করোনা আতঙ্কে বিনিয়োগকারীরা, ব্রোকারেজ হাউজ ফাঁকা

প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৪ ৮:০১:১১ পিএম
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | রাইজিংবিডি.কম

সারা বিশ্বের মতো দেশের পুঁজিবাজারেও করোনাভাইরাসের নেতিবচক প্রভাব পড়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের অনুমদিত ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আনাগোনা ছিল খুবই কম। হাতেগোনা দু—একজন বিনিয়োগকারীকে হাউজগুলোতে গিয়ে লেনদেন করতে দেখা গেছে।

অধিকাংশ বিনিয়োগকারী বাসায় থেকে টেলিফোনে, অনলাইনে ও অ্যাপের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচা করছেন। সার্বিক প্রেক্ষাপটে আতঙ্কে রয়েছেন বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টরা।

গত সোমবার (২৩ মার্চ) বিনিয়োগকারীদের করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সশরীরে ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে উপস্থিত হয়ে লেনদেন না করার জন‌্য অনুরোধ জনিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এরই ধারাবাহিকতায় বিনিয়োগকারীদের টেলিফোনে, অনলাইনে ও অ্যাপের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন করার জন‌্য অনুরোধ জানিয়েছে ব্রোকারেজ হাউজগুলো।

এছাড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে পুঁজিবাজারে লেনদেনের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী এখন প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। এর আগে পুঁজিবাজারে লেনদেনের সময় ছিল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত।

মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিল ও দিলকুশা এলাকায় অবস্থিত ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে বিনিয়োগকারী উপস্থিত কম ছিল। অন‌্যান‌্য কার্যদিবসে ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আনাগোনা অনেক বেশি থাকে। কিন্তু করোনা আতঙ্কে হাউজগুলোতে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি খুবই কম ছিল। তবে অধিকাংশ বিনিয়োগকারীরা ব্রোকারেজ হাউজে টেলিফোন করেই লেনদেন সম্পন্ন করেছেন।

তবে টেলিফোনে, অনলাইনে ও অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বিনিয়োগকারীকে ব্রোকারেজ হাউজে উপস্থিতি না হওয়ার ব‌াধ‌্যবাধকতা থেকে রেহাই পেলেও পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শেয়ার কেনাবেচার জন‌্য লিখিত আদেশ দাখিল করার বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজকে ওই বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে ব্যক্তিগত উপস্থিতি কিংবা ফ্যাক্স বা ই-মেইলের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচা সংক্রান্ত লিখিত আদেশ সংগ্রহ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সার্বিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের এ মুহূর্তে ব্রোকারেজ হাউজে আসতে না হলেও, পরবর্তীতে আইনি বাধ্যবাধকতা পরিপালন করতে হবে।

এ বিষয়ে ডিএসই’র পরিচালক মো. শাকিল রিজভী  রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বিনিয়োগকারীদের ব্রোকারেজ হাউজে না এসে ঘরে থেকেই লেনদেন করতে বলা হয়েছে। ফলে ব্রোকারেজ হাউজে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। তবে টেলিফোনের মাধ্যমে শেয়ার কেনা-বেচার আদেশ দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।’

এদিকে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস আতঙ্কের কারণে বিনিয়োগকারীদের ব্রোকারেজ হাউজে এসে লেনদেন করার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ফলে অন‌্যান‌্য দিনের তুলনায় আজ ব্রোকারেজ হাউজে বিনিয়োগকারী নেই বললেই চলে। তবে অধিকাংশ বিনিয়োগকারী টেলিফোনে, অনলাইনে ও অ্যাপের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন করছেন।’

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সামান্য পতনের মধ‌্যে দিয়ে শেষ হয়েছে ডিএসইর লেনদেন। এদিন সব সূচকের পাশাপাশি কমেছে টাকার পরিমাণে লেনদেন। তবে এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপবিরর্তিত রয়েছে। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সূচক ৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৭৭ পয়েন্টে। ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট, ডিএসই-৩০ সূচক ০.০৩ পয়েন্ট এবং সিডিএসইটি ২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৯১৭ পয়েন্টে, ১৩২৪ পয়েন্টে এবং ৭৮৫ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইতে ১৩৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১১৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা কম হয়েছে।

 

এনটি/সাইফ


     




আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

বড় জয়ে শিরোপার আরও কাছে বায়ার্ন

২০২০-০৬-০৬ ৯:৫৬:০১ পিএম

গাছ তলার সেলুন

২০২০-০৬-০৬ ৯:৩২:৩৬ পিএম