কুমিল্লায় ১০ জনের করোনা পজিটিভ, ঢাকায় নেগেটিভ!

প্রকাশ: ২০২০-০৬-০৫ ৮:৪৯:৩১ পিএম
কুমিল্লা প্রতিনিধি | রাইজিংবিডি.কম

কুমিল্লায় পিসিআর মেশিনের করোনা পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সেখানে পরীক্ষা করানোর পর যেসব ব‌্যক্তির রেজাল্ট করোনা নেগেটিভ এসেছে, ওই একই ব‌্যক্তির রেজাল্ট ঢাকায় পরীক্ষার পর পজিটিভ এসেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ।

সম্প্রতি কুমিল্লা মেডিক‌্যাল কলেজে (কুমেক) স্থাপিত পিসিআর ল্যাবে নাঙ্গলকোট উপজেলার ১০ ব‌্যক্তির করোনা পরীক্ষায় পজেটিভ আসে। পরে তাদের নমুনা ঢাকায় পরীক্ষা করা হলে সেখানকার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেব দাশ দেব বলেন, ‘পরীক্ষার রিপোর্টের সাথে রোগীদের শারীরিক লক্ষণে গরমিল থাকায় আমাদের সন্দেহ হয়। তাই, তিনদিন পর আক্রান্ত ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনের নমুনা আবার ঢাকায় পাঠাই। ৩মে ওই ১০ জনেরই নেগেটিভ ফলাফল আসে। এছাড়া কুমেকে দুজনকে নেগেটিভ বলা হলেও ঢাকার রেজাল্টে তাদের পজেটিভ আসে। এই ভুল রিপোর্টের কারণে সংশ্লিষ্টরা সামাজিক ও মানসিক ভোগান্তিতে পড়েছেন।’

ডা. দেব দাশ দেব আরও বলেন, ‘চিকিৎসক ও স্টাফদের নেগেটিভ ঘোষণা করে কাজে যোগদান করাতে বলেছেন আইডিসিআর এর বায়োলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. তাহমিনা শিরিন। অন্যদের পজিটিভ ফলাফল নিয়েও আমার সন্দেহ রয়েছে। তাই, আগামীতে আর কুমিল্লা মেডিক‌্যাল কলেজে নমুনা পাঠাব না। ’

দেবিদ্বার উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহমেদ কবীর বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারি না। আমরা সিভিল সার্জন অফিসে লিখিতভাবে জানিয়েছি। সেখানে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেছি যে, আমাদের প্রেরিত নমুনার ফলাফল পেতে অনেক বিলম্ব হয়, ফলাফল আনুপাতিক হারে পজেটিভ বেশি আসে এবং কিছু ফলাফল অসম্পূর্ণ থাকে।’

এদিকে নাঙ্গলকোট উপজেলার করোনা পজিটিভ ৭৯ জনের নমুনা পুনরায় আইইডিসিআর-এ পাঠানোর দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী ব‌্যক্তি ও তাদের পরিবার।

তারা বলেন, ‘করোনাভাইরাস পরীক্ষায় ভুল রিপোর্টের কারণে পরিবারগুলোর মধ‌্যে বিপর্যয় নেমে এসেছে। তারা সামাজিকভাবেও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।’

অন‌্যদিকে কুমিল্লা মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের দেওয়া ভুল রিপোর্টের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৪ দিন ধরে লকডাউনে রয়েছে। এতে উপজেলার ছয় লাখ মানুষ চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছেন।

সেন্টার ফর সোসাল সার্ভিসেসের পরিচালক অধ্যক্ষ সায়েম মাহবুব বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে সংগ্রহ করা ৬০৪ জনের নমুনার মধ্যে ৭০ ভাগই কুমিল্লা মেডিক‌্যালের রিপোর্ট বলে জানা গেছে। এছাড়া এখনো ৯২ জনের রিপোর্ট প্রক্রিয়াধীন। এ নিয়ে জনমনে ব্যাপক সংশয় দেখা দিয়েছে।’

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াতুজ্জামান বলেন, ‘ভুল হতেই পারে। এতে চিকিৎসকদের কিছু সমস্যা হয়েছে। এ নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোস্তফা কামাল আজাদ বলেন, ‘এই পরীক্ষার ৩০ ভাগ বদলে যেতে পারে। তাছাড়া নমুনা সংগ্রহে সতর্ক না হলে কিংবা দেরিতে জমা দিলে সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় না। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ২৪ ঘণ্টার বেশি নমুনা ভালো থাকে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন দুই শিফটে ১৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করতে পারি। কিন্তু নমুনা আসছে সাড়ে চারশ’ থেকে পাঁচশ জনের। মেশিন ও জনবলের সঙ্কট রয়েছে। চিকিৎসক ও স্টাফরা রাত দুইটা পর্যন্ত কাজ করছেন।’



ইমরুল/সনি


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

টিভিতে আজকের খেলা

২০২০-০৭-০৭ ৮:৩৬:৩৪ এএম

আমার দেখা টোকিও (পর্ব-৬)

২০২০-০৭-০৭ ৭:৫৬:৪৫ এএম