ক্লাবগুলোতে জুয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলাম

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২৮ ৮:২৪:৩১ এএম
আসাদ আল মাহমুদ | রাইজিংবিডি.কম

নিজ কার্যালয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন (ছবি : শাহীন ভূঁইয়া)

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের মেয়াদ ইতোমধ্যেই চার বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল নির্বাচনে জয়লাভের পর ৬ মে শপথ নেন তিনি।  মেয়র নির্বাচনের আগে ও পরে নগরবাসীকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।  এসব বিষয় নিয়ে তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডির মুখোমুখি হন।  এই সাক্ষাৎকার তিন পর্বে প্রকাশিত হচ্ছে এবং এটি তৃতীয় ও শেষ পর্ব।  সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাইজিংবিডির নিজস্ব প্রতিবেদক আসাদ আল মাহমুদ।

রাইজিংবিডি: নগরীতে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।  এই সমস্যা সমাধানে আপনার পরিকল্পনা কি?

সাঈদ খোকন : জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার।  তারপরও কাজ করছি।  অনেক উন্নত ড্রেন নির্মাণ করেছি।  বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়েছেন শান্তিনগর ও নাজিমউদ্দিন রোডের অধিবাসীরা।  নগরীর অন্যান্য এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৯শ’ ৬০ কিলোমিটার সারফেস ড্রেন ও নর্দমা পরিস্কার করা হয়েছে, নতুন ড্রেন ও ফুটপাথ নির্মাণ করা হয়েছে। শান্তিনগর, নাজিমউদ্দিন রোড, গণকটুলী এবং বংশাল এলাকায় প্রায় চার যুগের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন করতে সক্ষম হয়েছি।  এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪শ’ ৯৭ কিলোমিটার নর্দমা এবং ৫শ’ ৩৭ কিলোমিটার পাইপ ড্রেনের আবর্জনা অপসারণ করা হয়েছে।

রাইজিংবিডি : বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নকর্মী ও অন্যান্য বিষয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

সাঈদ খোকন : দয়াগঞ্জে আধুনিক পরিচ্ছন্নকর্মী নিবাস চালু, ধলপুর, লালবাগ ও গণকটুলিতে ছয়তলা বিশিষ্ট ৬টি নিবাস নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে।  বাকীগুলোর কাজও চলমান রয়েছে।  পুরো প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯০ কোটি টাকা।  মোট ১৩টি ভবনের মধ্যে দয়াগঞ্জে ৫টি ভবনে ৪৪৩টি ফ্ল্যাট, ধলপুরে ৫টি ভবনের ৪৮০টি ফ্ল্যাট এবং সূত্রাপুরে ৩টি ভবনে ২২৮টি ফ্ল্যাট থাকছে।  প্রতিটি ফ্ল্যাটের আকার ৪৭২ বর্গফুট।  প্রতি ফ্ল্যাটে রয়েছে দুটি করে শোবার ঘর, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট ও দুটি ছোট বারান্দা। ভবনের সম্পূর্ণ ফ্লোর টাইলস করা।  প্রতিটি ভবনে লিফট এবং সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের জন্য জেনারেটর, সাবস্টেশন ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে।  একটি স্টোর রুম ও একটি কমিউনিটি হল রয়েছে।  তাছাড়া ৭২৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণসহ ভূমি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।  পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বর্জ্য হতে জৈব সার তৈরির একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

রাইজিংবিডি : বর্তমানে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব।  এর বাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রনে কি পদক্ষেপ নিয়েছেন?

সাঈদ খোকন : ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এগুলো মোকাবিলার জন্য নগর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে।  ১ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড-মহল্লায় মশক নিধনে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চলেছে।  প্রতিটি ওয়ার্ডে আমাদের মশক নিধনকর্মীরা এ সময় একযোগে কাজ করেছেন।  এছাড়া ১৫ জুলাই থেকে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা পক্ষ শুরু হবে।  এ সময় প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য সেবার জন্য সর্বমোট ৪৫০টি মোবাইল টিম কাজ করবে। বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা পক্ষ চলাকালে নগরবাসীকে তারা বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে।
 


এছাড়া মশা নিধনে সিটি করপোরেশনের নিয়োজিত কর্মীদের তদারকী ও ভূমিকা রাখতে অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ওয়ার্ড ভিত্তিক অর্থাৎ প্রতিটি ওয়ার্ডে আয়তন এবং জনসংখ্যার অনুপাতে চার-পাঁচটি এলাকায় সাত জন করে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে।  এদের মধ্যে রয়েছেন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা নেতা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।  যদি কোন সংশ্লিষ্ট এলাকায় নাগরিক ভোগান্তি বা সমস্যা থাকে তা সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করে তা লাঘব করাই হবে অ্যাম্বাসেডরদের কাজ।  আর মশা নিধনসহ নানা কাজে সিটি করপোরেশনের যে সব কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন, তারা সে কাজ করবেন।

রাইজিংবিডি : ক্লাব মালিকদের প্রতি জুয়া বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন কি?

সাঈদ খোকন: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় জুয়া বন্ধের জন্য আমি ক্লাব মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলাম।  পবিত্র রমজান মাসে মদ জুয়া ও অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্য আমি ক্লাবগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলাম।  এ বিষয়ে প্রচারণা চালিয়েছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি।  এবার কাজ হচ্ছে।

ক্যাসিনো বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চলমান শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে।  দেশবাসী এ অভিযানকে সমর্থন জানিয়েছেন।  এ অভিযানের সফল পরিসমাপ্তি ঘটবে বলে আমি আশা করি।

রাইজিংবিডি : সফলতা-ব্যার্থতার বিচারে মেয়র হিসেবে আপনার মূল্যায়ন কি?

সাঈদ খোকন : মেয়র হিসেবে আমার মূল্যায়ন করবেন নগরবাসী।  আমি কতটুকু সফল বা ব্যর্থ তা তারাই বলবেন।  তবে এতদিনে নগরে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পেরেছি আমরা।  আমি শুধু এটুকু বলতে পারি যে, কোথাও কোথাও অনেক সফলতা পেয়েছি। আবার কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে সফলতা আসেনি।  তবে তার জন্য হাত গুটিয়ে বসে থাকিনি, থাকব না।  তবে আমাদের অক্লান্ত ও আন্তরিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি নাগরিকরা সচেতন হলেই এ শহরকে একটি আধুনিক পরিচ্ছন্ন বাসযোগ্য সবুজ সুন্দর ও স্মার্ট নগরীতে রূপান্তর করতে পারব বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। সেজন্য নগরবাসীর দোয়া চাই, ভালোবাসা চাই। আপনারা আমার সাথে থাকুন, পাশে থাকুন। সফলতার শিখরে পৌঁছবই ইনশাল্লাহ।

রাইজিংবিডি: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

সাঈদ খোকন : আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।  রাইজিংবিডির জন্য শুভকামনা ও এর পাঠকদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা।

আগের দুটি পর্ব :

** ঢাকা দক্ষিণে নজর রেখেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী

** উন্নয়নের স্রোতধারায় ঢাকা আজ বদলে যাওয়া নগরী



ঢাকা/আসাদ/শাহনেওয়াজ


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

তাজুল ইসলাম-রোশান আরা সাক্ষাৎ

২০১৯-১২-১১ ৮:০১:৩৮ পিএম

মন্ত্রীদের কথার ঠিক নেই : আলাল

২০১৯-১২-১১ ৭:৫৪:০৫ পিএম

পুলিশ কনস্টেবলের সাক্ষ্য

২০১৯-১২-১১ ৭:৪৩:০৯ পিএম

আরো এক মামলায় আগাম জামিন দুদুর

২০১৯-১২-১১ ৭:০৫:৩৬ পিএম