প্রতিযোগিতা যেন প্রতিহংসায় রূপ না নেয়: মোজাম্মেল হক

প্রকাশ: ২০১৯-১২-১৯ ৫:৪৪:২৮ পিএম
এসকে রেজা পারভেজ | রাইজিংবিডি.কম

বিএম মোজাম্মেল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক, আওয়ামী লীগ (ছবি: রাইজিংবিডি)

আওয়ামী লীগের আগামী সম্মেলনে নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের প্রতিযোগিতা কোনোভাবেই যেন প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেছেন, ‘দলের নেতৃত্বের প্রয়োজনে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সেটা যেন কখনোই প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়। প্রতিহিংসায় রূপ নিলে তা আত্মঘাতীমূলক হয়। সুতরাং দলের তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্ব্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত এই এই জায়গাটা ঠিক রাখতে হবে।’

সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজের বাসভবনে রাইজিংবিডিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সম্মেলনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে এ কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাইজিংবিডির প্রধান প্রতিবেদক এসকে রেজা পারভেজ

রাইজিংবিডি: শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে দলের এবারের সম্মেলন ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা আছে। কেমন নেতৃত্ব আসছে আগামী সম্মেলনে তা নিয়েই আগ্রহ। আগামী সম্মেলনে পদায়ন হবে কিসের ভিত্তিতে হবে?  

বিএম মোজাম্মেল হক: আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী নয়, বিভিন্ন সেক্টরে দুর্নীতিবাজরা রয়েছেন। কিন্তু উনি উনার দলের মধ্যে থেকে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। এটি অব্যাহত থাকবে। এরপর বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিচালিত হবে।

ইতিমধ্যে নেত্রী একটি তালিকাও করেছেন। কার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে সেই তালিকা আমাদের দিয়েছেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। আমি যতটুকু প্রত্যক্ষ করেছি, অপেক্ষাকৃত সৎ, পরিশ্রমী, ত্যাগীদের নেতৃত্বে বসিয়েছেন। আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে যা যা করা দরকার সেগুলো তিনি করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সমাজের সকল ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন প্রয়োজন সেটি করার জন্য সৎ, পরিচ্ছন্ন, নিষ্ঠাবান, দেশপ্রেমিক, অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষের দরকার।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া রাজনৈতিক দলের যে লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা দরকার, উনি সেটি করবেন। কারণ কোনো ধরনের দুর্নীতিবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয় পেলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ধাক্কা খায়। যদি সেখানে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক, সৎ ও নির্লোভ জনপ্রতিনিধি থাকে তাহলে সেটা করা সম্ভব হয় না।

রাইজিংবিডি: জাতীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূলে সম্মেলনের দায়িত্ব পালন করেছেন। তৃণমূলে প্রত্যাশার কথা শুনেছেন। আগামীর আওয়ামী লীগকে তারা কীভাবে দেখতে চায়?

বিএম মোজাম্মেল হক : তৃণমূল চায় যারা সৎ, পরিশ্রমী, নেতা-কর্মীদের দুঃখ কষ্টে পাশে থাকে, তাদের কথা মনযোগ দিয়ে শোনে, বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আন্তরিক থাকে; এই ধরনের নেতৃত্বই তৃণমূল কাউন্ট করে।

রাজনীতিটা যাতে একটা সুষ্ঠু গতিধারায় পরিচালিত হয়, প্রকৃত পরীক্ষিতকর্মী বাহিনী তারা যাতে মূল্যয়িত হয় তৃণমূল এমনটিই চায়।

রাইজিংবিডি: দলের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা সৃষ্টি করার জন্য দল ও সরকার পৃথক করার কথা শোনা যাচ্ছে।  এবারের সম্মেলনে কিছুটা হলেও এই প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে বলে মনে করেন কী?

বিএম মোজাম্মেল হক: একটি মন্ত্রণালয় যদি সঠিকভাবে পরিচালনা করা হয়, তারপরে দলের হয়ে কাজ করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। একজন জনপ্রতিনিধি যখন কোনো জায়গায় যান তখন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়, সভা থাকে। এরপর বাড়তি সময়টা যদি সম্ভব হয় কেউ সময় দেন, কেউ দেনও না। দলের সঙ্গে যোগাযোগই করেন না। যদি দলের কাছে জবাবদিহিতা থাকে, তাহলে সেটি ভালো হয়।

নেত্রী এটি করা চেষ্টা করছেন, পুরোপুরি করতে না পারলেও উনি এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আবার দলের প্রতিনিধিও তো সরকারে থাকতে হবে। এটাকে সংযোগ করার জন্য। উনার অভিজ্ঞতার আলোকে এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী একটি সঠিক, বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

দল ও সরকার পৃথক করার বিষয়ে নেত্রী বিভিন্ন সময়ে বলেছেন। এতে দলের কাছে যেন সরকারের জবাবদিহিতা থাকে এবং জনগণের কাছেও যেন জবাবদিহিতা থাকে।

রাইজিংবিডি: আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। তিনি অবসর চাইলেও নেতা-কর্মীরা তাকে ছাড়বে না। দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন তা নিয়ে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে নেতা-কর্মীরা। আপনার নামও আলোচনায় আছে? বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

বিএম মোজাম্মেল হক: মাননীয় নেত্রী আমাদের কয়েকদিন আগেও বলেছেন তোমরা সভাপতি খোঁজো। আমরা বলেছি, আমরা তো সভাপতি খুঁজে পেয়েছি, সম্মেলনের সময় বলে দেবো। তার মানে শেখ হাসিনার বিকল্প সভাপতি আওয়ামী লীগে নেই। উনি সভাপতি হবেন।

সাধারণ সম্পাদক কে হবেন এটার দায়িত্ব আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার ওপর। উনি সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক, উনিই নেবেন। আমি রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমাদের দলীয় প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে যে দায়িত্ব দেবেন আমি সেটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেবো। আমাকে যেখানে যে জায়গায় দেয়া হোক। সাধারণ সম্পাদক হওয়াটা আমার মূল লক্ষ্য না, দলটাকে ভালো, আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক, জনগণের সেবার উপযোগী রাজনৈতিক দল গড়ে তুলতে যা প্রয়োজন আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি সেসব করছি।

ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের যে দায়িত্ব আমাকে দেয়া হয়েছে আমি চেষ্টা করেছি অত্যন্ত পরিচ্ছন্নভাবে, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে। সংসদ সদস্য হিসেবে, আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত যে জায়গায় যেখানে ছিলাম আমি সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আমার যোগ্যতা, মেধা-মনন দিয়ে আমি চেষ্টা করেছি কাজ করার।

রাইজিংবিডি: শেখ হাসিনা এই বয়সে এখনো অনেক পরিশ্রমী। তিনি বারবার অবসর নেয়ার কথা বলেছেন। দলের ভবিষ্য নেতৃত্ব খুঁজতে বলেছেন। ভবিষ্য নেতৃত্বের জন্য সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে দলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটিতে সম্পৃক্ত করার দাবি আছে নেতা-কর্মীদের মধ্যে। গতবারও এই আলোচনা ছিল? বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

বিএম মোজাম্মেল হক: আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার ৭৩ বছর বয়স চলছে। আমি যেটা এখনো দেখি, আমাদের অনেক তরুণ নেতাদের চেয়েও শেখ হাসিনা অনেক বেশি অ্যাক্টিভ, অনেক বেশি কাজ করতে পারেন। সুতরাং এখনো উনি বেশি সময় দেন, উনি পরিশ্রম করতে পারেন। এবারের জন্যও উনি সভাপতি হবেন এবং উনিই ঠিক করবেন কে পরবর্তী সভাপতি, এটা দায়িত্ব উনারই। সেখানে উনি উনার মত করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

রাইজিংবিডি : সম্মেলনের আগে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় ব্লেইম গেম এবং প্রতিহিংসা কাজ করতে দেখা যায়। এবারও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে আপনার বক্তব্য কী?

বিএম মোজাম্মেল হক: ব্যক্তিগতভাবে আমাদের ভিন্ন মন মানসিকতা থাকতেই পারে। শ্রেণি চরিত্রের বৈষম্য আছে, তারপরও লক্ষ্য একটা। সেটা হলো বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমরা মানুষের কল্যাণে মানুষের জন্য কাজ করছি।

দলের নেতৃত্বের প্রয়োজনে দলে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সেটা যেন কখনোই প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়। প্রতিহিংসায় রূপ নিলে তা আত্মঘাতীমূলক হয়। সুতরাং দলের তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্ব্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত এই এই জায়গাটা ঠিক রাখতে হবে।

পরিচিতি

ছাত্রজীবনে ছাজনীতির শুরু করা বিএম মোজাম্মেল হক কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও লালবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ছাড়াও ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক ছিলেন। ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক এবং পরে ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

১৯৯২ সালে তিনি শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটি সদস্য হন। ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনের পর তাকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্য করা হয়। ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় কাউন্সিলে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হন।

২০০৯ সালের ২৪ জুলাই দলের জাতীয় সম্মেলনে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর টানা ৩য় বারের মতো দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

পড়ুন

দুর্দিনের ত্যাগীরা আশায় বুক বেঁধেছেন: আব্দুর রহমান

‘জয়-পুতুলকে কমিটিতে চান তরুণরা’

যে ক্যারিশমা দেখাবে, সেই নেতা হবে: খালিদ মাহমুদ


ঢাকা/পারভেজ/সাইফ


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

রম্যগদ্য

বন্যেরা জনপদে, মানুষ গৃহকোণে

২০২০-০৩-২৮ ১:৪১:১৬ পিএম

করোনা সচেতনতায় আসিফের গান

২০২০-০৩-২৮ ১:৩৪:০৪ পিএম

গোপালগঞ্জ শহরে জীবাণুনাশক স্প্রে

২০২০-০৩-২৮ ১:২২:৩০ পিএম

এ যেনো এক অচেনা শহর

২০২০-০৩-২৮ ১:১৫:২১ পিএম

মমতার পথে হাঁটলেন নুসরাত জাহান

২০২০-০৩-২৮ ১:১৩:৫০ পিএম