‘এবারের ঈদ হোক অনলাইনে’

প্রকাশ: ২০২০-০৫-২২ ৭:৪৩:০৮ পিএম
আহমেদ ফাহিম | রাইজিংবিডি.কম

ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। দীর্ঘ মাসব্যাপী সিয়াম পালন শেষে রমজানের শেষ দিনে আকাশের এক কোণে বাঁকা চাঁদের হাসি ঈদের জানান দিয়ে দেয় সবাইকে, সবাই সমস্বরে গেয়ে ওঠে কাজী নজরুল ইসলামের সেই অমর সংগীত, ‘ও মোর রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।’

প্রতি বছর এ সময়ে ঈদের কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকম প্রস্তুতি থাকে তুঙ্গে। বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রকোপে পাল্টে গেছে এ বারের ঈদের দৃশ্যপট, হারিয়ে গেছে ঈদের চিরচেনা আমেজ। এই ঈদ নিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা কী পরিকল্পনা করছেন, তাদের সেই ভাবনাগুলো লিখে পাঠিয়েছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এস আহমেদ ফাহিম।  

মিথিলা চৌধুরী, অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ

করোনার সংকটময় পরিস্থিতে সরকার ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য বিধি-নিষেধ শিথিল করলেও একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া আমাদের এই সময়ে বের হওয়া অনুচিত। এখন পর্যন্ত করোনা চিকিৎসার ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ায়, আমাদের সকলের সামাজিক দূরত্ব  এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। আমাদের একটু সচেতনতাই করোনার প্রভাব বিস্তারকে কমিয়ে আনতে পারে।

করোনা সংকটের পর বেঁচে থাকলে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে শপিং করা যাবে, পরবর্তী ঈদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যাবে। এবারের ঈদ না হয় সাদামাটা ভাবেই কাটুক পরিবারের সদস্যদের সাথে বাসার চার দেয়ালের মধ্যে এবং প্রিয়জনদের মাঝে ঈদের আমেজ ছড়িয়ে পড়ুক মুঠোফোনে শুভেচ্ছা পাঠানোর মাধ্যমে। এবার ঈদ হোক অনলাইনে।

তাহসিন মাহমুদ সাকিব, অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ

যুদ্ধের মাঠে আসলে ঈদ বলে কিছু থাকে না। ল্যাবে কাজের ফাঁকে সময় পেলে অনলাইনে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাবো। মা বাবাকে সালাম জানাবো। পরিবারের সবার সুস্থতা ও দেশের সবার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবো। আপাতত লক্ষ্য বেশি বেশি পরীক্ষা করে মানুষকে সচেতন করা, যাতে মানুষ ঘরে থেকেই নিশ্চিন্তে ঈদ উদযাপন করতে পারে৷ আর যেদিন করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে পারবো, সেদিনই সবাই প্রকৃত ঈদ পালন করবো ইনশাআল্লাহ।

ইমতিয়াজ আহমেদ, সিএসটিই বিভাগ

গ্রামে থাকার কারণে প্রতি বছরের ঈদ উৎসব খুব প্রাণবন্তভাবেই উদযাপন করা হয়। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। থমকে যাওয়া পৃথিবীতে ঈদের নামাজ পড়তে পারবো কি না সেই সংশয়ে আছি। তবে আশা করি এবার ঈদের নামাজ পড়তে পারবো। যেভাবে শৈশব থেকে শুরু করেছিলাম ঠিক সেভাবেই ফজরের নামাজ পরে কবরস্থান জিয়ারত করে মায়ের হাতের সেমাই খেয়ে ঈদের নামাজ পড়তে যাবো ভাবছি।

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে এবার বের হওয়া তো সম্ভব নয়। বাসায় বসে পরিবারের সবার সাথে সময় কাটাবো। তবে আগে ঈদের সময় সবার খোঁজ-খবর না রাখা গেলেও এবার ঈদে সবার খোঁজ-খবর নেবো। আর ঈদের দিন রাতে ফেসবুক লাইভে আমার শো ‘বাসা থেকে বলছি’ পুনরায় শুরু করবো। আশা করছি লকডাউনের এই সময়টাতে এভাবেই আমরা ভার্চুয়ালভাবে সবার কাছাকাছি থেকে সাধ্যের মধ্যে একটা চমৎকার দিন পালন করবো।

সালমান রহমান সোহাগ, অর্থনীতি বিভাগ

মুসলমান তথা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ইদ। কিন্তু বিংশ শতাব্দী এবারই প্রথম অন্যরকম ইদ পালন করতে যাচ্ছে, যখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাবে ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় সোয়া তিন লাখেরও বেশি মানুষ। আর তাই এ সংকটাপন্ন সময়ে এখনই উপযুক্ত সময়, যার যার জায়গা থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সেটা হতে পারে আর্থিক, সামাজিক বা মনঃস্তাস্তিকভাবে।

সেই দায়বদ্ধতা থেকে তাই এবারের ঈদে আমি পরিকল্পনা করেছি যে, নতুন কোনো জামাকাপড় কিনব না এবং তার পরিবর্তে যতটুকু সম্ভব অসচ্ছল মানুষের পাশে দারাবো। ইতোমধ্যে আমরা আমাদের একটা অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে টাকা পয়সা তুলে অনেকগুলো পরিবারের মাঝে ঈদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার কিনে গিফট হিসেবে পাঠিয়েছি এবং আরও বেশ কিছু পরিবারকেও এগুলো দেওয়ার পরিকল্পনা করছি।

আশরাফুল ইসলাম রনি, কৃষি বিভাগ

সিয়াম সাধনার এ মাসে মানুষ তার লোভ-লালসা পরিত্যাগ করে দীর্ঘ মাসব্যাপী রোজা রেখে নিজের আত্মা পরিশুদ্ধ করে থাকে। আর এ পরিশুদ্ধি শেষে রমজানের শেষ দিনে আকাশের এক কোণে বাঁকা চাঁদের হাসি ঈদের জানান দিয়ে দেয় সবাইকে। সাথে সাথে বেজে ওঠে বাজি, পটকা; সবাই সমস্বরে গেয়ে ওঠে কাজী নজরুল ইসলামের সেই অমর সংগীত, ‘ও মোর রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’। সবার চোখে মুখে খুশি ও আনন্দের এক অদ্ভুত তৃপ্তি ভরা হাসি ছড়িয়ে পড়ে। যে আনন্দ নির্মল, যে আনন্দ টাকা দিয়ে কেনা যায় না, অন্যের খুশি বা আনন্দে নিজের মনের গহীন কোণে শুভ্র শান্তির শীতল স্পর্শ অনুভূত হওয়া; এটাইতো ঈদ। সবাইকে ঈদুল ফিতরের অগ্রিম শুভেচ্ছা।

মারজানুর রহমান ভূঁইয়া, ফার্মেসি বিভাগ

‘ঈদুল ফিতর’ মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম একটি বড় ধর্মীয় উৎসব। দীর্ঘ ১ মাস রমজানের সিয়াম সাধনায় কাটানোর পর সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায় এই দিনটি খুব আনন্দের সাথে পালন করে। কিন্ত অন্যতম এবারের ঈদুল ফিতরে নেই সেই চিরচেনা রূপটি! তাই বাকি সবার মতো আমারও নেই সেই চিরচেনা উচ্ছলতা ঈদকে ঘিরে।

পুরো লকডাউন সময়টা বাসায় কাটছে, হয়তো ঈদের দিনটাও বাসায় থাকবো, করা হয়নি ঈদ শপিং, পরা হবে না এবার ঈদের নতুন জামা, ঈদের নামাজের কোলাকুলির মধ্য দিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি এবার হবে না, নামাজ শেষে বাসায় এসে সেমাই খেয়ে বন্ধুদের সাথে বাইরেও হয়তো ঘুরতে যাব না, ঈদ আসলেই বাড়িতে সবার যেই মিলনমেলা হতো, সেটাও সারতে হবে অনলাইনের ভারচুয়াল যোগাযোগ মাধ্যমে!


নোবিপ্রবি/হাকিম মাহি


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

গাজীপুরে করোনা রোগী বেড়ে ১০৭৪

২০২০-০৫-২৯ ৩:৩৯:১৯ পিএম

লকডাউনেই বিয়ে সারলেন অভিনেতা

২০২০-০৫-২৯ ৩:৩৫:০৮ পিএম

‘চার্চে যাবেন না, এটা মৃত্যুফাঁদ’

২০২০-০৫-২৯ ৩:০৬:২২ পিএম