‘মেধাবীরাই আগামী নেতৃত্বে আসুক’

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-০৬ ৫:৩৯:০৬ পিএম
আবু বকর ইয়ামিন | রাইজিংবিডি.কম

এস এম রুহুল আমিন

আবু বকর ইয়ামিন : আগামী ১১-১২ মে হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলন। সম্মেলনের পরই ঘোষণা হবে নতুন কমিটি। আসবে নতুন নেতৃত্ব।

ঐতিহ্যবাহী এ ছাত্রসংগঠনটির আগামী নেতৃত্ব কেমন হওয়া উচিত, তা জানতে চাইলে ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এস এম রুহুল আমিন রাইজিংবিডিকে বলেন, মেধাবী ও দক্ষরাই আসুক আগামীর নেতৃত্বে।  

রাইজিংবিডি : আপনি বর্তমানে কোথায় পড়াশোনা করছেন?
এস এম রুহুল আমিন : আমি ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটে ভর্তি হই। বর্তমানে ওই ইনস্টিটিউটের অধীনে ভিকটিমোলোজি অ্যান্ড রেস্টোরেটিভ জাস্টিস (ভিআরজে) থেকে মাস্টার্স করছি। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন একটি ল কলেজে আইনে পড়ছি।

রাইজিংবিডি : ছাত্রলীগের বর্তমানে কমিটি নিয়ে কিছু বলুন।
এস এম রুহুল আমিন : ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি নিষ্ঠার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। অনেক সফলতার পাশাপাশি কিছু ভুল-ত্রুটিও তাদের আছে। আমি বিশ্বাস করি, ভুল থেকে আগামী নেতৃত্ব শিক্ষা নেবে, আর তাদের সফলতা নতুন পথচলাকে আরো মসৃণ করবে।

রাইজিংবিডি : ছাত্রলীগের আগামীতে কেমন নেতৃত্ব চান?
এস এম রুহুল আমিন : আমি চাই, আগামী সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সৎ, দক্ষ, যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসুক। যারা এই সংঠনের গৌরব সমুন্নত রাখবে। এই সংগঠনের ধার-ভার নিজের ভেতরে বহনে সক্ষম এমন কেউ নেতৃত্বে আসুক।

রাইজিংবিডি : বর্তমান ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কে আপনার মত কী?
এস এম রুহুল আমিন : ছাত্ররাজনীতি একটি চলমানা প্রক্রিয়া। এটা সমাজ পরিবর্তন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত। ৭০ এর দশকে ছাত্ররাজনীতি একরকম ছিল, আবার ৯০ এর দশকে এর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। সেখান থেকে আজকের এই প্রক্রিয়ায় এসেছে। এটা সমাজ বাস্তবতার দাবি। সমাজ যদি চায় এর পরিবর্তন হবে, না হলে এই অবস্থা থেকে যাবে।

রাইজিংবিডি : কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে আপনার বক্তব্য কী?
এস এম রুহুল আমিন : দেখেন, কোটা সংস্কার একটা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এখানে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি নিয়ে মাঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। কিন্তু দাবি-দাওয়ার নামে আন্দোলনকারীরা আমাদের উপাচার্যের বাসভবনে যে নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালালো, গুজব ছড়িয়ে যেভাবে সুফিয়া কামাল হলের এশা নামের মেয়েটার ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালালো এবং সেই দৃশ্য ইন্টারনেটে ভাইরাল করল তা আমি মেনে নিতে পারছি না। তারা পারত আরো গঠনতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন পরিচালনা করতে।

রাইজিংবিডি : ছাত্রলীগের বয়সসীমা সম্পর্কে কিছু বলেন।
এস এম রুহুল আমিন : নিয়মিত ছাত্ররাই ছাত্রলীগ করবে, এটাই ছাত্রলীগের অন্যতম লক্ষ্য। এজন্য আমাদের গঠনতন্ত্রে বয়সসীমা ২৭। কিন্তু অনিয়মিতভাবে সম্মেলন হওয়ার কারণে মাননীয় নেত্রী বয়স ২৯ করেন। এটা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। আমার মতে সমস্যা ভিন্ন জায়গায়, যখন দেখি ২৯ বা ২৭ বয়সসীমা হওয়া সত্বেও ২৩, ২৪ বা ২৫ বছর বয়সের ছেলেদের ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে নিয়ে আসা হয়। একটা ২৪ বছরের ছেলে এই পার্টি কীভাবে চালাবে? তার অভিজ্ঞতা কতটুকু? এজন্য অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ নিজেদের মেধা, দক্ষতা আর যোগ্যতার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটাতে পারেন না, যেটি সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর।

রাইজিংবিডি : নিয়মিত সম্মেলন বিষয়ে কিছু বলেন।
এস এম রুহুল আমিন : অবশ্যই ছাত্রলীগে নিয়মিত সম্মেলন হওয়া উচিত। রেললাইনে জট লাগলে এক্সিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমাদেরও তাই হতে পারে। তাছাড়া এক ক্লাসে বেশি দিন থাকা স্বাস্থ্যসম্মত না। এর ফলে নতুন নেতৃত্ব বিকশিত হতে পারে না। বড় গাছের নিচে ছোট গাছ উঠবে না, এটাই স্বাভাবিক।

রাইজিংবিডি : আপনাকে ধন্যবাদ।
এস এম ‍রুহুল আমিন : আপনাকেও ধন্যবাদ।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ এপ্রিল ২০১৮/ইয়ামিন/রফিক


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

গ্রীনএইচআরের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

২০২০-০১-১৭ ১১:৫২:২৯ পিএম

বিপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী

২০২০-০১-১৭ ১১:২৪:২৪ পিএম

বিপিএলের রোল অব অনার

২০২০-০১-১৭ ১১:১৬:২৬ পিএম

রুশো-মুশফিকের লড়াইয়ে জিতল কে?

২০২০-০১-১৭ ১১:১১:০৬ পিএম

তিন জেলায় বিদ্যুৎ থাকবে না

২০২০-০১-১৭ ১০:৫৬:৪৪ পিএম