‘খিদার ভয় পাই’

প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৫ ৬:২৪:০৬ পিএম
মাসুদ আল রাজী | রাইজিংবিডি.কম

তাকে প্রথম যখন দেখলাম, তখন তিনি দরদর করে ঘামছেন। মাত্র নিজের রিকশা থেকে একজন যাত্রী নামিয়ে দিলেন। বাইরে রোদ ছিল না তেমন, তারপরেও তার এ অবস্থা। হয়তো বা কঠোর পরিশ্রমের জন্য। জানতে চাইলাম, চাচা মাস্ক পরছেন কেন? তিনি চালাকি করে উত্তর দিলেন, ‘আপনি যে জন্য পরছেন, আমিও সেই জন্য পরছি।’

আমি আর না হেসে পারলাম না। হাসতে হাসতেই বললাম, কী চাচা, আজকে যাত্রী নেই বেশি, এমনেই বসে আছেন? চাচা বললেন, ‘রাস্তায় মানুষ নাইরে বাবা, এই জন্য ইনকাম নাই।’

কথা বলছিলাম সিলেটের প্রাণকেন্দ্র চৌহাট্টা পয়েন্টে এক রিকশাওয়ালার সঙ্গে। অন্যান্য দিনে ট্রাফিক পুলিশ জ্যাম সরাতে ব্যস্ত থাকলেও আজ নেই কোনো যানবাহনের আনাগোনা। একটু সময় পর পর দু’একটা সিএনজি আর রিকশা চোখে পড়ছে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে সমগ্র বিশ্বের মতো বাংলাদেশও এর প্রভাব পড়েছে। সাজানো-গোছানো সভ্যতা যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এক অদেখা সংক্রমণে। 

এই করোনাভাইরাস সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে আমাদের দেশের খেটে খাওয়া মানুষগুলোর উপর। অফিস বন্ধ থাকলেও চাকরিজীবীরা মাস গেলে বেতন পাবেন ঠিকই, কিন্তু দিন এনে দিন খাওয়া মানুষগুলো একদিন কাজ না করলে পেটে দানাপানি কতটুকু পড়বে, সে কথা মুখে মুখে। যদিও সরকার অসহায়দের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার কথা বলেছে। ইতোমধ্যে সরকারি ত্রাণ দেওয়া শুরুও হয়েছে।

এই অবস্থায় করোনাকে কেন্দ্র করে যখন মানুষ বাজারে উপচে পড়ছে, ঠিক তখনই আমাদের দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম বাড়িয়ে শ্রমজীবী মানুষদের দুর্ভোগ বাড়াতে চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে প্রশাসনও তাদের ধরতে সজাগ রয়েছে। অনেককে ধরে শাস্তি এবং জরিমানাও করা হয়েছে। 

চাচার সাথে কথা বলে জানা গেলো, তার বাড়ি দিনাজপুরে। পরিবারে তার মা, বাবা, বউ আর তিন ছেলে-মেয়ে রয়েছে। বাবা ইনকাম করতে পারেন না, নিজেরও একটা হাত ভাঙা। যা ইনকাম হয়, নিজে খেয়ে বাকি সবটাই পাঠিয়ে দেন পরিবারের কাছে। একদিন অসুস্থ থাকলে বা ইনকাম করতে না পারলে সমস্যার মধ্যে পড়ে যান। এমনি সময়ে করোনার মতো মহামারি এসে উনার স্বাভাবিক জীবনকে অনেকটা পাল্টে দিয়েছে।

স্কুল, কলেজ আর ভার্সিটি সব বন্ধ। ছাত্র-ছাত্রীরা অনেকেই চলে গেছেন গ্রামের বাড়ি। এসব শিক্ষার্থীদের নিয়েই এই ছোট্ট শহরের অর্ধেক গণপরিবহন চালিত হয়। তার উপর আগামীকাল থেকে সব অফিস আদালত বন্ধ হলে এসব শ্রমজীবী মানুষদের ইনকাম নেমে যাবে অনেকটা শূন্যের কোটায়।

তিনি বলেন, ‘শুনতেছি পরশু দিন থাইকা পুরা দেশ অফ কইরা দিব? এমনেই এখন ইনকাম অনেক কইমা গেছে, খিদার ভয় পাই। সরকার যেন আমাগো খাওন দেয়।’

করোনার জন্য দেশে সচেতনতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। যে মানুষগুলো খাওয়ার আগে হাত পরিস্কার করতো না, তারাও এখন নিয়ম করে হাত ধুচ্ছে, মিনিটে মিনিটে স্যানিটাইজার ব্যবহার করছে। অবহেলা আর অন্তরালে পড়ে আছে এই শ্রমজীবী মানুষগুলো।

দেশ লকডাউন হয়ে গেলে সরকার এবং বিত্তবানরা এসব অসহায় মানুষদের প্রতি নজর দেবেন এমন প্রত্যাশা তার।


শাবিপ্রবি/হাকিম মাহি


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

ওসমানীতে আরপি-পিসিআর মেশিন

২০২০-০৩-৩১ ২:৪৭:৪৬ এএম

মিরপুরে অগ্নিকাণ্ড

২০২০-০৩-৩১ ২:৩৮:২১ এএম

সরকারি ছুটি বাড়তে পারে

২০২০-০৩-৩১ ১:২৬:৪১ এএম