কেন আত্মহত্যা?

প্রকাশ: ২০১৯-১০-০১ ১২:৫৪:০১ পিএম
সিয়াম আহমেদ | রাইজিংবিডি.কম

আপনি কি জানেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে দশ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে। বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও বাংলাদেশ মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে তেমনটিই বলা হয়েছে।

আত্মহত্যা- ইরেজিতে যাকে বলা হয় সুইসাইড। এ শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ভাষার শব্দ সুই সাইডেয়ার থেকে- যার অর্থ নিজেকে হত্যা করা। তার মানে সুইসাইড হলো নিজ প্রচেষ্টায় নিজের জীবনকে হত্যা করা।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে আত্মহত্যা দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো পরিকল্পিত আত্মহত্যা এবং অপরটি আবেগতাড়িত হয়ে আত্মহত্যা।

পরিকল্পিত আত্মহত্যার ঘটনায় দেখা যায়, রোগী দীর্ঘ দিন মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশনজনিত রোগে ভোগে। এক পর্যায়ে এ সব মানসিক রোগের গুরুতর উপসর্গ হিসেবে আত্মহত্যা করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়।

এসব মানসিক রোগের মধ্যে ডিপ্রেশন, বাইপোলার মুড ডিজঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া, পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার, মাদকাসক্ত এবং উদ্বেগে আক্রান্ত ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে আবেগতাড়িত হয়ে আত্মহত্যা করা। এক্ষেত্রে ভিকটিম হঠাৎ করে খুব বড় কোনো মানসিক আঘাত পায় (যেমন পরীক্ষায় ফেল করা, ব্রেকআপ বা ডিভোর্স হওয়া কিংবা চাকরি চলে যাওয়া ইত্যাদি)। এ ধরনের মানুষ কোনো প্রকার পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই আবেগতাড়িত হয়ে নিজেকে তাৎক্ষণিকভাবে শেষ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এ ধরনের আত্মহত্যার ঘটনা বাংলাদেশে তুলনামূলক বেশি ঘটে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণী অর্থাৎ যাদের বয়স ৩৫ এর নিচে তাদের আত্মহত্যা করার প্রবণতা বেশি।

যদিও বৈশ্বিক পর্যায়ে নারীর তুলনায় পুরুষের আত্মহত্যার পরিমাণ তিনগুণ বেশি। তবে বাংলাদেশে এ চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। বাংলাদেশে পুরুষের তুলনায় নারী আত্মহত্যাকারীর সংখ্যা বেশি।

এর পেছনে আমাদের দেশের আর্থসামাজিক অবস্থান, ইভটিজিং, যৌন নিপীড়ন, যৌতুক, সম্ভ্রমহানির মতো বিষয়গুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বাংলাদেশে আত্মহত্যা বিষয়ে করা গবেষণাগুলোতে এর কারণ হিসেবে ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশা, সিজিপিএ খারাপ হওয়া, পারিবারিক কলহ, প্রেমে ব্যার্থ হওয়া, যৌন নিপীড়নের  শিকার হওয়া, অর্থকষ্টে ভোগা ইত্যাদি বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে ৯০ শতাংশ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে মানসিক অবসাদগ্রস্ততা বা ডিপ্রেশনকে কেন্দ্র করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ব্যাপকভাবে লক্ষ করা যায়। তারা নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে চরম হতাশায় ভোগেন।

এছাড়া প্রেমে ব্যর্থ হওয়া, অনিরাপদ যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়া, অপ্রত্যাশিত গর্ভধারণকে কেন্দ্র করে মেয়েরা ব্যাপক ডিপ্রেশনে ভোগে। এক পর্যায়ে তারা পুরো বিষয়টি থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়ার জন্য আত্মহননের পথ বেছে নেয়।

বর্তমানে পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্রেই আত্মহত্যাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া প্রচলিত প্রায় সব ধর্মই আত্মহত্যাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

আত্মহত্যার প্রবণতা ঠেকাতে সামাজিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে সঠিক মানসিক সহায়তা ও চিকিৎসা সেবা দেয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পাশাপাশি বেশ কিছু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও কাজ করছে।

আমাদের সবার উচিৎ চোখ-কান খোলা রেখে একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব পালন করা। যখনই আমাদের পরিবারের কোনো সদস্য, বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিত কেউ মানসিক অবসাদে ভুগবে অথবা আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকবে, তখন আমাদের দায়িত্ব হবে তার পাশে দাঁড়ানো।

তার সঠিক মানসিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা। মনে রাখতে হবে সচেতনতার মাধ্যমে আত্মহত্যার প্রবণতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

লেখক: শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ (প্রথম বর্ষ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


ঢাবি/সিয়াম আহমেদ/হাকিম মাহি


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

‘বিষাক্ত নারী’র রহস্যময় মৃত্যু

২০১৯-১০-২২ ৮:১২:৫৪ এএম

বাবার অভাব পূরণ করবে ছেলে?

২০১৯-১০-২২ ৮:১০:১৮ এএম

টিভিতে আজকের খেলা

২০১৯-১০-২২ ৮:০৪:১১ এএম

আরো ১ বছর সময় চায় পিডিবি

২০১৯-১০-২১ ১০:৫৪:৪৯ পিএম

ট্রাকে হাতির আক্রমণ, আহত ৩

২০১৯-১০-২১ ১০:১৭:০৭ পিএম