দ্বিতীয় পর্ব

হ্যাকিং বন্ধ হবে যেভাবে...

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-১২ ১১:৪২:৪০ এএম
অনিক রহমান | রাইজিংবিডি.কম

অনিক রহমান:  ফেসবুক আইডির সুরক্ষা নিয়ে এ পর্বে থাকছে আরো কিছু করণীয়। গত পর্বের প্রাথমিক পদক্ষেপের সাথে আজকের এই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করলে মোটামুটি আপনার ভার্চুয়াল জীবন হয়ে উঠবে সুন্দর, যা আপনাকে ‘হ্যাকিং’ নামক দুশ্চিন্তা থেকে দিতে পারে মুক্তি। তবে, দেখে নেয়া যাক সেই করণীয়গুলো-

* কখনো কেউ আপনার কাছে ‘ভেরিফিকেশন কোড’ জানতে চাইলে বলা থেকে বিরত থাকুন।

* বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্টের পাবলিক ওয়াইফাই বা হটস্পট যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।

* যেকোনো ধরনের সাইবার ক্যাফে পরিহার করে চলুন।

* যেকোনো ধরনের ‘ফিশিং ওয়েবসাইট লিংক’ থেকে বিরত থাকুন। যেখানে প্রবেশ করলেই হ্যাকারদের কাছে চলে যেতে পারে আপনার পাসওয়ার্ড, মেইল ও যাবতীয় তথ্য।

* ফেসবুকে যেকোনো ধরনের ‘থার্ড পার্টি অ্যাপ’ ব্যবহার থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

* এছাড়াও আপনি, আপনার অ‌্যাকাউন্টের ‘প্রাইভেসি’ সেটিংস ও বদলাতে পারেন। ব্যবহার করতে পারেন ‘প্রোফাইল লক’ অপশন। যার মাধ্যমে আপনার ফেসবুক বন্ধু ব্যতীত অন্য কেউ আপনার আইডির কার্যক্রম ও তথ্য দেখতে পারবেনা।

* ‘প্রোফাইল পিকচার গার্ড’ চালু করতে পারেন। এতে করে কেউ আপনার প্রোফাইল পিকচার ডাউনলোড করতে পারবে না এবং এই গার্ড আপনার প্রোফাইল পিকচারকে স্ক্রিনশট নেয়া থেকেও প্রতিহত করবে।

এবার আসুন, আমরা হয়ত অনেকে ‘ফিশিং ওয়েবসাইট লিংক’ এবং ‘থার্ড পার্টি অ্যাপ’ কথাগুলোর সাথে পরিচিত নই। তবে, জেনে আসা যাক এগুলো কী?

ফিশিং ওয়েবসাইট কী?

ইন্টারনেটে ফিশিং বলতে প্রতারণার মাধ্যমে কারো কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করাকে বোঝানো হয়। ফিশিং ওয়েবসাইট মূলত প্রতারক বা হ্যাকারদের সাজানো সুপ্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইট। তারা সাধারণত ই-মেইল ও ইন্সট্যান্ট মেসেজের মাধ্যমে ফিশিং করে থাকে। হ্যাকাররা নানাবিধ ধোকার মধ্যে দিয়ে তাদের শিকারকে উক্ত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করাতে বাধ্য করে। খুব স্বাভাবিক প্রবেশকারীরা এটিকে অন্যান্য ওয়েবসাইটের মতই মনে করবেন। উক্ত লিংকে প্রবেশ করে কোনো ধরনের তথ্য দিলেই তা চলে যাবে হ্যাকারদের কাছে।

ফিশিং ওয়েবসাইট চেনার উপায়:

সাধারণত হ্যাকাররা ওয়েবসাইটের লিংকগুলোকে খুব সামান্য পরিবর্তন করে, যাতে সেগুলোকে আসল ওয়েবসাইট মনে হয়। উদাহরণস্বরূপ 'www.facebook.com' লিংক-কে পরিবর্তন করে তারা লিখেন 'www.faceboook.com'। সাধারণত এই ছোট্ট পরিবর্তন প্রবেশকারীদের দৃষ্টি এড়িয়ে যাবে এটিই স্বাভাবিক।

তবে আপনার করণীয় হচ্ছে, আপনি যে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন, সেটি সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং অবশ্যই তার বানান লক্ষ রাখা।

থার্ড পার্টি অ্যাপ কী?

আপনি যখন প্লে স্টোরে কোনো অ্যাপ সার্চ করেন, তখন সেটির অফিশিয়াল অ্যাপ ছাড়াও একই ধরনের আরো বেশি ফিচার সম্বলিত অ্যাপ পাবেন। কিন্তু এগুলো অন্য অ্যাপ ডেভেলপারের তৈরি। যেমন ফেসবুকে আপনি এমন অনেক ধরনের অ্যাপ পাবেন, যা ফেসবুকের তৈরি নয় কিন্তু সেখানে আছে। আপনি হয়ত বিনোদনের জন্য সেখানে প্রবেশও করতে পারেন।

থার্ড পার্টি অ্যাপের অসুবিধা:

যদি অ্যাপগুলো সরাসরি ওই কোম্পানির তৈরি না হয়ে থাকে, তাহলে এটি ব্যবহার করা নিরাপদজনক নয়। ট্রাস্টেড ডেভেলপারের তৈরি থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহার না করলে আপনার ডিভাইসে ম্যালওয়্যার অ্যাটাক থেকে শুরু করে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য পর্যন্ত চুরি হতে পারে।

সর্বোপরি আপনার নিরাপত্তা আপনার কাছে। এমন কোনো কার্যক্রম থেকে নিজেকে বিরত রাখুন, যা আপনাকে সাইবার ক্রাইমে জড়িয়ে ফেলে। কোনো ধরনের সাইবার সমস্যার মোকাবেলায় পড়লে যোগাযোগ করুন নিকটস্থ সাইবার এইড অথবা থানায়।

লেখক: শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

 

রাইজিংবিডি/জবি/১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯/অনিক রহমান/হাকিম মাহি


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

‘এখনো পুরো প্রতিভা দেখাইনি’

২০১৯-০৯-১৭ ৩:৩২:১৯ পিএম

লেজার ট্রিটের মডেল হলেন শুভ

২০১৯-০৯-১৭ ২:৫৩:১৩ পিএম

স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার

২০১৯-০৯-১৭ ২:৪৮:৫৭ পিএম

স্মিথ-কোহলির তুলনা চান না সৌরভ

২০১৯-০৯-১৭ ২:৩৬:৫৭ পিএম