‘আমার প্রচারে তিন জেনারেশন একই প্ল্যাটফর্মে’

প্রকাশ: ২০১৮-১২-১৯ ৭:২৪:২৪ পিএম
রাহাত সাইফুল | রাইজিংবিডি.কম

রাহাত সাইফুল : দেশব্যাপী নির্বাচনের হাওয়া বইছে। এই হাওয়া মৃদু থেকে কখনো কখনো ঝড়ো হাওয়ায় পরিণত হচ্ছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নানা কারণে এবারের নির্বাচন বরাবরের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এবার আওয়ামী লীগ তাদের ভিশন বাস্তবায়ন করতে নতুন প্রজন্মের বেশ কয়েকজনকে মনোনয়ন দিয়েছে।

মাশরাফি বিন মর্তুজা, শেখ সারহান নাসের তন্ময়, নিজাম উদ্দিন জলিলদের তালিকায় রয়েছেন এস এম শাহজাদা (সাজু)। তিনি পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী গোলাম মাওলা রনি। নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এস এম শাহজাদা সাজুর সঙ্গে কথা বলেন রাইজিংবিডির এই প্রতিবেদক। এ আলাপচারিতার চুম্বক অংশ রাইজিংবিডির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

রাহাত সাইফুল : কেমন চলছে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম?
এস এম শাহজাদা :
আলহামদুলিল্লাহ ভালোই চলছে।

রাহাত সাইফুল : আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রাক্তন আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হয়ে লড়ছেন। এ ক্ষেত্রে আপনাদের লড়াই কেমন হচ্ছে?
এস এম শাহজাদা :
দেখুন, পটুয়াখালী-৩ আসনে আওয়ামী লীগ সব সময় ঐক্যবদ্ধ। তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্রকে সমুন্নত করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। জননেত্রী শেখ হাসিনা একেবারেই একজন অপরিচিত লোককে এখানে পাঠিয়েছিলেন। তিনিই (গোলাম মাওলা রনি) সেই ব্যক্তি। এখানে দল ও নেত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে এই এলাকার মানুষ তাকে বিজয়ী করেছিলেন। তখন তিনি নিজেই ভারসম্যহীন, উদ্ভট কথা বলে নিজেকে বিতর্কিত করেন। শেষ সময় তাকে জেলেই কাটাতে হয়েছে। এসব ঘটনা দেশবাসী জানেন। তার কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি জন সমর্থন হারিয়েছেন।

এবার আমরা ২২ জন মনোনয়ন চেয়েছিলাম। এর মধ্যে ২১জন একসঙ্গে কাজ করছি। বর্তমান সংসদ সদস্য (আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন) তার পরিবারের লোকজনদেরকে আমাদের বিভিন্ন প্রোগ্রামে পাঠিয়েছেন। তিনি নিজেও আমাদের এখানে আসবেন এমনটা কথা হয়েছে। কিন্তু দেখুন, এই ২২ জনের মধ্যে তিনি (রনি) একমাত্র ব্যক্তি যে, কয়েক ঘণ্টার নোটিশে অন্য দল থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন। বাস্তব অর্থে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটা দলের মনোনয়ন পাওয়া যায় না। অর্থাৎ তিনি অনেক আগে থেকে ভেতরে ভেতরে ওই দল মেইনটেইন করতেন। এক দল থেকে মনোনয়ন চান আবার অন্য দল মেইনটেন করেন- সে ব্যক্তি কেমন চরিত্রের তা কারো বুঝতে বাকি থাকে না। শুরুর দিকেই তিনি আওয়ামী লীগের ছিলেন না। এখনো উপজেলা সদরে আসতে পারেন নি। তার নিজ এলাকায় তার একটি বাড়ি আছে সেখানেই তিনি থাকেন। তিনি যেদিন এখানে এসেছিলেন সেদিন স্বপ্রণোদিত হয়ে আপামর জনসাধারণ ঝাড়ু মিছিল করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। আগে তিনি সংসদ সদস্য থাকুন আর যাই থাকুন তিনি আওয়ামী লীগের কাছে প্রমাণিত বেঈমান। তার আবার প্রভাব থাকবে কীভাবে? তিনি নিজেই বাসা থেকে বের হন না। বাসায় বসে কনফারেন্স করেন।

রাহাত সাইফুল : সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে পটুয়াখালীর জনপদে রাজনীতি করছেন। মনোনয়নের আগে তার নেতাকর্মীদের সঙ্গে আপনার নেতাকর্মীদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটেছিল। সেসব কতটা মীমাংসা করতে পেরেছেন?
এস এম শাহজাদা :
  আমি ওই দ্বন্দ্বের কথা একদম মনে রাখতে চাই না। আওয়ামী লীগ এতবড় সংগঠন। এখানে কোয়ালিফাই লোক অনেক আছেন। এরা যখন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যান তখন এমন কিছু ঘটনা ঘটেই। এটা একেবারেই আমাদের মাথায় নেই। আর আওয়ামী লীগের মালিকানা কোনো সংসদ সদস্য নিতে পারেন না। দল দলের মত চলে। দলের নেতৃত্ব আছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা তার নেতৃত্বে ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম পরিচালিত করে থাকেন। জাহাঙ্গীর ভাইকে মনোনয়ন দিয়ে পাঠিয়েছিলেন, তিনি সংসদ সদস্য হয়েছেন। এখন আমাকে মনোনয়ন দিয়ে পাঠিয়েছেন। ওই এক দিনেই সব ঝামেলা মিটমাট হয়ে গেছে। আমি বলব, এখন এই জনপদে দলের সৌন্দর্য্য আরো বিকশিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের অনেক ত্যাগী নেতা রয়েছেন যারা এখন শেষ বয়সে এসে আবার মঞ্চে উঠেছেন। অনেক নেতাকর্মী আছেন যারা গত দশ বছরে এই প্ল্যাটফর্মে উঠতে পারেননি। আপনি খেয়াল করে দেখবেন আমার প্রোগ্রামগুলোতে তারা আবার মঞ্চে উঠেছেন। আমার প্রচারে তিন জেনারেশন একই প্ল্যাটফর্মে। এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য আর সৌরভ ছড়াচ্ছে।

রাহাত সাইফুল : প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়ন করতে নতুন প্রজন্মের বেশ কয়েকজন মনোনয়ন পেয়েছেন।  এ তালিকায় আপনিও রয়েছেন। আপনার লক্ষ্য জানতে চাই।
এস এম শাহজাদা :
আমি রাজনৈতিক বড় কোনো নেতা নই। আওয়ামী লীগের সাধারণ একজন কর্মী। জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমি এবং এই অঞ্চলের সকল নেতাকর্মী কৃতজ্ঞ। কারণ, কর্মীদের মধ্য থেকে মনোনয়ন দিয়েছেন। যাতে এখানে কর্মীবান্ধব রাজনীতি করা যায়। যুবক হওয়ার কারণে যুব সমাজকে উৎসাহ দিয়ে দেশ গঠনে যুবকদের আসল শক্তি সম্পূর্ণরূপে এখানে ব্যবহার করাই আমার প্রধান কাজ। দলীয় ইশতেহার ও পরিকল্পনা তো আছেই, এর বাইরে তৃণমূল পর্যায়ে সকল উন্নয়নমূলক কাজ করা। তাছাড়াও অনেক পরিকল্পনা আছে পর্যায়ক্রমে সবগুলো বাস্তবায়ন করব।

রাহাত সাইফুল : সু- নির্দিষ্ট কোনো উন্নয়নমূলক কাজের কথা ভেবেছেন কী?
এস এম শাহজাদা :
পটুয়াখালী জেলার সঙ্গে গলাচিপা শহরের সহজ যোগাযোগের জন্য গলাচিপার রামনাবাদ নদীতে একটি ব্রিজ প্রয়োজন। আর দশমিনার সঙ্গে পটুয়াখালীর যোগাযোগ করতে লোহালিয়া নদীতে একটি ব্রিজ প্রয়োজন। অগ্রগতির ভিত্তিতে এই দুটো কাজ সবার আগে করার ইচ্ছে আছে। দ্বিতীয়ত : এই এলাকার যত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান কীভাবে আরো উন্নয়ন করা যায় তার একটি পরিকল্পনা করব। তৃতীয়ত : দুই উপজেলায় কমপ্লিট ডিজিটাল বলতে যা বোঝায় তা করতে চাচ্ছি। এখানকার সকল মানুষকে একটি ডাটাবেজের আওতায় নিয়ে যথাসাধ্য সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাহাত সাইফুল : বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাগ্নে আপনি। এ বিষয়টি নিয়ে গোলাম মাওলা রনি নেতিবাচক মন্তব্য ও আশঙ্কার কথা বলেছেন। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
এস এম শাহজাদা :
এখানে যতটা জনজাগরণ আছে তারপরও এখানে নেতিবাচক কাজ করার দরকার কি? এখানে আওয়ামী লীগ থেকে যে কোনো প্রার্থী বিপুল ভোটে পাশ করেন। গোলাম মাওলা রনি এখানে সম্পূর্ণ অপরিচিত লোক হওয়া সত্ত্বেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ এখন যে কোনো সময়ের চেয়ে সুসংগঠিত। বর্তমানে তিনটি জেনারেশন একসঙ্গে কাজ করছে। এখানে বিজয় সুনিশ্চিত, সুতরাং কারো প্রভাব খাটানোর দরকার কি? আর আত্মীয়-স্বজন আত্মীয়র জায়গায়, বাসা-বাড়ির মধ্যে রাজনীতি কেন?

রাহাত সাইফুল : আপনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সম্পর্কে জানতে চাই।
এস এম শাহজাদা :
স্কুল জীবনে ছাত্রলীগের কমিটিতে ছিলাম। এরপর থেকে পুরো ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। আমি আমার হোস্টেল শাখার সভাপতিও ছিলাম। এরপর আমার সরাসরি রাজনীতি করার সুযোগ হয়নি। কিন্তু আওয়ামী লীগের সকল অনুষ্ঠানে আমি অংশ নিয়েছি এবং পৃষ্ঠপোষকতা করেছি। আমার পেশাগত  জীবনেও কখনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মিস করিনি। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের অধীনে শেখ রাসেল মেমোরিয়াল কল্যাণ ট্রাস্টের সেক্রেটরি ছিলাম। এ ধরণের আরো কিছু সংগঠন রয়েছে, যেগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা করি। কিছু সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত আছি। সরকারের দশ বছরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড গত দুই বছর মানুষের সামনে তুলে ধরেছি। গ্রামগঞ্জে ডিজিটাল প্রজেকশনের মাধ্যমে তা তুলে ধরেছি। আওয়ামী লীগের জন্য জনমত তৈরি করতে চেষ্টা করেছি।

রাহাত সাইফুল : গলাচিপা-দশমিনার জনসাধারণের জন্য আপনার বক্তব্য কী?
এস এম শাহজাদা : 
এই জনপদের সকল লোকজনকে বলতে চাই, নৌকা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র দিয়েছে। নৌকা জাতির পিতার প্রতীক, জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতীক, নৌকা বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। এই গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। নৌকা মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। নৌকা বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি, আমার অঞ্চলসহ সারা দেশের আপামর জনসাধারণ স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করবেন ইনশাল্লাহ।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ ডিসেম্বর ২০১৮/রাহাত/শাহনেওয়াজ


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

অবশেষে বিয়ের পিড়িতে সৃজিত-মিথিলা?

২০১৯-১১-১৮ ৬:১২:৫৫ পিএম

২৮৭ কর্মকর্তা নিয়োগ দিবে দুদক

২০১৯-১১-১৮ ৫:৫২:৪৬ পিএম

বাসায় অভিযান: শাকিব খান কোথায়?

২০১৯-১১-১৮ ৫:৪৭:২৫ পিএম