করোনায় মৃত্যুর রেকর্ড: ‘শিথিল লকডাউন’কে দুষছেন বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৩ ৮:৪৩:০১ পিএম
আহমদ নূর | রাইজিংবিডি.কম

যত দিন যাচ্ছে, ততই বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর হারও। এজন্য ‘শিথিল লকডাউন’ ও ‘সামাজিক দূরত্ব’লঙ্ঘনকে দুষছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এখন চলছে করোনার ‘পিক টাইম’। এই মুহূর্তে কঠোর লকডাউন জরুরি। কিন্তু তা না করে ব্যবসায়ীরা দোকান-শপিং মল-মার্কেট ও কলকারখানা খুলে দিয়েছেন। এতে করোনার সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বলেও মনে করেন তারা।

তবে, ব্যবসায়ীরা বলছেন সামাজিক-শারীরিক দূরত্ব মেনেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান-কলকারাখানা চলছে। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যেখানে স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মানা হচ্ছে না, সেখানে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মার্কেট-শপিং মল খোলা রাখা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধানমন্ডির জেনেটিক্স প্লাজার ব্যবসায়ী আবু হোসেন বলেন, ‘মলে ডিস-ইনফেকশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দূরত্বও মানা হচ্ছে।’

একই কথা বললেন ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতি তৌফিক এহসানও। তিনি বলেন, ‘খোলা রাখা সব শপিং মল মালিকদের বলে দিয়েছি, স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মানতে। না মানলে মল-মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। মহানগর দোকান মালিত সমিতির পক্ষে থেকেও নজরদারি করা হচ্ছে।’

প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন,  ‘যখন করোনার পিক টাইম চলছে, তখন দরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। অথচ তা না করে লকডাউন শিথিল করে দেওয়া হলো। আর এরই সুযোগে লোকজন স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন শুরু করেছেন। এতে করোনার সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। মৃত্যুর হারও বেড়েছে। আশঙ্কা করছি, এভাবে লকডাউন শিথিল করলে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু আরও বাড়তে থাকবে। ’

জানতে চাইলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব মানা ও মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি। কিন্তু এসব মানা হচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন,  ‘আমাদের পরীক্ষা কম হচ্ছে। অনেকে উপসর্গহীন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত, তাদের পরীক্ষা করতে পারছি না। ফলে তাদের সংখ্যা জানা যাচ্ছে না। সার্বিক বিবেচনায়  কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হবে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে পুলিশ  ফ্রন্ট লাইনে কাজ করছে। আমরা চেষ্টা করছি পাবলিক প্লেসে যেন অপ্রয়োজনে মানুষ না থাকে। বিশেষ বিবেচনায় যেসব শপিং মল খুলে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোতে নজরদারি করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি না মানলে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।’

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে তাদের বাহিনী কাজ করছে। যেখানে স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মানা হচ্ছে না সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও করা হবে।

এদিকে, মঙ্গলবার (০৫ মে) বিকেলে করোনা সংক্রান্ত টেকনিক্যাল কমিটির বৈঠকের আগের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘গার্মেন্টস, দোকানপাট ও শপিংমল খুলে দেওয়ায় করোনা সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।’

এদিকে, করোনায় রেকর্ড পরিমাণ মৃত্যুর তথ্য জানালেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।  বুধবার (১৩ মে ) নিয়মিত বুলেটিনে তিনি জানান, দেশে গত ২৪ ঘণ্টা ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৯ জনে। এছাড়া এই ২৪ ঘণ্টায় ১১৬২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ৮২২ জনে দাঁড়ালো।

তবে, এই বিষয়ে জানতে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানাকে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি। এসএমএস দিলেও তিনি জবাব দেননি।


ঢাকা/নূর/এনই


     




আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

প্রযোজক অনিল সুরি আর নেই

২০২০-০৬-০৬ ১১:৪২:১০ এএম

এখনো স্বপ্ন বেঁচে আছে তার

২০২০-০৬-০৬ ১১:৩৬:৪৭ এএম

‘খবরে থাকার জন্য রাজনীতি করি না’

২০২০-০৬-০৬ ১০:৫২:৪২ এএম