চাকরিতে বহাল দুই পুলিশ কর্মকর্তা

প্রকাশ: ২০১৯-১২-০৬ ৬:৪০:১৫ পিএম
মাকসুদুর রহমান | রাইজিংবিডি.কম

রাজধানীর পল্লবীতে পুলিশ হেফাজতে ইশতিয়াক হোসেন জনি হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত দুই এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু ও রাশেদুল হাসান এখনও চাকরিতে বহাল। আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে বিচার শুরু হলে দায়িত্বে থাকতে পারেন না কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। এএসআই রাশেদুল মিরপুর ও এএসআই মিন্টু বাড্ডা থানায় কর্মরত।

এ বিষয়ে শুক্রবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মিডিয়া সোহেল রানার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনার বিষয়ে আমি তেমন জানি না। তবে তারা সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। আদালতের আদেশে তারা কর্মরত আছেন। পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

জানা গেছে, পল্লবী থানার তৎকালীন এসআই জাহিদুর রহমান, এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু, এএসআই রাশেদুল হাসান এবং তাদের দুই সোর্স রাসেল ও সুমনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে। চলছে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণও। এসআই জাহিদ কারাগারে থাকলেও এএসআই রাশেদুল মিরপুর আর মিন্টু বাড্ডা থানায় কমর্রত আছেন।

রাশেদুল হাসান বলেন, ‘বেশকিছু দিন বহিষ্কার ছিলাম। কিন্তু হাইকোর্টে রিট করার পর সেখান থেকে অনুমতি নিয়ে আবার চাকরি করছি। গেল বছর মামলাটিতে উচ্চ আদালত স্থগিতাদেশও দেয়।’

কামরুজ্জামান মিন্টু বলেন, ‘উচ্চ আদালত স্থগিতদেশ দিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেক্ষেত্রে আমাদের চাকরি করতে আইনগত বাধাও নেই।’

শুক্রবার কথা হয় মামলার বাদি ও নিহতের ভাই মোহাম্মদ রকির সঙ্গে। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘তারা যদি চাকরি করে তাহলে তো মামলার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। মামলা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে। হুমকি ধামকিও অব্যাহত আছে। পুলিশের ওপর মহলে লিখিতভাবে জানালেও প্রতিকার মিলছে না।’

মামলার নথিঘেঁটে দেখা গেছে, ২০১৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ১১ নম্বর সেক্টরে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে পুলিশের সোর্স সুমন মেয়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে। এ সময় জনি ও তার ভাই সুমনকে চলে যেতে বলেন। সুমন চলে গেলেও পরদিন এসে আবার আগের মতো আচরণ করতে থাকে। তখন জনি ও তার ভাই তাকে চলে যেতে বললে সুমন পুলিশকে ফোন করে তাদের ধরিয়ে দেয়। পরে তাদের থানায় নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনে জনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আরও খারাপ হলে জনির মা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওই বছরের ৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে জনির ছোট ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি পল্লবী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ঢাকা মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন ৫ জনকে অভিযুক্ত এবং ৫ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

আইনজ্ঞরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তা যদি ফৌজদারি মামলার আসামি হন এবং ওই মামলায় যদি সে জেল হাজতে প্রেরিত হয় বা পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হন, তাহলে বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের ৭৩ এর দুই নম্বর নোট অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে হবে। তার চাকরিতে বহাল থাকার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে বিচার শুরু হলে দায়িত্বে থাকতে পারেন না।


ঢাকা/মাকসুদ/সাইফ


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

মায়ের ইচ্ছে পূরণ করলেন কার্তিক

২০২০-০১-১৮ ৫:১৩:২৬ পিএম

ভাজ্জির রেকর্ড ভাঙলেন কুলদীপ

২০২০-০১-১৮ ৫:১২:০১ পিএম

গায়ক, নায়কের পর এবার লেখক আসিফ

২০২০-০১-১৮ ৫:০৯:৩৩ পিএম

যুবককে থানায় আটকে জমি দখল

২০২০-০১-১৮ ৪:৫৯:১৩ পিএম

‘আপনারা এখনও কিছু দেখেননি’

২০২০-০১-১৮ ৪:১৯:৫৮ পিএম