বিএনপিতে মনোনয়ন বাণিজ্য বেশি : ইনাম আহমেদ

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৫ ৮:২৬:৫১ এএম
এসকে রেজা পারভেজ | রাইজিংবিডি.কম

নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপিতে যোগ্যতার চেয়ে বাণিজ্যকে বেশি প্রধান্য দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন দলটি ছেড়ে এসে আওয়ামী লীগে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ইনাম আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিশ বছর দলটিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পরও তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি শুধু বাণিজ্যিক কারণে।

রাজধানীর বনানীতে নিজ বাসভবনে সম্প্রতি রাইজিংবিডিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ইনাম আহমেদ চৌধুরী। এসময় তিনি কূটনৈতিক বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাইজিংবিডির প্রধান প্রতিবেদক এসকে রেজা পারভেজ।

সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় ও শেষ অংশ-

রাইজিংবিডি : বিএনপি থেকে এখন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আপনি। এই জার্নিকে কিভাবে মুল্যায়ন করছেন। আগের দল সম্পর্কে আপনার মুল্যায়ন কি?  

ইনাম আহমেদ চৌধুরী : বিএনপিতে থাকলেও দলটির অনেক বিষয় আমার পছন্দ নয়। যেমন, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী তারা পালন করে না। এটা কখনো সমর্থন করতে পারিনি। আরো অনেক কারণ আছে। মুলত, আস্থার সংকট প্রকট হয়ে গিয়েছিলো। যার জন্য ২০ বছর থাকার পরও আমি মনোনয়ন পাইনি। অথচ প্রথম থেকে আমি দলটির সহ-সভাপতি, উপদেষ্টা, ভাইস চেয়ারম্যান, ফরেন রিলেশন কমিটির চেয়ারম্যান ছিলাম। এটা কেন? অবশ্যই আস্থার সংকট।

তিন তিনটি নির্বাচন হয়ে গেল, আমি অংশগ্রহণ করতে চেয়েছি। দলের ভেতর আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তা নয়; আমার সমকক্ষ কেউ ছিলেন তাও নয়। তখন আমার মনে হয়েছে যে, ‘দিস ইজ নট মাই কাপ অব টি’। সেখানে যোগ্যতার চেয়ে মনোনয়ন বাণিজ্য বেশি হয়।

যখন সন্দেহাতীতভাবে দেখতে পেলাম সেখানে গণতান্ত্রিক চর্চা হচ্ছে না, আমি থাকিনি; সেখানে থেকে লাভ নেই। বরং আমার লাস্ট উইকেটে যেখানে সুযোগ পাচ্ছি সেখানে আমি সহযোগিতা করতে চাই।

রাইজিংবিডি: আপনি নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন; একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার মুল্যায়ন?

ইনাম আহমেদ চৌধুরী : তারা তাদের দায়িত্বটা আরো ভালোভাবে পালন করতে পারতো। কেননা, নির্বাচন কমিশনের কাজ নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে।

রাইজিংবিডি : আপনি অনেক দেশে অনেক সংস্থায় কাজ করেছেন। কাছ থেকে বিশ্ব রাজনীতি বিশ্লেষণের সৌভাগ্য হয়েছে। দেশের কূটনীতিতে আপনার অবদান আছে। বর্তমানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক পদক্ষেপকে কিভাবে মুল্যায়ন করছেন।

ইনাম আহমেদ চৌধুরী : বিশ্ব রাজনীতিতে এখন আমাদের অনেক হিসেব করে পথ চলতে হয়। বর্তমানে বিশ্ব অনেক উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রয়েছে। অনেক দেশের নেতা আছেন যাদেরকে বিশ্বাস করা যায় না, যারা অসাম্প্রদায়িক নন। এসব সত্ত্বেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সুচারু রুপে এগিয়ে যাচ্ছেন। চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব অটুট রেখেছেন। তাদের সঙ্গে বর্তমানে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। যদিও ওখানে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা রয়েছে। আমরা সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাসী। আমরা অসাম্প্রদায়িক, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে- এই যে বাংলাদেশের একটা বাণী, এটাকে তিনি ব্র্যান্ড বানিয়েছেন। এটা বাংলাদেশের বিরাট অর্জন।

রাইজিংবিডি : সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে আপনার মুল্যায়ন কি?

ইনাম আহমেদ চৌধুরী : চীনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সফল একটা সফর করে এসেছেন। সুষমভাবে তিনি এগিয়ে গেছেন। চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের অগ্রগতি হচ্ছে। ২০১৪ সাল থেকে যদি আপনি দেখেন, তাহলে দেখবেন- চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে আমাদের প্রধানমন্ত্রী খুবই সুবিবেচনার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

রাইজিংবিডি : চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন। চীনও আশ্বস্ত করেছে। চীন কতটুকু সহযোগিতা করবে বলে মনে হয়?

ইনাম আহমেদ চৌধুরী : আমাদের সামর্থ না থাকা সত্ত্বেও  মানবিক কারণে ১০ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আমরা দরজা খুলে দিয়েছি। কিন্তু আমরা তো তাদের দীর্ঘ সময় রাখতে পারি না। মিয়ানমারকে বুঝতে হবে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়াটা তাদের দায়িত্ব। এই সমস্যা তারা সৃষ্টি করেছে। তাদের চরম অন্যায় হয়েছে। আমরা তাদের অন্যায় পৃথিবীর সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এই ইস্যুর সঙ্গে ভারত, চীন, রাশিয়া, আমেরিকা আছে। এখানে প্রত্যেকের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রধানমন্ত্রী কিন্তু সকলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রীকে যে আশ্বাস দেয়া হয়েছে তা আমার কাছে খুব অর্থবহ মনে হয়েছে। তারা যখন বলেছে তখন তারা যথেষ্ট চেষ্টা করবে বলে বিশ্বাস করি।

রাইজিংবিডি : চীন সহযোগিতা করলে কি রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন সম্ভব?

ইনাম আহমেদ চৌধুরী : চীন সহায়তা করলেই যে সমাধান হবে তা নয়। এটা একটা পদক্ষেপ। আমি সেখানে গিয়েছি এবং দেখেছি দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কিভাবে তারা রাখাইনদের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এক্ষেত্রে শুধু চীনের সহযোগিতা পেলেই হবে না; ভারত, রাশিয়া, আমেরিকার সহায়তাও লাগবে।

রাইজিংবিডি : আওয়ামী লীগের নতুন উপদেষ্টা হলেন আপনি। দলে আপনার কাজ কি হবে?

ইনাম আহমেদ চৌধুরী : আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কাজ করে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, যদি সুযোগ আসে তাহলে সে সব ক্ষেত্রে অবদান রাখতে চাই। এমনিতেই আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। কিন্তু এই যে সমর্থন দিতে পারছি, এতে আমার দায়িত্ব সম্পাদন করতে পারছি বলে মনে করছি। এটা আমার কাছে বড় মনে হয়।

রাইজিংবিডি : সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।

ইনাম আহমেদ চৌধুরী : রাইজিংবিডি আমার প্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল। এর পাঠকদেরকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

ভিডিও :

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ জুলাই ২০১৯/রেজা/শাহনেওয়াজ


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

টাইমের পারসন অব দ্য ইয়ার থানবার্গ

২০১৯-১২-১১ ৮:৪৪:৩৭ পিএম