‘রাষ্ট্রকে কেবল প্রবৃদ্ধির পূজা করলে হবে না’

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-০৭ ৭:২৫:৩৫ পিএম
এম এ রহমান | রাইজিংবিডি.কম

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : রাষ্ট্রকে কেবল প্রবৃদ্ধির পূজা করলে হবে না, তা দিয়ে আসলেই মানব উন্নয়ন হচ্ছে কি না- সেটা দেখতে হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি সভাপতি ড. আবুল বারকাত।

শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলানায়তনে বাংলাদেশে আয় ও ধন বৈষম্য বিষয়ক জাতীয় সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সেমিনারে ক্রমবর্ধমান আয় বৈষম্য নিরসনে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি রোধ এবং সুবিধাভোগি ও মধ্য স্বত্বভোগিদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তরা। এ আয়োজনে অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. মইনুল ইসলাম ‘বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান আয় বৈষম্য: সমাধান কোন পথে? ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

ড. আবুল বারকাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

ফরাসউদ্দিন বলেন, মাতৃমৃত্যুর হার ছাড়া মানব উন্নয়নের অন্যান্য সূচকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ভাল অবস্থায় রয়েছে।  কিন্তু দেশে ক্রমান্বয়ে আয় বৈষম্য বেড়ে চলেছে।  কেবল মাথাপিছু আয় দিয়ে উন্নয়নকে বিচার করলে চলবে না। যে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে, তার ভাগ যেন সমাজের প্রান্তিক মানুষ পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বন্টনের ন্যায্যতাসহ প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিকে যেতে হবে। কাউকে পেছনে ফেলে রেখে প্রকৃত উন্নয়ন হয় না। বাংলাদেশে প্রায় সোয়া এক কোটি মানুষের মাথাপিছু আয় ৪ হাজার মার্কিন ডলারের ওপরে। অথচ কর দেন মাত্র ২০ লাখ মানুষ। তাই রাষ্ট্রযন্ত্রকে উচ্চ আয়ের মানুষের নিকট থেকে কর আদায় বিশেষ করে প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা কার্যকর করতে শক্তিশালী ভূমিকা নিতে হবে।

সম্পদ বন্টনের ন্যায্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করে আবুল বারকাত বলেন, রাষ্ট্রকে কেবলমাত্র প্রবৃদ্ধির পূজা করলে হবে না। সেই প্রবৃদ্ধি দিয়ে আসলে মানব উন্নয়ন হচ্ছে কি-না সেটা দেখতে হবে।

তার ভাষ‌্য, ধরুন দুই অংকের প্রবৃদ্ধি হলো, কিন্তু সেটা যদি সমাজের নিচু তলায় না যায়, তাহলে এই প্রবৃদ্ধি দিয়ে কোন লাভ নেই। নব্য উদারবাদী পুঁজিবাদ অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিক উজ জামান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. কে এ এস মর্শিদ, অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ ও সহসভাপতি এ জেড এম সালেহ আলোচনায় অংশ নেন।

ড. মইনুল ইসলাম তার প্রবন্ধে বলেন, স্বজনতোষী পুঁজিবাদের কারণে আয় বৈষম্য বাড়ায় জিডিপি প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের উচ্চবিত্ত জনগোষ্ঠীর কাছে পঞ্জীভূত হচ্ছে। এর সাথে সাথে নিন্মবিত্ত ও নিন্ম মধ্যবিত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগন প্রবৃদ্ধির ন্যাষ্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই আয় বৈষম্য ক্রমে বাড়তে থাকার প্রবনতা দেশের জন‌্য আসন্ন বিপদ সংকেত।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যার মধ্যে দিয়ে দেশে স্বজনতোষী পুঁজিবাদ ও পুঁজি লুন্ঠনের যাত্রা শুরু হয়। দুর্নীতি ও পুঁজি লুন্ঠনের মাধ্যমে গত ৪৪ বছরে দেশে লাখ লাখ ব্যবসা নির্ভর পুঁজিপতি, মার্জিন-আত্মসাতকারী রাজনৈতিক নেতাকর্মী, দুর্নীতিবাজ আমলা এবং সরকারি প্রকল্পের ঠিকাদার রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ধনাঢ্য ও উচ্চবিত্ত গোষ্ঠির অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন।  আয় ও সম্পদ বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে হলে দুর্নীতি নিরসন করতে হবে- বলে মন্তব‌্য করেন ড. মইনুল ইসলাম।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯/ এম এ রহমান/নবীন হোসেন


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

শেষ ভালোর প্রত্যাশায়

২০১৯-০৯-২০ ১:২৯:০৭ এএম

খালেদের বিরুদ্ধে মাদকের আরেক মামলা

২০১৯-০৯-১৯ ১১:৩১:১৬ পিএম