টিপু মুন্সি-বিলব্লেয়ার মতবিনিময় সভা

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-০৬ ৭:১৪:১০ পিএম
সাইফ | রাইজিংবিডি.কম

রাইজিংবিডি ডেস্ক : বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি ও কানাডার বর্ডার সিকিউরিটি অ্যান্ড অর্গানাইজ ক্রাইম রিডাকশন মন্ত্রী বিলব্লেয়ারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর এ সভার আয়োজন করে কানাডা-বাংলাদেশ ট্রেড প্রমোশন সেন্টার (সিবিটিপিসি)। এতে দুই দেশের মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিচেসইস্টইয়র্ক এর এমপি ন্যাথেনিয়াল আরস্ক্রিনস্মিথ, কানাডাস্থ বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজানুর রহমানসহ কমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

আলোচনার শুরুতে টিপু মুন্সি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার কথা উল্লেখ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর পিতা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডোর ভূমিকার প্রসংশা করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের তাকে দেওয়া ‘মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’র বিষয়ে আলোকপাত করেন।

তিনি ফেডারেল মন্ত্রী বিলব্লেয়ারকে বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় অবস্থান করছে। তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা এবং বিচারের সম্মুখীন করার বিষয়ে কানাডার সহযোগিতা চাই।’

কানাডার বর্ডার সিকিউরিটি অ্যান্ড অরগানাইজ ক্রাইম রিডাকশন মন্ত্রী বিলব্লেয়ার তার বক্তব্যে মিয়ানমার কর্তৃক নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশে সরকারকে বিশেষ ধন্যবাদ দেন। তিনি স্বাধীনতাযুদ্ধের পরে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে বলেন, ‘নব্য বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়া ছিল কানাডার জন্য গর্বের বিষয়।’

বঙ্গবন্ধুর খুনির প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে জানান, বিষয়টি তিনি দ্রুত  কানাডার আইন ও বিচারমন্ত্রী এবং বহির্গমন ও নাগরিকত্ব বিষয়ক মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন।

তিনি দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বাধাগুলো সম্পর্কে জানতে চান। এমপি ন্যাথেনিয়াল তার বক্তব্যে বলেন, ‘তিন বছর আগে বাংলাদেশ সফরে গিয়ে আমার দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। নানাদিক থেকে দেশটি উন্নতি করছে। ভবিষ্যতে তাদের এ উন্নয়নের ধারায় আমরা বন্ধুর মত পাশে থাকব।’

বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বিলব্লেয়ার ও ন্যাথানিয়ালকে জানান, কানাডার সাথে বাংলাদেশের গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কিছু বিষয় অমীমাংসীত রয়ে গেছে। যেমন- বাংলাদেশে কানাডিয়ান হাইকমিশনের ভিসা সেন্টার পুনস্থাপন, ফেডারেল সরকারের বাংলাদেশ সম্পর্কিত ভ্রমণ সতর্কি প্রত্যাহার, প্রত্যক্ষ ছাত্র ভর্তির সুযোগ দেয়াসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন তারা।

এছাড়া কানাডিয়ান বিনোযোগকারী ও ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে যাওয়ার আমন্ত্রণও জানান বাংলাদেশ থেকে আসা প্রতিনিধিদলটি।

তারা উল্লেখ করেন, ‘পূর্বে যেকোনো সময়ের চেয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ এখন সহজ ও নিরাপদ হওয়ায় সেখানে ব্যবসা করাও সহজ।’

বাংলাদেশি-কানাডিয়ানদের পক্ষ থেকে কানাডিয়ান ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশে বিশেষায়িত এলাকা গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়।

আইটি সেক্টরে দুই দেশের মধ্য ব্যবসা সম্প্রসারণে নতুন বিনিয়োগকারী তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিও জোর দেন। কানাডিয়ান ওষুধ কোম্পনিগুলো বাংলাদেশের কাছ থেকে ওষুধ উৎপাদনে সহায়তা নিতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তারা।

এছাড়াও দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অতিথিরা ছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন ঢাকাস্থ কানাডিয়ান হাইকমিশনের কাউন্সেলর করিন পেটরিসর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বিজিএমইএ এর সহসভাপতি মসিউল আলম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড  ইনফরমেশন সার্ভিস এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মুশফিকুর রহমান,  তৈরি পোশাকশিল্প ব্যবসায়ী ফজলে এলাহী, আইটি ব্যবসায়ী হানিফ মোহাম্মদ, সিবিটিপিসি এর চেয়ারম্যান আলিমুর রহমান হায়দারী, পরিচালক সৈয়দ শামছুল আলম, অলোক চৌধুরী, মাহবুব আনাম, রেজাউল করিম তালুকদার, মোস্তফা, সিইও নাজমুল জায়গীরদার রানা, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকিং প্রফেশনাল এহসানুল হক, টরন্টো ঢাকা ক্লাবের প্রেসিডেন্ট খোকন আব্বাস, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কমিউনিটির প্রতিনিধি কাফিল উদ্দীন পারভেজসহ প্রমুখ।

 

রাইজিংবিডি/কানাডা/৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯/সাইফ


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

শেষ ভালোর প্রত্যাশায়

২০১৯-০৯-২০ ১:২৯:০৭ এএম

খালেদের বিরুদ্ধে মাদকের আরেক মামলা

২০১৯-০৯-১৯ ১১:৩১:১৬ পিএম