কারাগারের ইতিহাস এবং কিছু কথা

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-০৭ ১০:৫৪:৪৬ এএম
জিএম আদল | রাইজিংবিডি.কম

জিএম আদল: কারাগার একটি বিশেষ আবাসস্থল, যেখানে আসামিরা অবস্থান করেন। জেলখানা বা কারাগার নিয়ে জনমনে রয়েছে নানা আগ্রহ। কারাগার নিয়ে রচিত হয়েছে নানা বই, সিনেমা, এমনকি গানও রচিত হয়েছে যুগে যুগে।

জনপ্রিয় বাংলা গানের মধ্যে ‘আমি বন্দী কারাগারে’ বইয়ের মধ্যে রয়েছে কারাগারে রোজনামচা।

তবে কখনো কী আমরা ভেবে দেখেছি কারাগার প্রথার উদ্ভব কখন, কোথায়, কীভাবে ঘটেছিল। 

এ নিয়ে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মতামত রয়েছে। তবে ইতিহাস ঘাটলে যে তথ্য পাওয়া যায়, তা হলো ৬৪০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে রোমের নানা জায়গায় কারাগার তৈরি করতে দেখা যায়। এগুলোর বাড়ির বেজমেন্টে স্টিলের তৈরি বিভিন্ন খাঁচায় বন্দীদের আটকে রাখা হতো। সেখানে নানা সময় তাদের উপর অত্যাচার করা হতো।

১৫৫২ সালে লন্ডনে St. Briget’s Well প্রাসাদ প্রথম কারাগার হিসেবে চিহ্নিত হয়। রাষ্ট্রীয়, সামাজিক বিভিন্ন দিক থেকে কারাগারের উপযোগিতা উপলব্ধি করে ১৫৯৭ সালে বৃটিশ সরকার এ ধরনের আরো কয়েকটি কারাগার প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়। ১৬০০ সালে লন্ডনের প্রত্যেক কাউন্টিতে কারাগার তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়।

মুঘল আমলে কিল্লাসমূহে ছোট পরিসরে কিছু কিছু কয়েদখানা ছিল, যা কর্তা-ব্যক্তিদের মৌখিক হুকুমে নিয়ন্ত্রিত হতো।

ভারতের রাজা অশোকের সময়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দীকে তিন দিন একটি কুঠুরিতে বেঁধে রাখা হতো৷

এ ধরনের কয়েদ খানার অস্তিত্ব জমিদারী ব্যবস্থাপনায় ছিল। ইংরেজরা ভারতবর্ষের ক্ষমতা দখলের পর মুঘলদের রেখে যাওয়া কারাগারগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান করে। উপমহাদেশের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগমনের পর মূলত কারা ব্যবস্থাপনা নতুন আঙ্গিকে প্রকাশ পেতে থাকে। ঐ সময়ে অধিক নিরাপত্তা সম্বলিত বড় কারাগারগুলোকে কেন্দ্রীয় কারাগার, জেলা সদরে অবস্থিত কারাগারগুলোকে জেলা কারাগার এবং মহকুমা সদরে অবস্থিত কারাগারগুলোকে উপ-কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৭৭২ সালে ভারতবর্ষের গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত সৃষ্টি করেন। সে সময় কারাগারগুলো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।

১৭৮৮ সালে একটি ক্রিমিনাল ওয়ার্ড নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকা কারাগারের কাজ শুরু হয়৷ ১৮৬৪ সালে সকল কারাগার পরিচালনা ব্যবস্থাপনার মধ্যে এক সমন্বিত কার্যক্রম প্রতিষ্ঠিত হয় Code of rules চালুর মাধ্যমে৷ ১৯২৭ সালের এপ্রিলে কিশোরদের জন্য বাকুড়ায় (ভারত) প্রথম Borstal Institute স্থাপিত হয়৷ ১৯২৯ সালে অবিভক্ত বাংলায় কলকাতার প্রেসিডেন্সি, আলীপুর, মেদিনিপুর, ঢাকা ও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার হিসেবে ঘোষিত হয়৷ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর চারটি কেন্দ্রীয় কারাগার, ১৩টি জেলা কারাগার এবং ৪৩ টি উপ-কারাগার নিয়ে বাংলাদেশ জেল(বি ডি জে) এর যাত্রা শুরু৷ পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালে বন্দী সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে উপ-কারাগারগুলোকে জেলা কারাগারে রূপান্তর করা হয়৷ বর্তমানে ১৩টি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ৫৫টি জেলা কারাগার নিয়ে বাংলাদেশ জেল কাজ করে চলছে৷

পাগলা ঘণ্টা’শব্দটি জেলখানায় বহুল প্রচলিত একটি শব্দ। প্রতিটি জেলখানার প্রধান ফটকে (গেট) ঘণ্টা বসানো থাকে। বিশেষ পরিস্থিতিতে এ ঘণ্টা বাজানো হয়। কোনো বন্দী পলায়ন করলে ও কোনো বিদ্রোহ দেখা দিলে সাধারণত এ ঘণ্টা বাজিয়ে সকলকে সতর্ক করে দেয়া হয়। তখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

কারাগার মানেই বন্দী জীবন। বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন এক জীবনের নাম। একটাই কামনা করি, এমন জীবনের সাথে কেউই না জড়াক। মুক্তি পাক সকল নির্দোষ কারাবরণকারী।

লেখক: শিক্ষানবিশ আইনজীবী, ঢাকা জজ কোর্ট ও শিক্ষার্থী, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯/জিএম আদল/হাকিম মাহি


   


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

এরশাদের আসনে নির্বাচন

লাঙ্গল-ধানের শীষ মাঠে নামাতে পারেনি

২০১৯-০৯-১৬ ৯:০২:৪৩ এএম

১৯৭২ সালের পর...

২০১৯-০৯-১৬ ৮:৪৫:১০ এএম

এক বাড়িতেই ঢাকার ইতিহাস

২০১৯-০৯-১৬ ৮:৩৮:০৫ এএম

আয়ুষ্মানের আট বছরের অপেক্ষা

২০১৯-০৯-১৬ ৮:২২:৩২ এএম

টিভিতে আজকের খেলা

২০১৯-০৯-১৬ ৮:১৬:৩০ এএম

‘প্রথম ১০ মিনিটের ভুলে হেরে গেছি’

২০১৯-০৯-১৬ ১২:৩৯:৪৫ এএম

চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন

২০১৯-০৯-১৬ ১২:২৮:২৪ এএম

বিশ্ব ওজোন দিবস আজ

২০১৯-০৯-১৬ ১২:১৬:২৯ এএম