‘আমরা বেকারদের খুঁজে চাকরি দেই’

প্রকাশ: ২০২০-০১-৩০ ৯:৪৪:২৬ পিএম
খালিদ সাইফুল্লাহ্ | রাইজিংবিডি.কম

নিজে পরিশ্রম করেন এবং পরিশ্রমীদের ভালোবাসেন। তিনি মনে করেন, পরিশ্রম হলো স্বাবলম্বী হওয়ার প্রধান চাবিকাঠি। বলছি, তরুণ উদ্যোক্তা স্টার্লিং ডি মামুনের কথা। তিনি নিজে স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সারা দেশের ৪ হাজারের বেশি নিম্নমধ্যবিত্ত আয়ের কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

‘অর্থের বিনিময়ে কাজ, এরই নাম স্বপ্নবাজ’ স্লোগানকে সামনে রেখে গড়ে তুলেছেন ‘টিম স্বপ্নবাজ’ নামে একটি ইভেন্ট অ্যাক্টিভেশন টিম। তার সাথে রয়েছেন আরো পাঁচজন পরিচালক। আর এ টিমের সদস্যরা কাজ করছেন সারা দেশব্যাপী।

টিম স্বপ্নবাজের মাধ্যমে ভালো অঙ্কের উপার্জন করতে সক্ষম হচ্ছেন ঢাকায় আসা নিম্নমধ্যবিত্ত ঘরের শিক্ষার্থীরা, পাশাপাশি পরিবারকেও অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করতে সক্ষম হচ্ছেন তারা। এই স্বপ্নবাজ মানুষটি এবং তার স্বপ্নবাজ টিমের পথচলার গল্প শোনাচ্ছেন রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ্।

খালিদ: প্রতিষ্ঠানের নাম ‘স্বপ্নবাজ’ রাখার কারণ জানতে চাই।

মামুন: আমি নিজে একজন স্বপ্নবাজ, স্বপ্ন দেখি এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাই। একটি টিম হয়ে অনেকে মিলে কাজ করব- এরকম পরিকল্পনা আমাদের ছিল। আমরা একটি বিশেষ নাম খুঁজেছিলাম, যেটি সবার পছন্দ হবে এবং আমাদের মিশনকে তুলে ধরবে। তখনই ‘টিম স্বপ্নবাজ’ নাম ঠিক করি আমরা। এখানে যারা থাকবেন, সবাই স্বপ্ন দেখবেন, স্বপ্ন দেখেই থেমে থাকবেন না, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করবেন। এই কারণেই স্বপ্নবাজ নামটি রাখা।

খালিদ: আপনারা কোন সেক্টরে কাজ করছেন এবং কি কি সেবা দিচ্ছেন?

মামুন: আমরা মূলত বিভিন্ন কোম্পানির অ্যাক্টিভেশন এবং ইভেন্ট নিয়ে কাজ করছি, ব্র্যান্ড প্রমোটার দিচ্ছি। পাশাপাশি আমরা প্রোডাক্ট বেইসড মার্কেটিং নিয়েও কাজ করছি।

খালিদ: যাত্রা শুরুর গল্প জানতে চাই।

মামুন: আমি অনার্স প্রথম বর্ষে থাকাকালীন ইভেন্ট অ্যাক্টিভেশনের কাজ শুরু করি। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হিসেবে নিজের পড়াশোনার খরচ যাতে নিজেই চালাতে পারি, এই চিন্তা থেকে ইভেন্ট অ্যাক্টিভেশনে আসা। ২০১২ সাল থেকেই এই সেক্টরে কাজ করছি। এরপর বিভিন্ন কোম্পানি থেকে একের পর এক কাজ পেতে থাকি নিয়মিত। একসাথে ৫/৬টা প্রজেক্ট যখন হাতে পাই, এই কাজগুলো ম্যানেজ করার জন্য প্রচুর লোক দরকার হয়। তখন আমি টিম তৈরি করে কাজ শুরু করি, এভাবেই টিম স্বপ্নবাজের যাত্রা শুরু হয়।

খালিদ: আপনাদের পথচলা এবং বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে বলুন।

মামুন: আমরা এখন সারা দেশে ইভেন্ট অ্যাক্টিভেশনের কাজ করছি। সারা দেশে সব মিলিয়ে ৪ হাজারের অধিক প্রমোটার আছেন টিম স্বপ্নবাজের। এর মধ্যে ইভেন্ট অ্যাক্টিভেশনে নিয়মিত কাজ করছেন ৬০০ জনের বেশি। ঢাকাতে নিয়মিত কাজ করছেন প্রায় ৩০০ এর অধিক ব্র্যান্ড প্রমোটার। আমরা দেশের শীর্ষ মোবাইল ব্যাংকিং কোস্পানি, সিম কোম্পানি, ড্রিংকস কোম্পানি এবং এজেন্সির সাথে কাজ করছি নিয়মিত।

খালিদ: টিম স্বপ্নবাজের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন কারা?

মামুন: ইভেন্ট অ্যাক্টিভেশনের কাজগুলো বেশির ভাগই করে স্টুডেন্ট, যারা ঢাকাতে নতুন এসেছে বা সবেমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। এই সকল ছেলেমেয়েরা পরিচিত বড় ভাইবোন না থাকার কারণে টিউশন খুঁজে পায় না, আমরা মূলত এদেরকে খুঁজে খুঁজে কাজ দেবার চেষ্টা করি। তারা পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত ইভেন্ট অ্যাক্টিভেশনে কাজ করলে খুব সহজেই মাসে ১৫০০০ থেকে ২০০০০ টাকার বেশি ইনকাম করতে পারেন। এতে করে তারা ফ্যামিলিকেও সাপোর্ট দিতে পারছেন।

খালিদ: দেশের বেকার সমস্যা সমাধানে আপনাদের ভূমিকা জানতে চাই।

মামুন: বাংলাদেশে বেকার অনেক, চাকরি সোনার হরিণের মতো। প্রাইভেট সেক্টরে জব পেতে গেলেও রেফারেন্স প্রয়োজন হয়। ইভেন্ট অ্যাক্টিভেশনের কাজ করলে অনেক কিছু শেখা যায়, স্কিল ডেভেলপ হয়। পরবর্তী সময়ে জব পাওয়া তাদের জন্য সহজ হয়। আমরা এই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই কাজ করছি। সমাজে এত বেকার, তাদের আমরা গ্র্যাজুয়েশন শেষ হবার আগেই জব দিতে পারছি, আমাদের মাধ্যমে তারা ফ্যামিলিকে সাপোর্ট দিচ্ছে; এটি আমাদের একটি ভালো লাগার জায়গা। এছাড়াও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমরা সামাজিক উন্নয়নমূলক স্বেচ্ছাসেবী কিছু কাজ করছি।

যেমন- টিম স্বপ্নবাজের কেউ বেতন পাবার সাথে সাথেই তাকে ন্যুনতম তিনটা করে গাছ লাগাতে হবে, বা তিনটা গাছ গিফট করতে হবে। প্রত্যেক মাসের বেতন পাওয়ার পর নিয়মিত তাকে গাছ লাগাতে হবে। এছাড়াও স্বপ্নবাজের সদস্যরা নিয়মিত রক্তদান করেন।

খালিদ: স্বপ্নবাজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

মামুন: আমরা সারা দেশের একেবারে গ্রাম পর্যায়ের ছেলেমেয়েদের নিয়ে কাজ করতে চাই। যারা গ্রাম বা মফস্বলে বেকার আছেন, আমরা তাদের নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আমি চাই সারা দেশে টিম স্বপ্নবাজের প্রত্যেকেই প্রতিষ্ঠিত হোক।

খালিদ: বাংলাদেশে এই সেক্টরের সুযোগ এবং সম্ভাবনা?

মামুন: দেশে এই সেক্টরে কাজ করার প্রচুর সুযোগ আছে। ঢাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা অ্যাক্টিভেশন কোম্পানি আছে, যেখানে স্টুডেন্টদের জন্য কাজ করার বড় সুযোগ রয়েছে। তারা চাইলেই পার্টটাইম বা কন্টাকবেজড কাজ করে ভালো অঙ্কের উপার্জনের পাশাপাশি নিজেদের টিমওয়ার্কিং এবং কমিউনিকেশন স্কিল বৃদ্ধি করতে পারেন।

খালিদ: বাংলাদেশে এই সেক্টরের চ্যালেঞ্জগুলো যদি বলেন।

মামুন: আমরা যেহেতু থার্ড পার্টি হিসেবে কাজ নেই, এতে করে অনেকসময় কোম্পানিগুলো থেকে ঠিক সময়ে পেমেন্ট পাওয়া যায় না, এটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো, মাঠে কাজ করার জন্য পরিশ্রমী ব্র্যান্ড প্রমোটার খুবই কম। কেউ হয়তো কিছু দিন শখের বশে কাজ করার পর ঠিকমত পরিশ্রম করতে পারে না, বা চাকরি ছেড়ে দেয়। দেশে বেকার অনেক, কিন্তু পরিশ্রমী মানসিকতার মানুষের বড়ই অভাব।

 

এসএসইউ/হাকিম মাহি


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

রম্যগদ্য

বন্যেরা জনপদে, মানুষ গৃহকোণে

২০২০-০৩-২৮ ১:৪১:১৬ পিএম

করোনা সচেতনতায় আসিফের গান

২০২০-০৩-২৮ ১:৩৪:০৪ পিএম

গোপালগঞ্জ শহরে জীবাণুনাশক স্প্রে

২০২০-০৩-২৮ ১:২২:৩০ পিএম

এ যেনো এক অচেনা শহর

২০২০-০৩-২৮ ১:১৫:২১ পিএম

মমতার পথে হাঁটলেন নুসরাত জাহান

২০২০-০৩-২৮ ১:১৩:৫০ পিএম