ছাত্রলীগ নেতাকে হুমকি দিলেন প্রক্টর!

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-১৬ ৮:২১:৩৬ পিএম
সাভার সংবাদদাতা | রাইজিংবিডি.কম

বাঁয়ে জাবি’র ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান, ডানে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হামজা রহমান অন্তর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ছাত্রলীগের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা হয়েছে এমন ফোন আলাপ ফাঁস হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ‌্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হামজা রহমান অন্তর।

শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হামজা রহমান অন্তর রোববার রাতে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে লেখা একটি খোলা চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি একথা বলেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে লেখা খোলা চিঠিতে হামজা রহমান অন্তর দাবি করেন, ছাত্রলীগ নেতাদের ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান তাকে হুমকি প্রদান করেন।

এরআগে রোববার প্রকল্পের অর্থ কেলেঙ্কারির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও শাখা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের মধ্যকার অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়। অডিও শুনে বোঝা যায়, হামজা রহমান অন্তরই রাব্বানীকে ফোন দেন এবং পরবর্তীতে অন্তরের পাশে থাকা সাদ্দামকে ফোন ধরিয়ে দেন।

এই ফোন কল রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অন্তরকে হুমকি দিয়েছেন- এমন অভিযোগ তুলে তিনি চিঠিটি প্রকাশ করেছেন। অন্তরের সাথে প্রক্টরের ফোনালাপটিও এরই মধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্য লেখা চিঠিটিতে অন্তর লিখেছেন, ‘গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট সম্পর্কে জানার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ভাই হঠাৎ আমাকে ফোন দেন। এক পর্যায়ে ক্যাম্পাস ও শাখা ছাত্রলীগের অর্থ কেলেঙ্কারীর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে, আমি উক্ত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শাখা ছাত্রলীগের ১ নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ভাইয়ের সাথে কথা বলিয়ে দেই।’

তিনি লিখেছেন, ‘উক্ত ফোন কলের অডিও রেকর্ড আজ (রোববার) প্রকাশিত ও ভাইরাল হলে আজ (রোববার) সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফিরোজ উল হাসান স্যার আমাকে ফোন দিয়ে ওই ভাইরাল অডিও নিয়ে প্রচ্ছন্ন হুমকির সুরে বলেন, আমি কেন অডিও ভাইরাল করেছি এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-সম্মান নষ্ট করছে দাবি করেন। ’

‘কাজটি ঠিক হয়নি ও আমাকে দুর্নীতির প্রমাণ দেখাতে হুমকি প্রদান করলে আমি বলি, এটি জাহাঙ্গীরনগর ও দেশব্যাপী ওপেন সিক্রেট এবং আমাকেও টাকার ভাগ দেবার চেষ্টা করলে আমি প্রত্যাখান করি। জাবির ৩৮ থেকে ৪৫ ব্যাচের জুনিয়রেরাও টাকার ভাগ পেয়েছে। উপরোক্ত তথ্য বলার পরে উনি আমতা-আমতা করে বিষয়টি স্বীকার করলেও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।’

হামজা রহমান অন্তরের সাথে প্রক্টরের ফোনালাপটি এরই মধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। অডিওতে অন্তরের উদ্দেশ্যে প্রক্টরকে বলতে শোনা যায়, ‘ফোনটা যেহেতু তোমার, তোমাকেই কিন্তু দায়টা নিতে হবে। তোমার ফোনে কথপোকথন তুমি কিন্তু দায়টা এড়াতে পার না।’

কথপোকথনের এক পর্যায়ে হামজা রহমান রহমান অন্তরকে বলতে শোনা যায়, ‘ক্যাম্পাসের ৪৪-৪৫ ব্যাচ পর্যন্ত টাকা পাইছে, আমি এটা গোপন রাখার কী আছে স্যার?....স্যার আপনি যদি চান, আমি আপনাকে প্রমাণ দেখাতে পারবো, ৪৪-৪৫ ব্যাচও টাকা পাইছে।’

এবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘অন্তরের সাথে আমার আন্তরিক সম্পর্ক। এইজন্যই ফোন আলাপ ফাঁস হওয়ার পর তাকে কল করেছিলাম। তবে সে যে অভিযোগটা করেছে তা মিথ্যা। আমার মনে হয় হতাশা থেকেই করেছে।’


রাইজিংবিডি/সাভার/১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯/সাব্বির/সনি


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

ইলিশ বাঁচাতে নদীতে পুলিশ

২০১৯-১০-১৮ ১০:৫৬:২৪ এএম

ড্রাগন ফল কতটা স্বাস্থ্যকর?

২০১৯-১০-১৮ ৯:০৬:২৯ এএম

দেয়ালচিত্রে আবরারের কথা

২০১৯-১০-১৮ ৮:৩৯:২৫ এএম

পাঁচ বছর বয়সেই মা

২০১৯-১০-১৮ ৮:২১:৫৭ এএম