মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে ‘সমকামী’ খেলা

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৮ ৬:০১:৫৫ পিএম
শাহেদ হোসেন | রাইজিংবিডি.কম

শাহেদ হোসেন : মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে ‘সমকামিতার’ খেলা শুরু হয়েছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে যুৎসই অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগ করা হচ্ছে ‘সমকামী’ অস্ত্র। প্রায় দুই দশক আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এই অস্ত্র প্রয়োগ করেছিলেন তার এক সময়কার সহযোগী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে। এবার সেই অস্ত্র প্রয়োগ হচ্ছে মাহাথিরেরই আস্থাভাজন অর্থমন্ত্রী আজমিন আলির বিরুদ্ধে।

এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের উত্তরসূরি হিসেবে যাকে ভাবা হচ্ছে, তিনি হচ্ছেন মাহাথিরেরই একসময়ের ‘শত্রু’ আনোয়ার ইব্রাহিমকে। মাহাথিরেরই আহ্বানে ১৯৮২ সালে তার দলে এবং পরবর্তীতে সরকারে যোগ দিয়েছিলেন আনোয়ার। ১৯৯৩ সালে উপ-প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন আনোয়ার। রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে ১৯৯৮ সালে আনোয়ারকে দল থেকে বহিষ্কার করেন মাহাথির। আনোয়ার রাজনৈতিক দল গঠন করে মাহাথিরের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেই তার বিরুদ্ধে আনা হয় সমকামিতার অভিযোগ।

মালয়েশিয়ায় সমকামিতাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই সুবাদে এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার শুরু হওয়ার পরই ভোটের ময়দান থেকে ছিটকে পড়েন আনোয়ার।  দীর্ঘদিন কারাবাসের পর ২০০৪ সালে জেল থেকে ছাড়া পান তিনি। ওই সময় আনোয়ার সম্পর্কে মাহাথির বলেছিলেন, ‘একজন সমকামী ব্যক্তি যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী হন তাহলে তো কেউ নিরাপদ থাকবে না।'

 

জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আনোয়ার ভিন্নমতাদর্শে বিশ্বাসী তিনটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে পাকতান কোয়ালিশন নামে জোট করেন। ওই জোট ২০০৮ এবং ২০১৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বারিসান ন্যাশনালের বিরুদ্ধে ব্যাপক সাফল্য পায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এর পরের বছরই  আনোয়ারের বিরুদ্ধে ফের সমকামিতার অভিযোগ আনা হয়। এই অভিযোগে ২০১৫ সালে তার পাঁচ বছরের সাজাও দেয় আদালত। এরপর রাজনীতির জল অনেক দূর গড়িয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থেই সেই আনোয়ারের সঙ্গে জোট বাঁধেন অবসরে যাওয়া মাহাথির। গত বছর নির্বাচনে বিজয়ের পর আনোয়ারকে উত্তরসূরি করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

১৯৯৮ সালে আনোয়ারকে যখন বারিসান থেকে বের করে দেওয়া হয় তখন তার অনুগামী হয়েছিলেন দলের আরেক সদস্য আজমিন আলী। তারা দুজন মিলে তখন পার্টি কেদিলান ন্যাশনাল নামের রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন, যার বর্তমান নাম পিপলস জাস্টিস পার্টি। আজমিন এখন এই দলের উপ-প্রধান, অর্থাৎ আনোয়ারের পরই তার অবস্থান।

গত বছর মাহাথির সরকারে অর্থমন্ত্রীর পদটি পেয়েছেন আজমিন। সরকারে ঠাঁই পাওয়ার পর মাহাথিরের সঙ্গে আজমিনের ঘনিষ্ঠতাও বেড়েছে। তিনি এখন নিজের দলের নেতা আনোয়ার নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী মাহাথিরের প্রতিই বেশি আনুগত্য প্রকাশ করছেন। খোলাখুলি তিনি বলেছেনও ‘প্রধানমন্ত্রীত্ব ত্যাগ করে উত্তরসূরির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য মাহাথিরের তাড়াহুড়া করা উচিৎ নয়।’ মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোর ভাষ্য, আজমিনকেই এখন রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে ভাবতে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করছেন মাহাথির।

 

সম্প্রতি আজমিন আলিকে সংশ্লিষ্ট করে সমকামিতার একটি ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে মালয়েশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আজমিনের দাবি, ভিডিওর ওই ব্যক্তিটি তিনি নন। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার পুলিশ এই অভিযোগের তদন্তও শুরু করেছে। বুধবার পর্যন্ত এই ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাহাথিরের সরকারের ভেতরে অনেকে আজমিনের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

আজমিনের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ নিয়ে মাহাথির ও আনোয়ারের অবস্থান দুই রকম দেখা যাচ্ছে। মাহাথির সরাসরি আজমিনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, এই মুহূর্তে আজমিনের পদত্যাগ করার মতো কিছু হয় নি। ‘আমি মনে করি এটা রাজনৈতিক বিষয়।...এটা হচ্ছে একটি রাজনৈতিক খেলা যেটি স্পষ্টভাবে কাউকে উত্তরসূরি হতে ঠেকানোর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

নিজের দলের উপ-প্রধান হলেও আজমিনের বিষয়ে আনোয়ারের অবস্থান ভিন্ন। তিনি সাফ বলেছেন, ‘ভিডিও সত্য হলে আজমিনের পদত্যাগ করা উচিৎ।’ এর জবাবে দলের প্রধানকে বেশ কড়াভাবেই আজমিন বলেছেন, ‘আনোয়ারের উচিৎ আয়নায় নিজের চেহারা দেখা।’ অর্থাৎ দুই দশক আগে নিজের বিরুদ্ধে আনা সমকামিতার অভিযোগের দিকেই আনোয়ারকে ফিরে দেখতে বললেন আজমিন।

 

‘সমকামিতার’ অভিযোগে এক সময়কার উঠতি প্রতিদ্বন্দ্বী আনোয়ার ইব্রাহিমের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ধস নামিয়েছিলেন তারই গুরু মাহাথির মোহাম্মদ। এবার কি তাহলে মাহাথিরেরই স্নেহধন্য আজমিন আলিকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে সেই ‘সমকামিতার’ অভিযোগে ফাঁসাতে চাইছেন আনোয়ার? তাহলে কি সমকামিতার অভিযোগই কি মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে ধরশায়ী করার মোক্ষম অস্ত্র? সেই উত্তর জানতে হলে হয়তো অপেক্ষা করতে হবে মাহাথিরের বিদায় পর্যন্ত।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ জুলাই ২০১৯/শাহেদ

     


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে...

২০১৯-০৮-১৯ ৯:৫৬:২৩ পিএম

বান্দরবান, রাঙামাটিতে টহল জোরদার

২০১৯-০৮-১৯ ৮:৫৬:৫৮ পিএম

‘সমগ্র জাতি বঙ্গবন্ধুর কাছে ঋণী’

২০১৯-০৮-১৯ ৮:২৭:৩৬ পিএম