‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় প্যাভিলিয়ন নির্মাণে ওয়ালটনই সেরা’

প্রকাশ: ২০১৯-০২-২৭ ৮:৪১:৫৪ পিএম
অগাস্টিন সুজন | রাইজিংবিডি.কম

২০১৯ সালের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ওয়ালটন প্যাভিলিয়ন। (ইনসেট) স্থপতি সাদী মোহাম্মদ রুম্মান

২০০৪ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নিয়ে আসছে ওয়ালটন। ওই বছর প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় সেরার পুরস্কার পায় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ২০০৯, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৯ সালে একই ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার অর্জন করে ওয়ালটন। আর ২০১০, ২০১১, ২০১৫ এবং ২০১৮ সালে দ্বিতীয় এবং ২০১২ সালে তৃতীয় পুরস্কার পায় দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স পণ্যের এই প্রতিষ্ঠান।

২০১৫ সাল থেকে বাণিজ্য মেলায় ওয়ালটন প্যাভিলিয়নের ডিজাইন এবং নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত আছেন স্থপতি সাদী মোহাম্মদ রুম্মান। এই পাঁচ বছরে প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে তিন বার সেরা প্যাভিলিয়ন এবং দুই বার দ্বিতীয় সেরা প্যাভিলিয়নের পুরস্কার পায় ওয়ালটন। সর্বশেষ এ বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে ওয়ালটন এবং মার্সেল প্যাভিলিয়নের ডিজাইন এবং নির্মাণকাজ করেন স্থপতি সাদী মোহাম্মদ রুম্মান। গ্রিন টেকনোলজি সমৃদ্ধ ইকো-ফ্রেন্ডলি দৃষ্টিনন্দন এই প্যাভিলিয়ন দুটির মধ্যে প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে সেরা প্যাভিলিয়নের পুরস্কার পায় ওয়ালটন। আর জেনারেল প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে সেরা হয় মার্সেল।

ওয়ালটন গ্রুপে স্থপতি সাদী মোহাম্মদ রুম্মানের পথচলা, বিভিন্ন কাজ এবং সাফল্য নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। এর চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অগাস্টিন সুজন বাড়ৈ।

রাইজিংবিডি: ওয়ালটনের সঙ্গে কবে থেকে যুক্ত হলেন?
সাদী মোহাম্মদ রুম্মান:
সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যবিদ্যায় গ্রাজুয়েশন করার পর ২০১৩ সালের জুলাইয়ে একটি আর্কিটেকচার কনসালটেন্সি ফার্মে কাজ শুরু করি। কয়েক মাস পর অন্য আরেকটি কনসালটেন্সি ফার্ম হয়ে ২০১৪ সালের নভেম্বরে ওয়ালটন গ্রুপে যোগ দেই। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ওয়ালটন গ্রুপের চাকুরি ছেড়ে দিয়ে জাপানে উডেন স্ট্রাকচার অ্যান্ড এসথেটিক-এর একটি প্রোজেক্টে ৫ মাস কাজ করে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে আসি।

রাইজিংবিডি: দেশে আসার পর আবার ওয়ালটনে যোগ দেন?
সাদী মোহাম্মদ রুম্মান
: ঠিক তা নয়। তবে বাংলাদেশে ফিরে এসে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য ‘ইনটেরিয়র ক্যাফে’ নামে একটি কনসালটেন্সি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করি। এই ফার্মের হয়ে বর্তমানে ওয়ালটন গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আর্কিটেকচারাল স্ট্রাকচার এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইনিংয়ের কাজ করছি।
 

বিভিন্ন বাণিজ্য মেলায় স্থপতি সাদী মোহাম্মদ রুম্মানের করা ওয়ালটন প্যাভিলিয়নের কিছু ডিজাইন
 

রাইজিংবিডি: কতদিন ধরে বাণিজ্য মেলায় ওয়ালটন প্যাভিলিয়ন ডিজাইন এবং নির্মাণে যুক্ত আছেন?
সাদী মোহাম্মদ রুম্মান:
আমার ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় ওয়ালটনে কাটিয়েছি, তাই আমার প্রধান কাজগুলো এখানেই হয়েছে। আমি মূলত ২০১৫ সাল থেকেই ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ওয়ালটন প্যাভিলিয়ন ডিজাইন এবং নির্মাণে যুক্ত আছি। ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত বাণিজ্য মেলায় প্যাভিলিয়ন নির্মাণে প্রতিবারই সেরা হয়ে আসছে ওয়ালটন। এর মধ্যে ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৯ সালে প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে ওয়ালটন প্রথম পুরস্কার পায়। আর ২০১৫ এবং ২০১৮ সালে একই ক্যাটাগরিতে ওয়ালটন দ্বিতীয় সেরা পুরস্কার পায়।

রাইজিংবিডি: ওয়ালটনের পাশাপাশি আর কোনো প্যাভিলিয়নের ডিজাইন এবং নির্মাণের কাজ করেছেন?
সাদী মোহাম্মদ রুম্মান:
হ্যাঁ। এ বছর ওয়ালটনের পাশাপাশি মার্সেল এবং বাংলাদেশ অ্যাগ্রোপ্রোসেসিং ফুড অ্যাসোসিয়েশনসহ (বাপা) বেশ কয়েকটি প্যাভিলিয়নের ডিজাইন এবং তৈরির কাজ করেছি। যার মধ্যে জেনারেল প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে মার্সেল সেরা প্যাভিলিয়নের পুরস্কার পেয়েছে।

রাইজিংবিডি: বাণিজ্যমেলায় প্যাভিলিয়ন ছাড়া ওয়ালটনের হয়ে আর কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন?
সাদী মোহাম্মদ রুম্মান:
হ্যাঁ। আমি ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার (কারখানা) ডিজাইন টিমে কাজ করেছি। ফ্যাক্টরি বিল্ডিং ডিজাইন এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং ছাড়াও ওয়ালটনের হয়ে অসংখ্য অফিস ও ফ্লোরের ইন্টেরিয়র ডিজাইন করেছি। সারা দেশে প্রায় ৩০০টির বেশি ওয়ালটন প্লাজা, ৭০টিরও বেশি সার্ভিস পয়েন্ট ডিজাইন এবং কনস্ট্রাকশন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।

এছাড়াও, ওয়ালটনের হয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় প্যাভিলিয়ন ডিজাইনের সুযোগ পেয়েছি। যার মধ্যে রয়েছে চীনের ক্যান্টন ফেয়ার (দুইবার), নাইজেরিয়ার লাওস ফেয়ার, ভারতের শিলিগুঁড়ি, ভুটান, নেপাল ইত্যাদি।
 

ওয়ালটনের ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হাতে ২০১৯ সালের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় সেরা প্যাভিলিয়নের ট্রফি এবং ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হচ্ছে

রাইজিংবিডি: বাণিজ্য মেলায় ওয়ালটন প্যাভিলিয়ন ডিজাইন এবং নির্মাণে কোন বিষয়টার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন?
সাদী মোহাম্মদ রুম্মান:
ওয়ালটন বাংলাদেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড। ওয়ালটন প্যাভিলিয়ন ডিজাইনের সময় যে ব্যাপারটা গুরুত্ব দিয়েছি, সেটা হলো, বাংলাদেশের বাজারে ওয়ালটন ব্র্যান্ডের যে অবস্থান, সেটা যেন বাণিজ্য মেলায় ঢুকেই দর্শনার্থীরা উপলব্ধি করেন। যে কারণে এর উচ্চতা ছিল বেশি (৬০ ফুট), যাতে মেলার যে কোনো জায়গা থেকে ওয়ালটন প্যাভিলিয়ন চোখে পরে। তাছাড়া, প্যাভিলিয়নটির আকৃতি ছিল ত্রিকোনাকার এবং এর প্রবেশ দ্বার বেশ প্রশ্বস্ত রাখা হয়েছিল। আমাদের লক্ষ্য ছিল  ওয়ালটন যে শীর্ষে আছে, সেটা যেন প্যাভিলিয়নেই ফুটে ওঠে। সেই সাথে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বজয়ের পথে ওয়ালটনের যে অগ্রযাত্রা, সেটা বোঝানোর জন্য প্যাভিলিয়নটির উচ্চতার দিকটায়ও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় বিষয়টা হলো-প্যাভিলিয়নের ম্যাটেরিয়ালস বাছাই করা। ওয়ালটন মূলত হাই-টেক নির্ভর ইলেকট্রনিক্স এবং প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন করে। সেজন্য প্যাভিলিয়নের যেসব নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল, তাতে যেন এই পণ্যগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়, সে দিকটির প্রতি বিশেষ নজর রাখা হয়েছিল।

তৃতীয় যে বিষয়টায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটি হলো- প্যাভিলিয়নের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রতি বছরই বাণিজ্য মেলায় ওয়ালটন প্যাভিলিয়নে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই প্যাভিলিয়নের স্ট্রাকচারাল স্ট্রেন্থ বা শক্তি, সেফটি, ফায়ার হ্যাজার্ড ইত্যাদি বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হয়েছে। এখানে যেসব ম্যাটেরিয়ালস ব্যবহৃত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল, স্টিল, কার্টেইন গ্লাস, যা টেইনটেড ইউভি প্রটেক্টেড। এতে দর্শনার্থীরা বেশ স্বচ্ছ্বন্দে প্যাভিলিয়নে ঘোরাফেরা করতে পেরেছেন। পরিবেশ এবং মানব স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ওয়ালটন প্যাভিলিয়নের ডিজাইন করা হয়েছিল এবং সে অনুযায়ী এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এর সাথে নান্দনিকতার দিকটিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল যাতে প্যাভিলিয়নটি দৃষ্টিনন্দন হয়। এক্ষেত্রে ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক হুমায়ূন কবির এবং ডেপুটি অপারেটিভ ডিরেক্টর মুজাহিদুল ইসলামেরও অক্লান্ত পরিশ্রম ছিল।

 

ডিজাইনিংয়ের কাজে মগ্ন স্থপতি সাদী মোহাম্মদ রুম্মান


রাইজিংবিডি: মার্সেল প্যাভিলিয়ন ডিজাইন এবং নির্মাণে কোন বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিয়েছেন?
সাদী মোহাম্মদ রুম্মান:
মার্সেল বাংলাদেশের একটি দ্রুত বর্ধনশীল ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্র্যান্ড। মার্সেল প্যাভিলিয়ন নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডটিকে আরো বেশি মানুষের কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা এগিয়েছিলাম। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল মার্সেলের পণ্য হাইলাইট করা। যে কারণে প্যাভিলিয়নটা ছিল অনেকটা ওপেন। ইন্টেরিয়রটা ডিজাইনটাও এমনভাবে করা হয়েছিল যাতে অনেক দূর থেকেও পণ্যগুলো মানুষ দেখতে পায়। মার্সেলের এক্সটেরিয়র ছিল গ্লাস ফ্রেমের। মার্সেলের প্যাভিলিয়ন নির্মাণেও অনেক বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে, কারণ এটা ছিল গ্লাস হাউজের মতো। যে কারণে ভেন্টিলেশন নিয়ে অনেক কাজ করতে হয়েছে। প্যাভিলিয়ন নির্মাণে সম্পূর্ণ অগ্নি প্রতিরোধক ম্যাটেরিয়ালস ব্যবহার করা হয়েছিল।

এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, মার্সেল প্যাভিলিয়ন যদিও জেনারেল ক্যাটাগরিতে ছিল, কিন্তু এর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। মূল প্রবেশদ্বার থেকেই এর ভিজিবিলিটি ছিলো। মেইনগেট দিয়ে ঢোকার পরই ওয়ালটন ও মার্সেল প্যাভিলিয়ন সবার চোখে পড়েছে।
 

২০১৯ সালের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় মার্সেল প্যাভিলিয়ন
 

রাইজিংবিডি: ছয় বছরের স্থাপত্যবিদ্যার ক্যারিয়ারে আপনার সাফল্যের ঝুঁলি অনেক সমৃদ্ধ। এর পেছনের কারণ কী বলে মনে করেন?
সাদী মোহাম্মদ রুম্মান:
প্রথমত দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ। ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কারণ আমার পেশাগত জীবনের বড় অংশ এখানে কাটিয়েছি। এখানের বড় বড় প্রজেক্টগুলোতে কাজের সুযোগ পেয়েছি। যা আমার ক্যারিয়ারে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। আমার বড় বড় সাফল্যগুলোও তাই ওয়ালটনের মাধ্যমেই এসেছে। সেই সঙ্গে কাজের প্রতি আমার একাগ্রতা ও নিষ্ঠা এবং কঠোর পরিশ্রম আমাকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে বলে আমি মনে করি।

রাইজিংবিডি: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলুন।
সাদী মোহাম্মদ রুম্মান:
স্থাপত্য কাজে আমি এখনও নবীন। প্রতিনিয়ত শিখছি। আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিজের ফার্মটাকে আরো ভালো করে গড়ে তোলা। সেই সঙ্গে ওয়ালটনের হয়ে আরো ভালো ভালো কাজ করা।

রাইজিংবিডি: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
সাদী মোহাম্মদ রুম্মান:
আপনাকে এবং রাইজিংবিডিকে ধন্যবাদ। সব পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি শুভেচ্ছা।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/অগাস্টিন সুজন/সাইফ


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

হিলি সীমান্তে ফেন্সিডিলসহ আটক-২

২০১৯-১০-১৪ ২:১২:৫৩ এএম

গাজীপুরে ৭ ডাকাত গ্রেপ্তার

২০১৯-১০-১৩ ৯:৪০:৪১ পিএম

খুলনা দলে অনেক পরিবর্তন

২০১৯-১০-১৩ ৯:৩৮:৫৫ পিএম

জেল ও বিজিবির জয়

২০১৯-১০-১৩ ৯:৩৭:০২ পিএম