নীলার ‘নীলাসা বিউটি কালেকশন’

প্রকাশ: ২০২০-০৫-২০ ২:৪৫:২৭ পিএম
স্টার্লিং ডি মামুন | রাইজিংবিডি.কম

সভ্যতার উত্থান-পতনে নারীর ভূমিকা ছিল চিরদিন চোখে পড়ার মতো। নারী একাধারে মা, মেয়ে, স্ত্রীর ভূমিকা পালনের পাশাপাশি সভ্যতা বিনির্মাণে তাদের চেষ্টা অসামান্য।

সময় যতো গড়িয়েছে, নারী হয়েছে অধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। নানা রকমের চাকরির পাশাপাশি নিজেদের প্রচেষ্টা সংগ্রামের মাঝে হয়েছেন উদ্যোক্তা। নারীরা এদেশের স্বাধীনতার সময় তাদের হাতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র পুরুষের সাথে তাল মিলিয়ে। আবার তারা সেই হাতেই দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে রেখে যাচ্ছেন বড় অবদান। আজ এমনই একজন স্বপ্নবাজ নারীর গল্প শোনাবো।

প্রীতি ঘোষ নীলা। জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভার উপজেলার ছোট্ট একটি গ্রাম নরসিংহপুরে। সেখানেই বসবাস করছেন তিনি। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েছেন অনেক আগে, তার সাথে কলেজের গণ্ডিও। আইন বিভাগে অনার্স করেছেন। মাস্টার্স করছেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যায়ল থেকে। পাশাপাশি নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে ডিপ্লোমা করেছেন। ফুড অ্যান্ড পেস্টি নিয়েও করেছেন পড়াশোনা। অর্গানিক প্রোডাক্টের উপর কোর্স করেছেন। বর্তমানে তিনি অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘নারী উদ্যোক্তার খোঁজে’ এর সাথে কাজ করছেন।

স্বপ্নবাজ এই নারীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম ‘নীলাসা বিউটি কালেকশন’ অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। প্রীতি ঘোষ নীলা সাধারণত কাজ করছেন অর্গানিক বিউটি প্রোডাক্টস নিয়ে। যা গুণগত মানে অনন্য। মানুষের বাহ্যিকভাবে যা যা প্রসাধনী প্রয়োজন সব কিছুই অর্গানিক উপায়ে তৈরি করে বাজারজাত করে থাকেন। অর্গানিক বিউটি প্রডাক্টসের সাথে সাথে ছোট আকারে কাজ করছেন কাঠের গহনা, ব্লক/বাটিক/হ্যান্ড প্রিন্ট/ট্রাই ড্রাই নিয়ে।

‘নীলাসা বিউটি কালেকশন’ প্রায় তিন বছর ধরে কাজ করে আসছে সুনামের সাথে। কর্মকর্তা/কর্মচারী বলতে নিজেই সব করে থাকেন স্বপ্নবাজ এই নারী। নিজের বাসার একটা কক্ষকে অফিস হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।

উদ্যোক্তা হিসেবে চ্যালেঞ্জ কী? প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘একজন উদ্যোক্তাকে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। প্রোডাক্টসের গুণগত দিক ধরে রাখতে হয়। কাস্টমারকে পরিচালনা করতে হয়। তাদের চাহিদা বা ডিমান্ড অনুযায়ী তাদের পণ্য তৈরি করতে হয়। অনেক ধরনের কুটুক্তিমূলক কথা শুনতে হয়।’

‘শত ব্যস্ততার মধ্যে তাদের সাথে শান্ত হয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় অনেক গালিও হজম করতে হয়। নিজের পণ্যটি যেন সবচেয়ে ইউনিক এবং গ্রাহকের নজরে আসে তার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়’, বলেন তিনি।

উদ্যোক্তা নীলা যখন কাজ শুরু করেছেন অনেক ধরনের কথা শুনেছেন আশেপাশের মানুষের মুখে। এমনকি পরিবারের কাছ থেকেও সাপোর্ট পাননি। সব সময় চাইতেন বাবা-মায়ের কাছ থেকে টাকা যেন না নিতে হয়। যা মনের ভেতরে প্রচণ্ড জেদ থেকেই উদ্যোক্তা হওয়া৷ চিন্তা ছিল অন্তত নিজের খরচটুকু নিজে চালাবেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘মানুষ প্রথম প্রথম টিটকারি দিতো খুব বাঁজে কথাও শুনেছি, এখনো শুনি তবে কানে নেই না। মোবাইলে কাস্টমারের কল আসতো। প্রোডাক্ট নেবে মোবাইলে বেশি কথা বলা হতো, বা বাইরে গিয়ে ডেলিভারি দেওয়া এটাও চোখে লাগতো সবার। বিভিন্ন রকম আক্রমণাত্মক কথাতো লেগেই থাকে সব সময়। কাঁচামাল যখন কিনতে যেতাম, প্রথম প্রথম দোকানদারদের চোখ কপালে ওঠে যেত মেয়ে বলে।’

‘পরিবহনে যখন কাঁচামাল নিয়ে আসি, বাসের লোক বলতো মেয়ে মানুষ হয়ে কষ্টটা করার দরকার কী? সব প্রতিবন্ধকতা ছাপিয়ে এখন বেশ ভালো আছি৷ অনেকে অনেক কথা বললেও এখন খারাপ লাগে না’, বলেন তিনি।

এখন একজন উদ্যোক্তা হিসেবে কেমন আছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একজন উদ্যোক্তা হিসেবে ভালো আছি। কারণ, নিজে কিছু করতে পারছি। পরিবার থেকে এখন সহযোগিতা পাচ্ছি। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে, যখন বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মানুষ আমার প্রোডাক্ট ব্যবহার করে। একটা কথা বলে, আপু ১০০ ভাগ পিওর জিনিস পেয়েছি। তাদের ভালো রিভিউ এবং আমার প্রতি একটা আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে। আমি চাই এই আস্থাটা আজীবন ধরে রাখতে।’

স্বপ্ন দেখেন একদিন তার উৎপাদিত পণ্য দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হবে। নিজের একটি শপ হবে। সবার মুখে মুখে থাকবে, একটা শপ আছে যেখানে পিওর জিনিস পাওয়া যায়। তিনি এগিয়ে যেতে চান বহুদূরে, যাতে কয়েকজন নারীকেও তার প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ দিতে পারেন।

উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যারা উদ্যোক্তা হতে চান অবশ্যই মনে রাখবেন, পেছন থেকে মানুষ টেনে ধরবে আপনাকে নিচে নামানোর জন্য। তাদের কথা কানে না নিয়ে উপরে ওঠার চেষ্টা করবেন। পরিশ্রমের বিকল্প নেই, ধৈর্য্য নিয়ে পরিশ্রম করলে সফলতা নিশ্চিত। আপনি যেটা খুব ভালো পারেন, সেটাতেই আপনি আপনার মেইন ফোকাস দিন, সফলতা আসবে।’

লেখক: তরুণ উদ্যোক্তা।

 

ঢাকা/হাকিম মাহি


     




আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

ক্রিকেটের রেকর্ড থেকে

২০২০-০৬-০৩ ৯:০৭:২১ এএম

রেল কি করোনা এক্সপ্রেস ?

২০২০-০৬-০৩ ৮:০৮:২৬ এএম

জিপিএ-৫ পেয়েও কাঁদছেন তানিয়া

২০২০-০৬-০৩ ৩:৩২:৪৪ এএম

৮২ কোচ পেলেন মাশরাফির ‘উপহার’

২০২০-০৬-০৩ ১:২২:৪১ এএম