‘নারীর ক্ষমতায়নে উদ্যোক্তা হওয়ার বিকল্প নেই’

প্রকাশ: ২০২০-০১-২৮ ৮:৫৭:১২ পিএম
আশিকুর রহমান | রাইজিংবিডি.কম

মৈমনসিংহ গীতিকা, মহুয়া, মলুয়া, দেওয়ানা মদীনা, চন্দ্রাবতী, কবিকঙ্ক, দীনেশচন্দ্র সেন এবং মুক্তাগাছার মণ্ডার জন্য বিখ্যাত ময়মনসিংহ জেলা। বিখ্যাত এই জেলার ত্রিশাল থানার পাঁচপাড়া গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা নুসরাত হিমা।

বাবা সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, পড়াশুনার সুযোগ হয়েছে বিভিন্ন স্কুলে। নেত্রকোনা মধুমাছি কচি কাঁচা বিদ্যানিকেতন থেকে শুরু করেন শিক্ষাজীবন। ত্রিশাল নজরুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং অ্যাডভান্সড রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন তিনি। বর্তমানে হিমা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত রয়েছেন।

পড়াশুনার পাশাপাশি প্রিয় মানুষের উৎসাহে স্বাবলম্বী জীবনের পথ চলা শুরু তার। কাঠ, সুতা, পুঁতি, রঙ আর বিভিন্ন ধাতব দিয়ে তৈরি করা নারীদের নানা রকম গয়না নিয়ে যাত্রা শুরু করে নুসরাতের অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘সুহাসিনী’। সুহাসিনী মানে যে নারীর হাসি সুন্দর। প্রতিটি নারীর হাসিই সুন্দর। সুন্দর সুন্দর গয়না হাতে পাওয়ার পর তাদের মুখ আনন্দে ভরে ওঠে। তাই এই নামকরণ করা বলে জানান নুসরাত।  

নুসরাত হিমা বলেন, ‘শুরুর অল্প কিছু দিনের মধ্যেই বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। কাজ করছি আর প্রতিদিন নতুন নতুন কিছু শিখছি। বাঁধার চেয়ে উৎসাহই বেশি পেয়েছি। মূলত দাম নিয়ে ক্রেতাদের কিছুটা সমস্যা হয়। কিছু কিছু ক্রেতা আছেন এমন দাম বলেন, যা শুনে সত্যিই খুব খারাপ লাগে। তখন বন্ধুদের সাথে কথা বলি, তারা বোঝায়, আর মন ভালো হয়ে যায়। চেষ্টা করি সবার সাধ্যের মধ্যে সব কিছু রাখতে। শুধু কাঠ, সুতা আর রঙ দিয়ে গয়না বানানোই না, চাই নিজে কিছু সৃষ্টি করতে। প্রতিটা গয়নাই আমার কাছে প্রিয়।’

‘অনেক ভালোবাসা মিশে থাকে প্রতিটা কাজে। বর্তমানে আমরা পেনডেন্ট, রিং, ইয়ার রিং, পায়েল, টিপ মোট কথা মেয়েদের সব ধরনের অলঙ্কারই বিক্রি করছি। প্রতিটা জিনিসেরই চাহিদা সমান। তবে, কাঠের জিনিসের চাহিদা একটু বেশি’, বলেন তিনি। 

তিনি আরো বলেন, ‘আমার আম্মুর অনেক সখ ছিল নিজ উদ্যোগে কিছু একটা করার। কিন্তু নানা কারণে তিনি করতে পারেননি। ছোট থেকেই আম্মু বলতো কিছু করতে হবে। প্রতিটা মেয়েরই উচিৎ কিছু করা। নারীর ক্ষমতায়নে উদ্যোক্তা হওয়ার বিকল্প নেই। আম্মু অনেক ভালো কাজ জানেন। ছোটবেলা থেকেই হাতের কাজ করতাম। আমি যা পারি তা দিয়েই কিছু একটা করার নেশা, আর পড়াশুনার পাশাপাশি আমি খুব সহজেই এই কাজ করতে পারি, তাই উদ্যোক্তা হওয়া।’

‘একটা সময় সব কিছু ধোঁয়াশা মনে হচ্ছিল, কিন্তু এই পেশায় আশার পর সেই সমস্যা দূর হয়েছে। এই কাজ করার পর অনেক নতুন নতুন মানুষদের সাথে প্রতিদিনই পরিচিত হচ্ছি। বিভিন্ন বয়স এবং পেশার লোকজনের সাথে কথা হচ্ছে। ফলে, নতুন নতুন অভিজ্ঞতা যুক্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত’, বলেন হিমা।

তিনি জানান, প্রিয় মানুষের প্রেরণায় আজ তিনি এতদূর আসতে পেরেছেন। তার প্রতি কৃতজ্ঞ। এছাড়াও বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে যারা তাকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

নবীন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে নুসরাত বলেন, ‘আমি মনে করি, উদ্যোক্তা হতে হলে প্রথমে তার ফোকাস পয়েন্ট ঠিক করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী সামনে আগানো উচিৎ। নিজের ফোকাসে পৌঁছাতে যা যা করা দরকার, তাই করা উচিৎ। অবশ্যই ধৈর্য এবং সহনশীলতা থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, কাজ করতে গেলে নানা রকম বাঁধা আসবে, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ, কোনো কাজই সহজ না। চড়াই উতরাই পার করেই কাজে সফল হতে হবে।’ 

বর্তমানে গহনা নিয়ে কাজ করলেও ভবিষ্যতে পোশাক নিয়েও কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন নুসরাত হিমা। এছাড়াও ধীরে ধীরে তার এই কার্যক্রম আরো বড় পরিসরে তৈরি করে অন্তত কিছু তরুণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চান স্বপ্নবাজ এই তরুণ উদ্যোক্তা।

লেখক: শিক্ষার্থী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।


জাককানইবি/হাকিম মাহি


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

‘কয় বেলা না খেয়ে থাকা যায়’

২০২০-০৩-২৯ ৬:২৯:০২ পিএম

প্রভাস ভক্তদের অপেক্ষা বাড়ছে?

২০২০-০৩-২৯ ৫:২৮:৪৮ পিএম