করোনা মোকাবিলায় ‘সুহৃদ’ আছে বন্ধু বেশে

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৮ ১:৫৯:১১ পিএম
জাহিদ সাদেক | রাইজিংবিডি.কম

বিদ্রোহী কবির ‘খোকার সাধ’ কবিতায় খোকা মাকে বলছে, ‘আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?’ করোনার এই ক্রান্তিকালের আঁধার দূর করে তরুণরাই নিয়ে আসবে নতুন ভোর। সেই প্রত্যাশায় দিকে দিকে জেগে উঠছে তরুণের দল। তারা পাশে দাঁড়াচ্ছে এলাকার অসহায়, দুস্থ মানুষের। তেমনই একদল তরুণ একই উদ্দেশ্যে গড়ে তুলেছে ‘সুহৃদ’ সংগঠন।

সীমাবাড়ি বগুড়া জেলার শেরপুর থানার একটি ইউনিয়ন। করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমগ্র দেশের মতো এই ইউনিয়নের দুস্থ, অসহায় মানুষকেও দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘সুহৃদ’। গ্রামে গ্রামে ঘুরে করোনা মোকাবিলায় সচেতনতা তৈরি, দুস্থদের সহায়তা প্রদানসহ নানামুখী কার্যক্রম তারা হাতে নিয়েছে। ডেঙ্গু রোধেও তাদের উদ্যোগ এলাকায় প্রশংসীত হচ্ছে।

আতঙ্ক নয়, সচেতনতার মাধ্যমেই সম্ভব করোনাভাইরাস প্রতিরোধ- এই মূলমন্ত্রে, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সংগঠনটি। প্রথম পর্যায়ে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য হাত ধোয়া সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সাবান বিতরণ এবং পথচারীদের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করে। এরপর তারা নিয়ম মেনে জীবাণুনাশক দ্রবণ তৈরি করে প্রায় শতাধিক বাড়িতে ছিটিয়ে দেয়। একইসঙ্গে এলাকার বাজার, বাসস্ট্যান্ড, রিকশা, মোটরবাইক ও ভ্যানগাড়িতেও জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ‘সুহৃদ’ সদস্যরা এলাকার দুস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে। এর মধ্যে রয়েছে চাল, আটা, সয়াবিন তেল, আলু, লবণ, বুটের ডাল, সাবান প্রভৃতি। এক্ষেত্রে প্রথমে বাড়ি চিহ্নিত করে খাদ্যসামগ্রী সেখানে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রায় শতাধিক পরিবার এই খাদ্য সহায়তা পেয়েছে।

তৃতীয় পর্যায়ে ‘সুহৃদ’ ২০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বাড়িতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। চতুর্থ পর্যায়ে সংগঠনের সদস্যরা কোভিড-১৯ প্রতিরোধে নিজ এলাকার ছোট ছেলেমেয়েদর মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেয় এবং সাবান বিতরণ করে। এ সময় তারা নিজেদের পাড়ার সড়ক, অলিগলি ও আশেপাশের পরিবেশ ভাইরাসমুক্ত রাখতে জীবাণুনাশক স্প্রে করে। পাশাপাশি তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধেও নজর দেয়। এমনকি মে দিবসে তারা নেয় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এ দিন সংগঠনের সদস্যরা পরিবহন শ্রমিক এবং এলাকার শ্রমজীবীদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেয়।

সংগঠনের শুরু এবং এর কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রধান উদ্যোক্তা পবিত্র কুমার দে সরকার জানান, নিজ গ্রামে লকডাউনে আটকে থাকা কর্মহীন অনাহারী হতদরিদ্র মানুষের খবর নেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এই বোধ থেকেই আমরা কয়েকজন তরুণ উদ্যোগ নেই। এখন এলাকার অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। নানাভাবে তারা আমাদের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করছেন। বন্ধুদের অনেকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছে। আমরা ষষ্ঠ পর্যায়ে চাচ্ছি এলকার দরিদ্র মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে। আর্থিক ব্যবস্থা হয়ে গেলে আমরা এটা দ্রুতই শুরু করতে পারব।

সংগঠনের অন্যান্য তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে রয়েছেন অলোক বসাক, দেবাশীষ সাহা, গৌতম দাস, আনন্দ চন্দ, সৌরভ সাহা, অপূর্ব চাকী প্রমুখ।

 

ঢাকা/তারা


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস আজ

২০২০-০৫-৩১ ১২:৪২:০৮ এএম

ইতালিতে আবারও বাড়ছে করোনায় ‍মৃত্যু

২০২০-০৫-৩০ ১১:৫৪:০৮ পিএম