১৩০ ভরি সোনা ছিনতাইয়ের পরই ১৩ ভাগ!

প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৪ ১১:৪৮:০৮ এএম
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | রাইজিংবিডি.কম

রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনে ১৩০ ভরি সোনা ছিনতাইয়ের ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ডিবি পরিচয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে কমলাপুর স্টেশন থেকে ছিনতাইয়ের পর সোনাগুলো ১৩ ভাগে ভাগ হয়ে যায়। গোয়েন্দা পুলিশ টানা তিনদিনের অভিযানে এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং লুন্ঠিত সোনার ৫ ভাগ মাত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

সোমবার (২৩ মার্চ) পর্যন্ত বাকি সোনা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। গত ১৯ মার্চ কমলাপুর স্টেশনে এ  ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

ডিবি (সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন) বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম প্রিভেনশন টিমের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে একটি দল টানা তিনদিন ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এই ছিনতাইয়ে সংশ্লিষ্ট চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে ৩৫ ভরি সোনা,  ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা এবং ১টি ছিনতাইকৃত মোবাইল উদ্ধার করে। তবে এখনও উদ্ধার হয়নি ৯৫ ভরি সোনা ।

পুলিশ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, ‘আসামিদের মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা গেলেও এখনো কয়েকজনকে বাকি আছে। আসামিরা ছিনতাই হওয়া মালামালগুলো ১৩টি ভাগে ভাগ করেছিল। তাদের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে মোট পাঁচ ভাগ উদ্ধার করেছি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারলে বাকি সোনাও উদ্ধার করা সম্ভব হবে।’

গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পেরেছে, ১০/১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র ছিনতাইয়ের কাজ করে। তারা মূলত তিনটি দলে বিভক্ত। প্রথম দল তাঁতি বাজার থেকে কে কখন সোনা কিনে কোথায় যাবে- এর তথ্য সংগ্র্রহ করে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দলের কাছে তথ্য সরবরাহ করে। তথ্য প্রাপ্তির পর দ্বিতীয় দল কারা টার্গেটের কাছ থেকে মাল ছিনিয়ে নিবে তা ঠিক করে। এভাবে তিন দলের সমন্বয়ে পরিকল্পিতভাবে তারা এ ধরনের ডাকাতি বা ছিনতাই সংঘটিত করে থাকে। মিশন সফলের পর সবাই একত্রিত হয়ে হোটেলের রুম ভাড়া নিয়ে লুণ্ঠিত মালামাল বণ্টন করে।

এসব তথ্য  দিয়েছে গ্রেপ্তারকৃত মো. মোছলেম; আছীব চৌধুরী ওরফে ফিরোজ, মো. জাফর ইকবাল এবং মো. মাসুম হাসান ।

১৯ মার্চ বিকাল সাড়ে তিনটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সোনা ব্যবসায়ী সুজন বণিকের ভাই প্রীতম বণিক ও সুমন চৌধুরী ব্যবসায়িক প্রয়োজনে রাজধানীর তাঁতি বাজার থেকে ১৩০ ভরি সোনা কেনেন। এরপর ট্রেনযোগে ব্র্রাহ্মণবাড়িয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছে খাওয়ার জন্য একটি ফাস্টফুডের দোকানে ঢোকে। এ সময় তিন-চারজন ফাস্টফুডের দোকানে ঢুকে ডিবির লোক পরিচয়ে প্রীতম বণিক ও সুমন চৌধুরীকে তাদের কাছে থাকা ব্যাগটি দিতে বলে। কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা ব্যাগ ভর্তি থাকা ১৩০ ভরি সোনা নগদ ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও তাদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। । এসময় প্রীতম বণিক ও সুমন চৌধুরীর সন্দেহ হয় তারা ছিনতাইকারী। তাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজনের সহায়তায় ইমন ওরফে লাক মিয়া (২৮) নামে এক ছিনতাইকারীকে আটক করে ফেলে । পরে এ ঘটনায় কমলাপুর রেলওয়ে থানায় ১৭০/৩৯২/৩৪ ধারায় মামলা করে পুলিশ। রেলওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরে বিষয়টি তদন্ত করতে ডিবির সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগকে দায়িত্ব দেয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সোনা ব্যবসায়ী সুজন বণিক বলেন, ‘ছিনতাই হওয়া গহনার মধ্যে কিছু উদ্ধার হলেও এখনো ৯৫ ভরি সোনা ও ছিনতাই হওয়া নগদ টাকাগুলোর বেশির ভাগই উদ্ধার না হওয়ায় হতাশ আমি। কারণ আমার ব্যবসার পুজিঁই ছিলো এগুলো।’


ঢাকা/মাকসুদ/টিপু


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

মৃত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করলো চীন

২০২০-০৪-০৪ ১০:৩৪:৪৯ এএম

করোনায় তুরস্কে আরো কড়া বিধিনিষেধ

২০২০-০৪-০৪ ১০:৩২:০২ এএম

সাবার শুটিংয়ের স্মৃতি রোমন্থন

২০২০-০৪-০৪ ১০:০১:০২ এএম

বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে

২০২০-০৪-০৪ ৯:৫২:৩৮ এএম

আপনি জানেন কি?

২০২০-০৪-০৪ ৯:৩৫:০৫ এএম