চিন্তায় কর্মে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করতে হবে

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-১৫ ১:২৬:৩৭ পিএম
আলী নওশের | রাইজিংবিডি.কম

১৫ আগস্ট, বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে শোক ও কলঙ্কিত দিন । ১৯৭৫ সালে  ১৫ আগস্টের কালরাতে সপরিবারে নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিলেন সর্বকালের সেরা বাঙালি, স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। নৃশংস ও ঘৃণ্যতম এই হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিনী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন।

১৫ আগস্টের ঘটনা ছিল মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্রকারীরা জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে প্রকারান্তরে বাঙালি জাতির আত্মাকে স্তব্ধ করতে চেয়েছিল। এ ঘটনার মাধ্যমে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি জাতির ঘাড়ে চেপে বসে। ইতিহাসের চাকা পিছনে ঘোরানোর চেষ্টাও চলে। স্বাধিকার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ফলশ্রুতিতে বাঙালি জাতি, বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছিল। জনগণের কাছে তিনি বন্ধু। জাতির কাছে তিনি পিতা। বিদেশীদের কাছে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। তার সম্পর্কে বিদেশি সাংবাদিক সিবিল ডান বলেছেন, ‘বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে শেখ মুজিবই একমাত্র নেতা যিনি রক্তে, বর্ণে, ভাষায়, কৃষ্টিতে এবং জন্মসূত্রেও ছিলেন খাঁটি বাঙালি। তার দীর্ঘ শালপ্রাংশু দেহ, বজ্রকন্ঠ মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করার বাগ্মিতা এবং জনগণকে নেতৃত্বদানের আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও সাহস তাঁকে এ যুগে এক বিরল এক মহানায়কে রূপান্তর করেছে’।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা পরিবর্তনের যে কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়, তার পরিণতিতে জাতীয় রাজনীতিতে বারবার বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধে তারা কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে। বাংলাদেশের মানুষ সে ষড়যন্ত্র সফল হতে দেয়নি। ১৯৯৬ সালে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল হয়। ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার এবং খুনিদের পাঁচজনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছে। মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক খুনিদের বিদেশ থেকে আইনি পথে দেশে এনে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাঙালি জাতির হৃদয় থেকে তার আদর্শ মুছে ফেলার যে অপচেষ্টা চালিয়েছিল খুনি চক্রের সদস্যরা তা সফল হয়নি।

বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বৈষম্যের অবসান ও শোষণমুক্তি। স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই বঙ্গবন্ধু দেশের অর্থনৈতিক ও শোষিতের মুক্তির লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সেসব বাস্তবায়নের আগেই ঘাতকের হাতে সপরিবারে নিহত হন তিনি। যা বাঙালি জাতির কাছে কালরাত শোকের দিন হিসেবে পালিত হয়। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন বাংলাভাষা যেন হয় বিশ্বসভায় বাঙালির সভ্যতার শ্রেষ্ঠ পরিচয়। তিনিই সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার লাভের পর এটাই বাংলা ভাষার আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

বঙ্গবন্ধু তার স্বপ্ন-সাধনা, সংগ্রামের মধ্যেই আত্মাহুতি দিয়েছেন। নিজের বুকের রক্তে, নিজের স্বজন পরিজনের রক্তে তিনি বাংলার নতুন ইতিহাস লিখে রেখে গেছেন, স্বাধীন বাংলার নতুন প্রজন্মের জন্য। বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু এই দুটি নাম আজ অভিন্ন। বাংলার স্বাধীনতা, ভাষা, সমাজ, সংস্কৃতি ও সভ্যতার মধ্যে বঙ্গবন্ধু চিরকালের জন্য চিরজাগ্রত। তাঁর মৃত্যু হয়নি। তিনি মৃত্যুঞ্জয়। বঙ্গবন্ধু নেই কিন্তু তার আদর্শ টিকে আছে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে। তবে শুধু আনুষ্ঠানিকতার বৃত্তে বন্দী না থেকে আমাদের চিন্তা ও কর্মে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ এবং তা বাস্তবায়ন করাই হোক শোক দিবসের অঙ্গীকার। জাতীয় শোক দিবসে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানসহ শাহাদাতবরণকারী সবাইকে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ ও তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৫ আগস্ট ২০১৯/আলী নওশের


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

শেষ ভালোর প্রত্যাশায়

২০১৯-০৯-২০ ১:২৯:০৭ এএম

খালেদের বিরুদ্ধে মাদকের আরেক মামলা

২০১৯-০৯-১৯ ১১:৩১:১৬ পিএম