‘শিক্ষার্থীদের মাঝে রেষারেষি মুছে যাক’

প্রকাশ: ২০২০-০৬-০৪ ৬:২২:৪২ পিএম
সাজ্জাদ হোসেন | রাইজিংবিডি.কম

বেশ কিছু দিন ধরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক প্রকার কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে। তুচ্ছ এক বিষয়ের জের ধরে এখনও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাকবিতণ্ডার পর্যায় ক্রমান্বয়ে যেন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বেসরকারি এক টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির অনুভূতি ব্যক্ত করেন। মূলত সাক্ষাৎকার প্রদান করা শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে গৌরবময় দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেন। এ নিয়ে পাবলিক এবং প্রাইভেট দুই আঙ্গিনা সৃষ্টি হয়েছে অনেকটা বিতর্ক প্রতিযোগিতা মঞ্চের মতো। ফেসবুকের বিভিন্ন জনের প্রোফাইল থেকে আরম্ভ করে গ্রুপে, পেজে কটুক্তিপূর্ণ স্ট্যাটাসের মাধ্যমে চলছে চরম রেষারেষি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে তর্কবিতর্কের বিকল্প নেই। তবে সেটা অবশ্যই হতে হবে যৌক্তিক উপায়ে। কিন্তু বর্তমানে চলমান সৃষ্ট মনমালিন্য তাদের মাঝে একতার যে শক্ত প্রাচীর ছিল, তার ভিত্তিকে অনেকটা কাঁপিয়ে তুলছে।

বাংলাদেশে অধিকার আদায়ের যতো আন্দোলন হয়েছে, সেখানে দলমত নির্বিশেষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমানভাবে অংশগ্রহণ দেখা যায়। তাদের একতাবদ্ধতার কারণে পরপর বেশ কয়েকটি সফল আন্দোলন হয়েছে। ২০১৮ সালে রাজধানীর কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে দু’জন কলেজ ছাত্র-ছাত্রী বাস চাপায় নিহত হলে দেশের নানা জায়গায় তাদের জোরালো কণ্ঠস্বর ফেঁপে ওঠে। রাস্তায় নেমে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল বিভিন্ন সাধারণ ছাত্র সংঠনের সদস্যরা। দেখিয়ে দিয়েছিল শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সব নিয়ন্ত্রণ করলে স্বল্প সময়ে অনেক ভালো কিছু করা সম্ভব।

এছাড়াও কোটা সংস্কার আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অপসারণ, নুসরাত হত্যার ন্যায্য বিচারের দাবিতে তারা সোচ্চার হয়েছিল। এত কিছু বলবার পেছনে আসল উদ্দেশ্যটি হলো ঐক্যতার সুর যাতে সবার মাঝে আবার ফিরে আসে। কেননা, বাংলাদেশ সোনার বাংলা হলেই শুধু হবে না বরং এদেশের মানুষকেও হতে হবে উর্বর মস্তিষ্কের।

দেশের মুক্তি সংগ্রাম ও স্বাধীনতা যুদ্ধে ছাত্রদের অবদান এক গৌরবান্বিত ইতিহাস। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা জারিকৃত আদেশ অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু সংখ্যক সাধারণ ছাত্র প্রগতিশীল রাজনৈতিক মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। ১৪৪ ধারা অমান্যের অজুহাতে বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের গুলিবর্ষণ হয়। এরপর এই আন্দোলন কেমন তীব্র হয়েছিল, সেই ইতিহাস আমাদের প্রতিদিন নতুন করে ন্যায়ের পথে সংগ্রাম করে বাঁচতে প্রেরণা দেয়।

সহস্র প্রজ্বলিত যুবকের ত্যাগ তিতিক্ষার কথা এসেছে গল্প উপন্যাসে। হয়তোবা আমাদের আর অস্ত্র হাতে নিয়ে রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করতে হবে না। তবে এই দেশের স্বাধীনতা রক্ষা ও শান্তিপূর্ণরূপে জীবনযাপন করতে কলমের হাতিয়ার উঠাতে হবে। সুশিক্ষা আয়ত্তের মাধ্যমে আমাদের আরও শক্তিশালী জাতিতে পরিণত হতে হবে। এর জন্য অবশ্যই শিক্ষার্থীদের এক হয়ে কাজ করাটা অত্যন্ত জরুরি।

ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এমন দ্বন্দ্ব চলমান থাকলে এর ছাপ তীব্র এবং সুদীর্ঘ হতে পারে। একটি দেশ গঠনে নাগরিকের যেমনটি প্রয়োজন তেমনি সুনাগরিকের ভূমিকা তার চাইতে দ্বিগুণ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের মাঝে অহংকারের বীজ বপন করতে সাহায্য করছে ভালো মানুষ হওয়ার পরিবর্তে। যা দেশ ও জাতি উভয়ের জন্য বিপজ্জনক। ঘটমান বিস্ময়কর ব্যাপারগুলো ভবিষ্যতে একদিন ইতিহাস হয়ে উঠবে। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আজকের শিক্ষার্থী সমাজ যাতে নেতিবাচক অধ্যায় হয়ে না দাঁড়ায়, সেজন্য আমাদেরই এই মনোমালিন্য দূর করতে হবে।

কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরাসরি খারাপ বলাটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কেননা প্রত্যেকেই জ্ঞান বিতরণের সাথে যুক্ত। তবে, সেখানে মানের তারতম্য থাকতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজনিজ অবস্থান থেকে যার যতটুকু অভাব, তা ঘুচিয়ে কীভাবে সামনের দিনে আরও উন্নত করা যায়, সে ব্যাপারে প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও ভাবতে হবে। এর জন্য চাই একতা, দলবদ্ধ গবেষণা। একে-অপরের গায়ে দোষ দেওয়া বন্ধ হোক। মূর্ছা যাক অহংকারের ছায়া। ফিরে আসুক আবার সংবদ্ধভাবে কাজের প্রতিশ্রুতি। রাজপথে ন্যায়ের পক্ষে বিদ্রোহের শৃঙ্খলা আসুক পুনরায় সবার হৃদয়ে।

লেখক: শিক্ষার্থী, সামাজ বিজ্ঞান অনুষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।



ইবি/হাকিম মাহি


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

চিংড়িতেও করোনা!

২০২০-০৭-১০ ৬:২০:২৮ পিএম

গাজীপুরে করোনা রোগী বেড়ে ৩৮২৯

২০২০-০৭-১০ ৫:৩৬:৩৬ পিএম