হাসির আড়ালে চাপা কান্না

প্রকাশ: ২০১৯-১০-০৩ ৩:১৮:৩৭ পিএম
মাহবুব এ রহমান | রাইজিংবিডি.কম

বিগত এক সপ্তাহের পরিশ্রমের পর এই দিনের অপেক্ষা। আকাশটাও যেন আজ বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।

সকাল থেকেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। একদিন আগের ফকফকা আকাশটা কেমন গোমড়া মুখ করেছে আজ। আইন বিভাগের কতিপয় শিক্ষার্থীদের মন খুব বেদনাবিধুর। তারা যে খুব শিঘ্রই হয়ে যাচ্ছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের, এ বিভাগের প্রাক্তন। আজ যে তাদের সেই বিদায়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম 'র‌্যাগ ডে'!

সকাল থেকেই দলবেঁধে নিজ বিভাগে একত্রিত হচ্ছেন সবাই। শহর থেকে অনেকেই ভোরের শাটল চেপেই ক্যাম্পাসে এসেছেন। বিভাগের জুনিয়রদের ভেতরে কেমন আনন্দ আনন্দ ভাব। একদিন বিশেষ এই দিনকে ঘিরে আঁকা আল্পনায় ভরে উঠেছিল বিভাগ চত্বর। আজ একই দিনে সেই আইন বিভাগের ২২তম ব্যাচের র‌্যাগ ডে। সে ব্যাচের শিক্ষার্থীদের হাসির আড়ালে কেমন একটা চাপাকান্না লুক্কায়িত।

এদিকে সবার আসার পর দেয়া হলো সাদা টি-শার্ট। পুরো বিভাগ সাদা টি-শার্টময়। কিন্তু সে চিত্র আর স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। শার্ট পাওয়া পাত্রই শুরু সহপাঠীদের শার্টে মার্কারের খেলা। নিজ ব্যাচের বন্ধুদের পাশাপাশি জুনিয়ররাও সিনিয়রদের এবং সিনিয়রাও জুনিয়রদের টি-শার্টেও লিখছেন প্রিয় বাক্য কিংবা ভালোলাগার উক্তি। সেই সাদা টি-শার্ট মুহূর্তেই হয়ে ওঠে রাফ খাতার পৃষ্ঠার মতো। সাথে চলে ক্যামেরার ক্লিকবাজিও। এক ফাঁকে উন্মোচন হয়ে যায় আজকের দিনের স্মরণিকার।

হঠাৎ ঢোলের শব্দ। দৌঁড় দেয় সবাই সেদিকে। শুরু হয় র‌্যালি। র‌্যালিতে খানিক বিরতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে চলে কয়েকদফায় ফটোসেশন। আবার র‌্যালি শুরু। ছুটে চলছে জিরো পয়েন্ট অভিমুখে। বৃষ্টির মতো ধুম করে কারা যেন র‌্যালির ভেতরে ছুড়ে মারেন রঙের প্যাকেট। আর থামায় কে! মুহূর্তেই পুরো র‌্যালি হয়ে ওঠে বিভিন্ন রঙে রঙিন। গান আর নাচের তালে রঙ মাখামাখির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে চলে র‌্যালি। একসময় বিভিন্ন মোড় প্রদক্ষিণ শেষে আবার বিভাগে ফেরেন সবাই।

 

 

ততক্ষণে দুপুরের খাবারের বিরতি। সবাই একসাথে দুপুরের খাবার শেষে শুরু করে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মাতিয়ে রাখেন বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এমন করে ঘনিয়ে আসে সন্ধ্যা। এবার বিদায়ের পালা। বিদায়ী ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মাঝে কান্নার রোল। সিনিয়রদের বিদায়ে অনুজদের চোখেও পানি। সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশের।

বিদায়ী সে মুহূর্তে অনুভূতি ব্যক্ত করে ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমরা আজ থেকে সাবেক হয়ে গেলাম! এই বিশ্ববিদ্যালয় চির সবুজ হয়ে রবে। এই বিভাগ থাকবে বর্তমানদের পদচারণায় মুখরিত। চোখের পলকেই  কীভাবে পাচঁ বছর চলে গেছে বুঝতেই পারিনি। এই দ্বীর্ঘ সময়ে অসম্ভব ভালো শিক্ষক ও বন্ধু পেয়েছি। চবির আইন বিভাগ অনেক কিছু  দিয়েছে।  সামনের দিনে অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে  দেশ সেবা করতে চাই।’

‘২২ তম ব্যাচের র‌্যাগ ডে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্যতম র‌্যাগ ডে ছিল। রঙ মাখামাখি আর র‌্যালিতে শুরুর দিকের সময়টা খুব বেশি ভালোই লেগেছে। কিন্তু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সময় বিদায়ী ভাইদের কান্না দেখে মনটা বিষাদময় হয়ে ওঠে। বিদায় শব্দটি ছোট্ট হলেও আসলে বেশ ক্ষমতাধর।’ সিনিয়রদের বিদায়ে এভাবেই অনুভূতি ব্যক্ত করেন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাইজুল ইসলাম ফাহিম।

বিভাগে মাত্র পা রাখা ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাহিয়া বলেন, ‘৪০তম ব্যাচের র‌্যাগ ডে ছিল একদিকে আনন্দঘন, অন্যদিকে বেদনার সুরে সুললিত। বিদায়ী ভাইয়া আপুদের জন্য রইল অনেক অনেক শুভ কামনা।

তোমাদের পদচিহ্ন দেব না যেতে মুছে,

আমরা নবীন, আমরা তোমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী

কথা দিচ্ছি! আজীবন ২২ এর স্মৃতি থাকবে বেঁচে।’

লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।


চবি/মাহবুব এ রহমান/হাকিম মাহি


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

‘বিষাক্ত নারী’র রহস্যময় মৃত্যু

২০১৯-১০-২২ ৮:১২:৫৪ এএম

বাবার অভাব পূরণ করবে ছেলে?

২০১৯-১০-২২ ৮:১০:১৮ এএম

টিভিতে আজকের খেলা

২০১৯-১০-২২ ৮:০৪:১১ এএম

আরো ১ বছর সময় চায় পিডিবি

২০১৯-১০-২১ ১০:৫৪:৪৯ পিএম

ট্রাকে হাতির আক্রমণ, আহত ৩

২০১৯-১০-২১ ১০:১৭:০৭ পিএম

১১ নভেম্বর থেকে জবিতে ভর্তি শুরু

২০১৯-১০-২১ ১০:০৯:৩৮ পিএম