত মৌসুমে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি স্বল্প পরিমাণ জমিতে পরীক্ষামূলক স্কোয়াশ চাষ করে একদিকে যেমন সফলতা পেয়েছেন অন্যদিকে লাভবানও হয়েছেন তিনি।

চাষি আনোয়ার হোসেন কালীগ্রাম দীঘির পার গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।

তিনি জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে ঝিঙ্গা, লাউ, মুলা, টমেটো, বাঁধা ও ফুলকপিসহ বিভিন্ন ধরণের সবজি চাষ করে থাকেন। এরমধ্যে ধাপের হাটে স্কোয়াশ দেখে এসে আদমদীঘি উপজেলার এক বীজ বিক্রেতার পরামর্শে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক স্কোয়াশের বীজ নেন।

বাড়িতে মিস্টি কুমড়া বা লাউয়ের মতো বীজ বপন করে গাছ গজিয়ে পরে জমিতে রোপণ করেন। প্রায় দেড় মাস পর ফল আসতে শুরু করে। স্কোয়াশ গাছ একদম মিষ্টি কুমড়ার মতো। পাতা, ডগা, কাণ্ড দেখে বোঝার উপাই নেই যে, এটি মিস্টি কুমড়া নাকি স্কোয়াশ গাছ।

মিস্টি কুমড়া গোল হলেও স্কোয়াশ দেখতে বাঙ্গির মতো লম্বা। কিন্তু স্বাদে ও পুষ্টিতে এটি মিস্টি কুমড়ার মতো। তবে মিস্টি কুমড়ার গাছ অনেক লম্বা হলেও স্কোয়াশের গাছ সর্বোচ্চ এক-দেড় ফিট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এই সবজি পাহাড়ি এলাকা এবং বিভিন্ন দেশে চাষ হলেও দেশের এই অঞ্চলে এটি একেবারেই নতুন।

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রায় আট শতক জায়গায় পরীক্ষামূলক চাষ করেছি। বীজ ও কীটনাশক বিক্রেতার পরামর্শে পরিচর্চা করেছি। প্রথম চাষ, তাই পরিচর্চা বুঝতে এবং খরচ একটু বেশি হয়েছে। তবে একটি স্কোয়াস বাজারে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় বেশ লাভ হয়েছে। স্বল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় আগামীতে আরো বেশি পরিমাণ জমিতে এই স্কোয়াশ চাষ করবো।’

চাষীর তথ্য মতে, বীজ ক্রয়, জমি প্রস্তুত, লাগানো এবং সার, কিটনাশকসহ আট শতক জমিতে মাত্র প্রায় দেড় হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু এপর্যন্ত জমি থেকে প্রায় ছয় হাজার টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করেছেন। এছাড়া এখনো প্রায় দুই আড়াই হাজার টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

আনোয়ার হোসেন আরো জানান, প্রতি স্কোয়াশ দেড় থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। সবজি হিসেবে এই এলাকায় স্কোয়াশ নতুন হওয়ায় এর চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে ও স্কোয়াশ ক্ষেত দেখতে স্থানীয় অন্যান্য সবজি চাষিরা আসছেন। তার স্কোয়াস চাষে এলাকার সাধারণ কৃষকরা বেশ অনুপ্রাণিত এটা দেখে তিনি উচ্ছ্বসিত।

একই উপজেলার সিম্বা গ্রামের সৌরভ খন্দকারও চাষ করেছেন স্কোয়াশ। তিনি তিন কাঠা জমিতে চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। বাজারে এই সবজিটি নতুন বলে এর বেশ চাহিদা রয়েছে। ভাল লাভ হওয়াতে তিনিও বেশ খুশি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, স্কোয়াশ রাণীনগরের দু’একটি জায়গায় প্রথমবার পরীক্ষামূলক চাষ হয়েছে। তবে স্কোয়াশ চাষে আমাদের তেমন ধারণা নেই। এই এলাকায় যে দু’একজন চাষ করেছেন তারা সফল ও লাভবান হয়েছেন। তাদের দেখা-দেখি অনেকেই অফিসে আসছেন পরামর্শ নিতে। কিন্তু সঠিক ধারণা না থাকায় কৃষকদের পরামর্শ দিতে সমস‌্যা হচ্ছে। তারপরেও আমরা যেটুকু ধারণা নিয়েছি তা থেকে বলা যায়, স্কোয়াশ চাষ বেশ লাভজনক। আশা করছি, আগামী মৌসুমে ব্যাপক আকারে স্কোয়াশ চাষ হবে।


সাজু/বুলাকী

     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

জমি নিয়ে বিরোধ

পাবনায় যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ

২০২০-০২-২৪ ১২:৪৬:৩৭ এএম

পাপিয়াকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর

২০২০-০২-২৩ ১০:৩১:৩৮ পিএম

বুয়েট হলে সিট পেতে সাত শপথ

২০২০-০২-২৩ ১০:২৬:১৭ পিএম