বন্ধুত্ব যেভাবে জীবন বদলে দেয়

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-০৪ ৯:৫৩:৩৯ এএম
ফারজিব সালমান | রাইজিংবিডি.কম

প্রতীকী ছবি

ফার্জিব সালমান : বিজ্ঞানের মতে, বন্ধুরা আমাদের আরো সুখী, স্বাস্থ্যবান এবং হ্যাঁ, আরো সুন্দর করতে পারে।

* স্বাস্থ্যকর করে তোলে

চ্যাপেল হিল নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী ক্লেয়ার ইয়াং একটি গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন, যারা সামাজিকভাবে বিছিন্ন ছিল তাদের তুলনায় যারা ঘনিষ্ঠ সামাজিক সম্পর্কে যুক্ত ছিল তাদের রক্তচাপ, শরীরের ভর সূচক, কোমরের পরিধি এবং প্রদাহ চিহ্নিতকারী সি-বিক্রিয়া প্রোটিনের মাত্রা কম ছিল।

* ট্রমা মোকাবেলায় সহায়তা করে

জীবন যখন পরিকল্পনা অনুসারে চলে না, তখন আমাদের বন্ধুরা সেখানে আমাদের পরিকল্পিত হতে সহায়তা করে। ২০১১ সালে চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ওপর একটি গবেষণা করা হয়েছিল এবং এটিতে দেখা গেছে, বন্ধুদের উপস্থিতি বাচ্চাদের অন্যান্য সমবয়সিদের প্রত্যাখ্যান সহ্য করতে সহায়তা করেছিল। আপনার বন্ধুরা সম্ভবত আপনার সমস্ত চাপকে দূরে সরাতে পারবেনা কিন্তু তারা অবশ্যই চাপকে অনেকাংশে কমাবে এবং আপনাকে পরবর্তীতে সমর্থন দিয়ে যাবে।

* পাহাড়কে কম খাড়া মনে হয়

অর্থাৎ বন্ধুরা থাকলে দুর্গম পথকে সহজ মনে হয়৷ এবং এটি কেবল রূপক অর্থে নয়। সামাজিক মনোবিজ্ঞান জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা অনুমান করেছিলেন যে, একা যখন পাহাড়ে চড়ত তখন পাহাড়কে বেশি খাড়া মনে হতো কিন্তু যখন সঙ্গে বন্ধুরা ছিল পাহাড়কে তুলনামূলক কম খাড়া মনে হতো।

* আকর্ষণীয় করে তোলে

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছোট্ট সমীক্ষায় দেখা গেছে, চিয়ারলিডার্স এফেক্ট ধারণাটি হয়তো সত্য। ধারণাটি হচ্ছে- কোনো একজন ব্যক্তিকে একা যতটা আকর্ষণীয় দেখায়, বন্ধুদের সঙ্গে তার চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় দেখায়।

* ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করতে সহায়তা করে

২০০৫ সালে ক্যানসার জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, যাদের কম বন্ধু ছিল তাদের তুলনায় যাদের বেশি বন্ধুবান্ধব ছিল, এমন ডিম্বাশয় ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের রক্তে গড়ে ৭০ শতাংশ কম ইন্টারলিউকিন-৬ ছিল। এই প্রোটিন রক্তে কম থাকলে কেমোথেরাপির কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।

* নিঃসঙ্গতা স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ

ব্রিংহাম ইয়ং ইউনিভার্সিটির গবেষক হোল্ট-লুনস্টাড কয়েক বছর আগে পিএলওএস মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রের জন্য সামাজিক সম্পর্ক এবং মৃত্যুর প্রায় ১৫০টি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করেছিলেন। তখন তিনি একটি চমকপ্রদ পরিসংখ্যান উন্মোচন করেছিলেন: বন্ধুহীন থাকা ধূমপানের মতো খারাপ। নিঃসঙ্গতা আমাদের জিনের অভ্যন্তরীণ মৌলিক কার্যকলাপকে কমিয়ে দেয়। ফলে আয়ু কমে যায়।

* ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা একই ডিএনএর অধিকারী হয়

সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কাছের বন্ধুদের ডিএনএর প্রায় এক শতাংশ একই ধরনের হয়। এটি তাদেরকে জেনেটিকভাবে চতুর্থ কাজিনের মতো কাছের করে তোলে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রায় ২ হাজার লোকের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন এবং দেখেছেন যে, বন্ধুদের মাঝে যে ‘রসায়ন’ থাকে তা ডিএনএর মিল থাকার কারণে হতে পারে। এটি বন্ধুত্বের বিবর্তন ব্যাখ্যা করতে সহায়তা করতে পারে।

* শিশুরা বন্ধুত্ব বোঝে

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪ সালের গবেষণায় বলা হয়েছে, আমাদের কল্যাণের জন্য বন্ধুত্ব অনেক প্রয়োজনীয়। এমনকি ছোট বাচ্চারা হাঁটতে বা কথা বলতে শেখার আগে সামাজিক সম্পর্কগুলো বুঝতে পারে। গবেষক দলটি ৯ মাস বয়সি ৬৪ জন শিশুকে দুটি ভিডিও দেখিয়েছিল।  একটিতে দুজন লোক একটি খাবার খেয়েছিল এবং প্রত্যেকে ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। অন্যটিতে, একই দুই ব্যক্তি একে অপরকে শুভেচ্ছা জানায়। যখন প্রতিক্রিয়াগুলো মেলে না- উভয় ব্যক্তির খাবারের ক্ষেত্রে একই প্রতিক্রিয়া ছিল, তবে একে অপরকে শীতলভাবে শুভেচ্ছা জানায়-শিশুরা দীর্ঘক্ষণ পর্দায় তাকিয়ে রইল, এটি এমন একটি চিহ্ন যা শিশুদের কাছে জিনিসগুলো একেবারেই ঠিক মনে হয়নি। গবেষণাটির সহ-লেখক আমান্ডা উডওয়ার্ড বলেন, ‘শিশুরা অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপচারিতা দেখতে এবং তারপরে এই দুটি লোকের মধ্যে বন্ধুত্ব রয়েছে কিনা তা আন্দাজ করতে সক্ষম হয়।’

* রক্তচাপকে কমাতে পারে

দীর্ঘস্থায়ীভাবে উচ্চ রক্তচাপ সম্পন্ন ব্যক্তি হওয়া আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষে কখনই ভালো নয়। তবে আপনার বন্ধুরা এটি কমাতে সহায়তা করতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, একাকীত্বের অনুভূতি এবং উচ্চ রক্তচাপের মধ্যে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং আপনি যদি এমন লোকদের সঙ্গে নিজেকে ঘিরে থাকেন যারা আপনাকে ভালোবাসে এবং সমর্থন করে তবে আপনার উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

* লক্ষ্যে অটুট থাকতে সহায়তা করে

আপনি যদি কোনো অভ্যাসকে বাদ দিতে চেষ্টা করেন অথবা একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি করতে চান, তখন যদি আপনার সঙ্গে আপনার বন্ধু থাকে তাহলে আপনি এটি আরো সহজে করতে পারবেন। জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ‘যখন আপনি একা কোনো কাজ করেন এর চাইতে যখন আপনার কাজের অংশীদার হিসেবে আপনার বন্ধু থাকে তখন লক্ষ্যপূরণ ২০ শতাংশ বেশি বেড়ে যায়।’ যখন আপনার আরো স্ব-নিয়ন্ত্রণ থাকে, আপনি নিজের বন্ধুকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারেন। এগুলো আপনাকে আরো ভালো বোধ করতে সাহায্য করতে পারে।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

পড়ুন : *  বন্ধু হতে কত সময় লাগে?

         * প্রকৃত বন্ধু বোঝার সাত উপায়

         * কেমন করে এলো বন্ধু দিবস

         * বন্ধুত্বে আয়ু বাড়ে!


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৪ আগস্ট ২০১৯/ফিরোজ

     


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

সবজির ঝুড়িতে ইয়াবা, আটক ২

২০১৯-০৮-২০ ৯:৫৩:০৮ পিএম

প্রথম ম্যাচে হারল নারী হকি দল

২০১৯-০৮-২০ ৯:১৪:০৭ পিএম

ইতালির প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

২০১৯-০৮-২০ ৮:৫০:০৮ পিএম