চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা

প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৭ ৪:১৫:০৮ পিএম
স্টার্লিং ডি মামুন | রাইজিংবিডি.কম

কর্মবিমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত অসংখ্য বেকারের মধ্যে চাকরি এখন সোনার হরিণ। সিভি দিয়ে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর বসে আছেন রহিম, করিম, সেফালি কিংবা রুপালির মতো অনেক অসহায় বেকার। এ অবস্থায় অনেকেই হতাশায় বেছে নেন নানা অন্যায় পথ৷

আবার অনেক সাহসী যুবক বেকারত্বের বিষবাষ্প থেকে বেরিয়ে নিজেকে মুখোমুখি করেন উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চ্যালেঞ্জে। আজ এমনই এক স্বপ্নবাজ তরুণ উদ্যোক্তার গল্প শোনাবো।

উদ্যোক্তা সাইফুল্লাহ আল মাহদী। ১৯৯১ সালের ৭ জানুয়ারি নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার পিছলডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক পাস করেন। তিনি আর ১০ জন যুবকের মতোই চাকরি করবেন সেটাই ইচ্ছে।  কখনো চিন্তাই করেননি ব্যবসা করবেন।

ছোটবেলা থেকেই স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করতে খুব ভালো লাগতো তার। টুকটাক লেখালেখির চর্চাও ছিল। ২০০৫ সালে ঢাকায় এসে লেখালেখি ও আড্ডা এক ধরনের নেশায় পরিণত হয়। সেই সুবাদে কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় কাজ করার সুযোগ পান। এর মধ্যে দিয়ে তার বিস্তৃত হয় সবার সাথে যোগাযোগ।

২০১০ সালে সাইফুল্লাহ আল মাহাদী ও তার কয়েকজন বন্ধু মিলে একটি সাহিত্য ম্যাগাজিন প্রকাশের উদ্যোগ নেন। বেশ অল্প সময়ের মধ্যে এর ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়ে দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও। তখনো উদ্যোগের আভিধানিক-পারিভাষিক কোনো অর্থই বোঝেননি তিনি। বুঝতেন কাজ করতে হবে- কাজ করে গিয়েছেন।

২০১২ সাল পর্যন্ত সেই উদ্যোগ টিকে ছিল। তিনি ২০১৩ সালে বেসরকারি একটি উন্নয়ন সংস্থায় একটি প্রকল্পে কাজের সুবাদে পুরো বাংলাদেশ চষে বেড়ান। তখনো চিন্তা আসেনি ব্যবসা করবেন। প্রযুক্তির প্রতি ঝোঁক থেকেই প্রযুক্তি কেন্দ্রীক সব বিষয় ধীরে ধীরে শিখে নেন স্বপ্নবাজ এই তরুণ। যেকোনো কাজে কখনো কাউকে না করেননি। যেটি পারতেন না, সেই কাজটি শিখে এসে করে দিতেন ক্লান্তিহীনভাবে।

প্রকল্পের সময় যখন ২০১৬ সালে শেষ হয়ে যায়, তখন তার মাথায় আসে প্রযুক্তি কেন্দ্রীক ব্যবসার। ব্যবসার কোনো নাম না দিয়ে ফ্রিল্যান্স হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেসময়ে একটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হোন তিনি৷ আর সেটাই টার্নিং পয়েন্ট।

মাহাদীর নিজস্ব কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকায় তার ক্লায়েন্ট থেকে কাজ পাচ্ছিলেন না। এর মধ্যে ওয়েব ডিজাইনের প্রশিক্ষণ নেন বিআইটিএম থেকে, জাভাস্ক্রিপ্টের প্রশিক্ষণ নেন পন্ডিতডটকম থেকে। এভাবে কাজ শিখতে থাকেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ে অনেকেই কাজ করে নিতেন, কিন্তু বিনিময়ে কোনো অর্থ দিতেন না তারা।

জীবনের তাগিদে আবারো চাকরিতে যোগ দেন। কিন্তু মাথায় চেপে ধরে ব্যবসার ভূত। মনে করতে লাগলেন এত দিনে একটু একটু শিখতে শুরু করেছেন ব্যবসার অ-আ-ক-খ। ২০১৭ সালের শেষ দিকে মোটা বেতনের চাকরি ছেড়ে ‘টেকডেকোর বাংলাদেশ’ নাম দিয়ে শুরু হয় পথচলা। আইটি ব্যবসা ক্যাটাগরিতে ট্রেড লাইসেন্স নেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্টও ওপেন করেন।

টেকডেকোর প্রতিষ্ঠানের সেবাগুলোর মধ্যে ডোমেইন/হোস্টিং, ওয়েব ডিজাইন, ইনভেন্টরি/অ্যাকাউন্টিং/পিওএস সফটওয়্যার, অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট, অডিও ভিজ্যুয়াল, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং ও প্রিন্টিং সেবা অন্যতম।

২০১৮ সালে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নিবেদিত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ ইয়ুথ এন্টারপ্রাইজ অ্যাডভাইস অ্যান্ড হেল্পসেন্টার (বি’ইয়া’র) সাথে যুক্ত হয়ে ব্যবসায় বিপণন ও ব্যবসায় পরিকল্পনাবিষয়ক প্রশিক্ষণ পেয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে সমৃদ্ধ হোন স্বপ্নবাজ তরুণ মাহাদী। তারপরই সিদ্ধান্ত নেন- একজন নতুন উদ্যোক্তা যেন পুরো আইটি সমাধান পেতে পারে সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

টেকডেকোর বাংলাদেশের অফিস ঢাকার লালমাটিয়ার এ-ব্লকে। নিয়মিত কর্মী একজন, অনিয়মিত কর্মী পাঁচজন, যারা প্রকল্প ভিত্তিতে কাজ করেন। ২০২০ সালে বছরের শুরুটা ভালো ছিল। ফেব্রুয়ারির পর করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় বিশ্বব্যাপী মানুষের বেঁচে থাকার চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সকল ব্যবসা বা কর্মক্ষেত্রে অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে শুরু হয়েছে, তারাও এই চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? জানতে চাইলে সাইফুল্লাহ আল মাহাদী বলেন, ‘আগামীতে টেকডেকোর শুধু আমার প্রতিষ্ঠান না করে, আমাদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। যেখানে হাজার হাজার কর্মী তাদের নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে টেকডেকোরের সাথে থাকবেন। একটা সময় চাকরি করতাম, মানে চাকর ছিলাম। এখন চাকরি দিচ্ছি, মানে ছোট্ট হলেও মালিক হয়েছি। এটা গর্বের।’

‘যারা উদ্যোক্তা হতে চান, তাদের ধৈর্য ধরতে হবে, শিখতে হবে, অনেক বাধা আসবে, হতাশা আসবে। সবকিছু বাদ দিয়ে টিকে থাকতে হবে। ছোট পরিসরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে হবে’, বলেন তিনি।

লেখক: তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।


ঢাকা/হাকিম মাহি


     




আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

ক্রিকেটের রেকর্ড থেকে

২০২০-০৬-০৩ ৯:০৭:২১ এএম

রেল কি করোনা এক্সপ্রেস ?

২০২০-০৬-০৩ ৮:০৮:২৬ এএম

জিপিএ-৫ পেয়েও কাঁদছেন তানিয়া

২০২০-০৬-০৩ ৩:৩২:৪৪ এএম

৮২ কোচ পেলেন মাশরাফির ‘উপহার’

২০২০-০৬-০৩ ১:২২:৪১ এএম