নিজেদের তৈরি শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানালো শিশুরা

প্রকাশ: ২০২০-০২-২১ ৫:০৪:৫৩ পিএম
জয়পুরহাট সংবাদদাতা | রাইজিংবিডি.কম

ইট, মাটি আর পরিত্যক্ত টাইলস দিয়ে এক সপ্তাহ ধরে শহীদ মিনার বানিয়েছে সাত শিশু। তাদের মধ‌্যে কেউ শিশু শ্রমিক, কেউ শিক্ষার্থী। শুক্রবার মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সেখানে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছে তারা। 

জয়পুরহাট সদর উপজেলার খঞ্জনপুর বাজারের একটি পরিত্যক্ত ক্লাব ঘরের জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে ওই শহীদ মিনার।

ওই এলাকার পুরাতন ভূমি অফিসের সামনে দীর্ঘদিন আগে নির্মাণ করা শহীদ মিনারটি ভেঙে গেছে কয়েক বছর আগে। এখন আর কোনো শহীদ মিনার নেই সেখানে। তাই ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে মহল্লার কোমলমতি সাত শিশু তৈরি করেছে নতুন শহীদ মিনার।

শুক্রবার সরেজমিনে খঞ্জনপুর বাজারে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, মহল্লার শিশুরা তাদের তৈরি করা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। শহীদ মিনারটি তৈরি করা হয়েছে ইটের ওপর মাটির প্রলেপ দিয়ে। লোহার রডের স্থলে ব‌্যবহার করা হয়েছে বাঁশ। স্থানীয় মসজিদের পরিত্যক্ত টাইলস বসানো হয়েছে এর বেদীতে।

সাত দিন ধরে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করেছে ওই মহল্লার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিরব, তৃতীয় শ্রেণির রিফাত ও হিয়া, সপ্তম শ্রেণির সিবা ও হৃদয় এবং শিশু শ্রমিক আপন ও আকাশ।

স্থানীয় খঞ্জনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিরব বলে, আমাদের মহল্লার ভূমি অফিসের সামনের শহীদ মিনারটি কয়েক বছর আগে ভেঙে গেছে। এটি কেউ মেরামত করে না। শহীদ মিনার ভাঙা থাকায় আমরা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারি না। তাই আমরা কয়েকজন মিলে সাত দিন পরিশ্রম করে ইট, মাটি ও টাইলস এবং সামান্য সিমেন্ট কিনে এই শহীদ মিনার নির্মাণ করেছি। এতে আমাদের খরচ হয়েছে ৩০০ টাকা। এসব টাকা আমরা সবাই মিলে দিয়েছি।

শহীদ মিনারের ডিজাইন কে করেছে, জিজ্ঞেস করলে শিশু শ্রমিক আকাশ বলে, মহল্লার ভাঙা শহীদ মিনার দেখে আমরা এটি নির্মাণ করেছি। অভাবের কারণে আমি স্কুলে যেতে পারিনি। আমি স্থানীয় একটি গ্যারেজে মেকানিক‌্যাল কাজ শিখছি। বন্ধুরা উদ্যোগ নেয়ায় আমিও তাদের সহযোগিতা করেছি। সকালে এসে সবাই মিলে আমাদের নির্মাণ করা শহীদ মিনারে ফুল দিয়েছি।

রিফাত বলে, সকালে ফুল সংগ্রহ করার পর শহীদ মিনারে গিয়ে সবার সাথে আমিও ফুল দিয়েছি।

স্থানীয় যুবলীগ নেতা মোসাদ্দেক বিল্লাহ ও আব্দুল মজিদ বলেন, আমাদের মহল্লায় যে শহীদ মিনার ছিল, সেটি কয়েক বছর আগে ভেঙে গেছে। এরপর বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেছি। কিন্তু শহীদ মিনারটি সংস্কারের ব্যাপারে কেউ এগিয়ে আসেনি। পুরাতন শহীদ মিনারটি সংস্কার করা হলে কোমলমতি শিশুদের এভাবে কষ্ট করে শহীদ মিনার নির্মাণ করতে হবে না।

 

জয়পুরহাট/শামীম কাদির/রফিক


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

সুখবর পেলেন কণিকা কাপুর

২০২০-০৪-০৫ ১১:৪৩:০৬ এএম

মাদারীপুরে জ্বরে ১ জনের মৃত্যু

২০২০-০৪-০৫ ১১:৩৪:১৭ এএম

‘ক্রিকেটের ব্রাজিল’পাকিস্তান!

২০২০-০৪-০৫ ১১:০৯:৩০ এএম

অসহায় মানুষের পাশে মমতাজ 

২০২০-০৪-০৫ ১০:৩৫:০১ এএম