বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স

প্রকাশ: ২০১৯-১০-০২ ৭:৫৯:৫০ পিএম
বিশেষ প্রতিনিধি | রাইজিংবিডি.কম

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণকে উৎসাহিত করার জন্য ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। গত তিন মাসে রেমিট্যান্স এসেছে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার। যা বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

বুধবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী প্রবাস থেকে যারা রেমিট্যান্স পাঠাবেন, তারা বাজেট ঘোষণার পর থেকেই এ প্রণোদনার সুযোগ পাবেন। ইতোমধ্যে যারা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন অথচ প্রণোদনা পাননি, তারাও এ সুযোগের আওতায় আসবেন। আশা করছি, এর ফলে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যমে বাজেটে রেমিট্যান্স পাঠানোর ওপর ঘোষিত প্রণোদনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে যা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে। এ বিষয়টি পরিস্কার করা জরুরি। বাজেটে ঘোষিত প্রণোদনার বিষয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করতে আমাদের কিছুটা সময় লেগে গিয়েছে। কেননা এজন্য আমাদেরকে একটি সিস্টেম ডেভেলপ করতে হয়েছে। এই সিস্টেম ডেভেলপ করতেই আমাদের মাঝের সময়টি ব্যয় হয়েছে। তবে এই ঘোষণা  দেয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ দেশে রেমিট্যান্স প্রেরণকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে কেউ যদি আজকেই রেমিট্যান্স পাঠায়, তাহলে সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা পাবেন। এর আগে ১ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত যারা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, তারাও এ প্রণোদনা পাবেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত তিন মাসে আমরা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ করেছি। বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণকে উৎসাহিত করার জন্য ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখায় প্রবাসীরা ইতিমধ্যে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তার প্রমাণ হলো গত তিন মাসে আমরা রেমিট্যান্স অর্জন করেছি সাড়ে চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা আগের তুলনা প্রায় ১৬ শতাংশ বেশী।

তিনি বলেন, এখন থেকে ১৫০০ ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে কোনো প্রশ্ন করা হবে না। এর বেশি হলেই কাগজ দিতে হবে। প্রতি লেনদেন ১৫০০ ডলারের মধ্যে থাকলে দিনে যতবার ইচ্ছা প্রেরণ করতে পারবেন। প্রতি লেনদেনের জন্য ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা পাবেন। আশা করা যায় এর ফলে রেমিট্যান্স এবার ১৮-২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রবাসী আয়। প্রবাসীরা তাদের কষ্ঠার্জিত আয় বৈধ চ্যানেলে দেশে প্রেরণ করে বেগবান করছে দেশের অর্থনীতি। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রেরিত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৬,৪২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বিগত ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স ১৪,৯৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এর তুলনায় ১,৪৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি। বিগত অর্থবছরেরর তুলনায় রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ দেশে নিবিড়ভাবে রেমিট্যান্স প্রেরণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে রিমিট্যান্স প্রেরণকে আরো উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ সরকার রেমিট্যান্স প্রেরণের বিপরীতে ২ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৬ আগস্ট, সার্কুলার নং-৩১ এর মাধ্যমে ‘বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স প্রেরণের বিপরীতে প্রণোদনা/নগদ সহায়তা প্রদানের নীতিমালা’ জারি করে।

নীতিমালায় উল্লেখযোগ্য অনুচ্ছেদগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো-

০১। (ক) বিদেশ হতে প্রেরিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স আহরণকারী ব্যাংক প্রযোজ্য বিনিময়হারে টাকায় রূপান্তরিত অর্থ প্রচলিত বিধিবিধান পরিপালন করতঃ উপকারভোগীর হিসাবে জমা/উপকারভোগীকে প্রদানের সময় উক্ত অর্থের ওপর ২ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা প্রদান করবে;

(খ) বাংলাদেশস্থ ব্যাংকের সাথে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় পরিচালিত বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজ/ব্যাংকের মাধ্যমে আলোচ্য অর্থ প্রত্যাবাসিত হতে হবে;

(গ) একজন প্রবাসীর রেমট্যিান্সের ওপর প্রতিবারে সর্বোচ্চ মার্কিন ডলার ১৫০০ (এক হাজার পাঁচশত)/সমমূল্যের অর্থের জন্য উল্লিখিত হারে কোন প্রকার কাগজপত্র ব্যতিরেকে প্রণোদনা সুবিধা প্রযোজ্য হবে;

(ঘ) ১(গ) তে উল্লিখিত পরিমাণের বেশি লেনদেনের প্রাপককে রেমিট্যান্স প্রেরকের বৈধ কাগজপত্র (যেমন: পাসপোর্টের কপি এবং বিদেশি নিয়োগদাতা কর্তৃক প্রদত্ত নিয়োগপত্রের কপি/বিএমইটি প্রদত্ত সনদপত্রের কপি, ব্যবসায় নিয়োজিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবসার লাইসেন্সের কপি ইত্যাদি) রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংক শাখায় দাখিল সাপেক্ষে নগদ সহায়তা প্রদান করা যাবে;

২। বিধিবহির্ভূতভাবে প্রণোদনা/নগদ সহায়তার নামে অর্থ প্রদান করলে প্রদত্ত অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে রক্ষিত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাব বিকলনপূর্বক আদায় করা হবে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৩। ১(ঘ) তে উল্লিখিত শর্ত মোতাবেক প্রাপক কর্তৃক রেমিট্যান্স গ্রহণের দিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা সম্ভব না হলে পরবর্তী ১৫ (পনের) কর্মদিবসের মধ্যে তা উপস্থাপন করলে রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংক তাকে প্রাপ্য নগদ সহায়তা প্রদান করবে;

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিগত ৬ আগস্ট, এ জারিকৃত নীতিমালায় ব্যাংকসমূহকে অগ্রিম আকারে প্রাপ্যতা অনুযায়ী ফান্ড প্রদান করার বিধান রয়েছে। এ প্রণোদনা ১ জুলাই থেকে প্রেরিত রেমিট্যান্সের বিপরীতে কার্যকর হবে।


ঢাকা/হাসনাত/সাইফ


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

বিপ্লবের ভগ্নিপতিসহ নিখোঁজ ২

২০১৯-১০-২২ ১১:৫৭:৩০ পিএম

আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব : সাকিব

২০১৯-১০-২২ ১০:৪২:০৭ পিএম

জামালপুরের সেই সাধনা বরখাস্ত

২০১৯-১০-২২ ১০:২৩:২৯ পিএম